Friday, September 22, 2023
spot_img
Homeজাতীয়ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম ও সুব্রত চৌধুরীর নেতৃত্বে আইনজীবীদের নতুন মোর্চা

ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম ও সুব্রত চৌধুরীর নেতৃত্বে আইনজীবীদের নতুন মোর্চা

২০২৩ সাল। সুপ্রিম কোর্ট বারের রাজনীতি এখন তুঙ্গে। একের পর এক আলোচনা, বহুল ঘটনা ঘটছে।  নানা ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্ট বার এখন দেশব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গত ১৫ ও ১৬ই মার্চ বারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুলিশ-আইনজীবীর সংঘর্ষের মধ্যদিয়ে শুরু হয় দেশব্যাপী আলোচনা। আদালত প্রাঙ্গণে এখন আলোচনার বিষয়বস্তু হচ্ছে আইনজীবী মোর্চা গঠন নিয়ে। দুটি নাম সিলেক্ট করা হয়েছে। একটি ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী মোর্চা। অপরটি হচ্ছে আইনজীবী সংগ্রাম পরিষদ। আর এর নেতৃত্বে থাকছে সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার এম আমীর- উল-ইসলাম, সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, এডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

বিজ্ঞাপন

https://f994881482d98afaaf027579ab8ab068.safeframe.googlesyndication.com/safeframe/1-0-40/html/container.html?n=1সব ঠিকঠাক থাকলে কাল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটবে বলে এই মোর্চার নেপথ্যে থাকা এডহক কমিটির সদস্য সচিব এডভোকেট শাহ আহমেদ বাদল জানিয়েছেন। তিনি ছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মোর্চা গঠনের নেপথ্যের আরও বেশ কয়েকজন কারিগর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 এই মোর্চায় বিএনপি সমর্থক বয়োজ্যেষ্ঠদের রাখা হচ্ছে না বলে বিভিন্ন সূত্র জানায়। তবে আন্দোলন জমাতে পারে বিএনপি সমর্থক  এমন নেতাদেরকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। গত দেড়, দু’মাস ধরে মোর্চা গঠনের নানা আলোচনা হয়। সম্প্রতি এই সংগঠন গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে আলোচনা করে আত্মপ্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়। দুটি নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। একটি ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী মোর্চা ও আইনজীবী সংগ্রাম পরিষদ।

যে কারণে এই মোর্চা গঠনের পথ তৈরি হয়: গত ১৫ ও ১৬ই মার্চ বারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টে পুলিশি হামলায় আইনজীবী ও সাংবাদিক আহত হন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০শে মার্চ সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম সদস্য ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার এম আমীর-উল-ইসলামের সভাপতিত্বে এক তলবি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভা থেকে নতুন নির্বাচনের জন্য সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট মহসিন রশিদকে আহ্বায়ক এবং এডভোকেট শাহ আহমেদ বাদলকে সদস্য সচিব করে এডহক কমিটি গঠন করা হয়। আগামী ১৫ ও ১৬ই জুন বারের নতুন নির্বাচনের জন্য তারিখ ঘোষণা দিয়ে দ্বিতীয় দফা আলোচনার জন্ম দেয়। পবিত্র রমজান মাসে সুপ্রিম কোর্ট বারের পক্ষ থেকে ইফতার মাহফিলের তারিখ ঘোষণা করা হয়।

 এডহক কমিটিও একই দিনে ইফতার মাহফিলের ঘোষণা দেয়। বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা আগে থেকে ইফতার বর্জনের ঘোষণা দেয়। যে কথা সেই কাজ। ইফতারের দিন আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল করে। এডহক কমিটির লোকজন হলরুমে তাদের ব্যানার টাঙাতে গেলে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা বাধার মুখে পড়ে। এ সময় তাদের সঙ্গে যোগ দেয় হলরুমের বারান্দা দিয়ে মিছিল নিয়ে যাওয়া বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা।

 হলরুমে দু’পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। হঠাৎ করে একদল আইনজীবী দুই হলরুমের সাজানো চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর চালায়। দুই দলই ভাঙচুরের ঘটনায় একে অপরকে দায়ী করে। সন্ধ্যায় যখন সাবেক বিচারপতি শামছুদ্দিন চৌধুরী মানিক ইফতারে অংশ নিতে বারের নিচতলা হয়ে দোতলায় আসতে গিয়ে হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলাও হয়। এরপর কয়েকদিন আন্দোলন ঝিমিয়ে পড়ে। হঠাৎ করে চলতি মাসেই দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদকের কক্ষ ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। আওয়ামী লীগপন্থিরা  বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা একে অপরকে দায়ী করে। এ ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট বারের এক কর্মকর্তা বাদী হয়ে বিএনপি, এডহক কমিটির ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। ঘটনা নাটকীয় মোড় নেয়। 

২৫ জনের জামিন আবেদনের শুনানি করেন আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবী হিসেবে পরিচিত ব্যারিস্টার এম আমীর-উল-ইসলাম। শুধু তাই নয়, গত ২১শে মে আইনজীবীদের এক অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের বক্তব্য নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের নজরে আনেন ব্যারিস্টার এম আমীর। এই ঘটনায় আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা ব্যারিস্টার এম আমীরুলের প্রতি ব্যাপক নাখোশ হোন। গত কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা এক বিক্ষোভ সমাবেশ করে। সমাবেশে বারের সম্পাদক আবদুন নূর দুলাল ব্যারিস্টার আমীরকে বাতিল মাল বলে আখ্যায়িত করে মন্তব্য করেন। এ সময় বারের সম্পাদক দুলাল বলেন, আপনি বাতিল মাল, রিজেক্টেড মাল, উচ্ছিষ্ট মাল…উচ্ছিষ্ট। আমরা যেটাকে উচ্ছিষ্ট বানিয়ে দিয়েছি, বিএনপি সেটাকেই লুফে নিচ্ছে। আপনার জায়গা এখানে নেই। আর কোনোদিন আওয়ামী লীগের আঙিনায় আপনার জায়গা হবে না। এই ঘটনার পরপরই ঘোষণা এসেছে আইনজীবীদের নতুন মোর্চার। 

সূত্র জানায়, আইনজীবীদের এমন একটি মোর্চা করার জন্য এডহক কমিটি সহ বিএনপি সমর্থক নেতারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে পক্ষে-বিপক্ষে দেখা দেয় নানা মত। নানা সংশয়। প্রথম প্রস্তাবেই রাজি হননি ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম। ২১শে মে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের জামিন করার মধ্যদিয়ে এই মোর্চা গঠনের প্রক্রিয়া একধাপ এগিয়েছে বলে দাবি করেন এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা। সর্বশেষ গত ২৫শে মে ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলামকে বাতিল মাল বলে বক্তব্য দেন বারের সম্পাদক দুলাল। তার এই বক্তব্য শুনার পর ব্যারিস্টার আমীর আইনজীবীদের এই মোর্চায় সম্পৃক্ত থাকার জন্য মত দেন। গতকাল রোববার সংবাদ সম্মেলন করে মোর্চার আত্মপ্রকাশ করার কথা ছিল। কিন্তু  ব্যারিস্টার এম আমীর জরুরি একটি কাজে ব্যস্ত থাকায় তা হয়নি। তবে এ ব্যাপারে ব্যারিস্টার আমীর -উল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।   

এডহক কমিটির সদস্য সচিব এডভোকেট শাহ আহমেদ বাদল বলেন, আমরা অনেকদিন ধরেই বার ও বিচার বিভাগ রক্ষায় সম্মিলিত আইনজীবীদের একটি মোর্চা গঠন করার জন্য কাজ করছি। আমাদের এই মোর্চায় সম্পৃক্ত করতে দলনিরপেক্ষ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। এমনকি আওয়ামী লীগ পন্থি অনেক সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গেও কথা বলেছি। তারা আমাদের সঙ্গে থাকার ব্যাপারে হ্যাঁ বা না কিছু না বললেও একেবারে নিরাশ করেননি। তারা অনেকে ভাবছেন। সময় সুযোগ বুঝে এসব আওয়ামী লীগ পন্থি আইনজীবী যুক্ত হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,  আপাতত সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, এডভোকেট জয়নুল আবেদিন ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরীর নেতৃত্বে কাল মঙ্গলবার এই মোর্চার আত্মপ্রকাশ হতে পারে। 

এ ব্যাপারে কথা হয় এডভোকেট সুব্রত চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বারের নির্বাচন ছিল উৎসবমুখর। দলমত নির্বিশেষে সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে অংশ নিতো। কিন্তু গত দুটি নির্বাচন আমাদের এই ঐতিহ্য নষ্ট করে ফেলেছে আওয়ামী লীগপন্থি কিছু আইনজীবী। তারা এখন কিছু হলেই সুপ্রিম কোর্টের মতো প্রাঙ্গণে পুলিশ ডেকে আনে। আর পুলিশও তাদের কথামতো আমাদের আইনজীবী ও সাংবাদিক ভাইদেরকে হামলা করে আহত করে। ঢাকা দক্ষিণের মেয়রও সিনিয়র আইনজীবীদের সম্পর্কে যা ইচ্ছা তাই বলে কটূক্তি করে। তাই  বিচার বিভাগ ও বার রক্ষায় আমরা এই মোর্চা গঠনে ঐক্যবদ্ধ হই। মোর্চা গঠনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষে অনেকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মোর্চার কাজ শেষ পর্যায়ে। যেকোনো দিন ঘোষণা করা হবে এই সংগঠনের। 

এ প্রসঙ্গে সংবিধান সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মামুন মাহবুব-এর সঙ্গে আলাপ করলে তিনি জানান যে, আইনজীবীদের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফরম গড়বার প্রক্রিয়া অনেকদূর এগিয়েছে। তিনি আরও জানান যেকোনো রাজনৈতিক দলকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় রাখা বা নামিয়ে দেয়া অথবা কোনো দলকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা কোনোটাই এই আইনজীবী মোর্চার উদ্দেশ্য নয়।

এডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, সরকার যেই থাকুক আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সুপ্রিম কোর্ট বার সহ দেশের সকল জেলা বার সমিতিসমূহ স্বাধীন রাখা এবং আইনজীবীদের মর্যাদা রক্ষার জন্য নির্মহভাবে রাজনৈতিক মতপাথর্ক্যরে ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধভাবে আইনজীবীদের সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments