Sunday, June 16, 2024
spot_img
Homeবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবোকাফোনের প্রত্যাবর্তন

বোকাফোনের প্রত্যাবর্তন

একসময়ের জনপ্রিয় ফিচার ফোনগুলোকে ‘ডাম্বফোন’ বা ‘বোকাফোন’ বলে ডাকে ‘জেনারেশন জেড’। প্রায় বাতিলের খাতায় নাম লেখানো এই বোকাফোনগুলো ফিরছে নতুন রূপে। জানাচ্ছেন

আল সানি

যোগাযোগ, বিনোদন, ভালোবাসা—সব কিছুই এখন এক সুতায় বাঁধা পড়ে গেছে, আর তা স্মার্টফোনে। অথচ বছর বিশেক আগেও এসব কিছুর জন্য ছিল আলাদা মাধ্যম।

স্মার্টফোনের যুগে স্মার্টভাবে চলাচল করে আমরা কতটা সময় বাঁচাতে পেরেছি সেটা নিয়ে বিতর্ক থাকবেই, তবে ক্রমাগত নোটিফিকেশন, টেক্সট আপডেটের মাধ্যমে স্মার্টফোন সময় বাঁচানোর চেয়ে কেড়ে নিচ্ছে একটু বেশিই। আইফোনের কথাই ধরা যাক,  বয়স চলেছে ১৭ বছর। আইফোনের সঙ্গে সঙ্গে ১৭ বছর ধরে বেড়ে ওঠা একটি প্রজন্ম স্মার্টফোন ছাড়া দুনিয়ার আর কিছুই যেন বুঝতে চায় না। বিনোদন, খবর, নেভিগেশন, পেমেন্ট—সব কিছুতে স্মার্টফোন লাগবেই লাগবে।
ওদিকে আছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউব। লাখো কনটেন্টের ভিড়ে কমছে মনঃসংযোগ! অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে জেনারশন জেডের বেশির ভাগই অসামাজিক ও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। দাম বেশি, ক্রমাগত ব্যক্তিগত তথ্য হারানো, হ্যাকার ও সরকারের নজরদারি, অতিরিক্ত ব্যয়—সব কিছুর অত্যাচারে অতিষ্ঠ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা। আর এই কারণেই এখন অনেকেই দামি স্মার্টফোন ছেড়ে পুরনো বোকাফোনে ফিরে যাচ্ছে।
  নতুন প্রজন্মের কাছে ফিচার ফোনগুলো শুধু কথা বলা ও খুদে বার্তা পাঠানোর যন্ত্র হলেও ব্যবহারের দিক থেকে সামনে এটি নতুন ট্রেন্ডে পরিণত হবে বলে আশা করছেন গবেষকরা।সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সেমরাশ বলছে, প্রতিবছর বোকাফোন নিয়ে গুগলে সার্চের হার বাড়ছে উল্লেখযোগ্য হারে, তবে স্মার্টফোনের বিক্রির তথ্য যত দ্রুত জানা যায় বোকাফোনের ক্ষেত্রে তা একদম আলাদা। ২০২১ সালে সারা বিশ্বে প্রায় ৪০ কোটি স্মার্টফোন বিক্রি হয়, যা আগের বছরের তুলনায় ১২.৫ শতাংশ কম। স্ট্যাটিস্টা মার্কেট ইনসাইটস অনুসারে বৈশ্বিক ফিচার ফোনের বাজার ১০.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাজার বড় হলেও টেকজায়ান্টরা ফিচার ফোনের পছনে বিনিয়োগ করতে চায় না।

যেকোনো টেকপ্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে ছোট ইউনিট বরাদ্দ থাকে ফিচার ফোনের জন্য। ফিচার ফোনের হার্ডওয়্যার থেকে খুব বেশি লাভ করতে পারে না টেক ইন্ডাস্ট্রিগুলো, সে জন্য তারা চায় না মানুষ ফিচার ফোনে অভ্যস্ত হোক। এ ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম স্যামসাং। সেমিকন্ডাক্টর বিক্রি করে প্রতিবছর বিলিয়ন ডলার আয় করলেও ফিচার ফোনের ক্ষেত্রে সামান্য প্রণোদনার বরাদ্দ রাখে তারা। বড় টেক জায়ান্টরা বোকাফোনে মনোযোগ না দিলেও ফিচার ফোনের বাজার ধরতে মরিয়া হয়ে আছে বেশ কিছু স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান। ফিচার ফোনের চাহিদার কথা বিবেচনা করে নোকিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় মডেল ‘নোকিয়া ৩৩১০’ আবার বাজারে ফিরে আসে ২০১৭ সালে। গত বছর টিকটিকে #bringbackfipphones হ্যাশট্যাগ ব্যবহারের কারণে ফোনটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। তবে ‘জেন জেড’ নিয়ে এত সমালোচনা হলেও এই প্রজন্মের প্রতি পাঁচজনের তিনজনই ডিজিটালজগৎ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে চায়। ২০২১ সালের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের উপস্থিতি কমছে ক্রমান্বয়ে। সামনের দিনে এসব তরুণের হাতে স্মার্টফোনের বদলে বোকাফোন দেখলেও খুব বেশি অবাক হওয়া যাবে না।
RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments