Saturday, February 4, 2023
spot_img
Homeধর্মবেশি হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবি যাঁরা

বেশি হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবি যাঁরা

হাজারের ঊর্ধ্বে মাত্র সাতজন সাহাবি হাদিস বর্ণনা করেছেন, যথা—

১.   আবু হুরায়রা (রা.), হাদিস সংখ্যা : ৫৩৭৪।

২.   আবদুল্লাহ ইবন ওমর (রা.), হাদিস সংখ্যা : ২৬৩০।

৩.   আনাস ইবন মালিক (রা.), হাদিস সংখ্যা : ২২৮৬।

৪.   উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.), হাদিস সংখ্যা : ২২১০।

৫.   আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা.), হাদিস সংখ্যা : ১৬৬০।

৬.   জাবের ইবন আবদুল্লাহ (রা.), হাদিস সংখ্যা : ১৫৪০।

৭.   আবু সায়িদ খুদরি (রা.), হাদিস সংখ্যা : ১১৭০।

সাহাবিরা হাদিসের শুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতেন। হাদিসের শুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে তাঁরা হাদিস বলতেন না। তবু ভুল হতে পারে—এই ভয়ে হাদিস বর্ণনার সময় কেউ আঁতকে উঠতেন, কোথাও সন্দেহ হলে বিনা সংকোচে বলে দিতেন। কেউ একটি হাদিস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে বহুদূর পর্যন্ত সফর করেন, যেমন জাবের ইবন আবদুল্লাহ (রা.) একটি হাদিসের জন্য আবদুল্লাহ ইবন উনাইস (রা.)-এর কাছে শাম দেশে গিয়েছেন। (বুখারি : ১/১৭৩)

আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) একটি হাদিসের জন্য উকবাহ ইবন আমেরের কাছে মিসরে গিয়েছেন। (মুসনাদ আহমদ : ৪/১৫৩, ১৫৯)

সাহাবিরা হুবহু হাদিস বর্ণনার চেষ্টা করতেন। সাহাবিরা হ্রাস-বৃদ্ধি ছাড়া হুবহু হাদিস বর্ণনার চেষ্টা করতেন। কখনো হুবহু শব্দ বলা কঠিন হলে ভাবার্থ বলতেন। তাঁরা ভাষা জানতেন, ইসলামী শরিয়তের উদ্দেশ্য বুঝতেন এবং রাসুল (সা.)-এর প্রেক্ষাপট দেখেছেন, তাই এতে সাধারণত তাদের ভুল হতো না।

সাহাবিরা হাদিস যাচাই করতেন। বিশেষভাবে আবু বকর (রা.) এরূপ বেশি করতেন, অতঃপর তাঁর অনুসরণ করেন ওমর (রা.)। তারা কখনো বর্ণনাকারীর কাছে সাক্ষী তলব করতেন, যেমন মুগিরা ইবন শুবা (রা.) যখন বলেন নবী (সা.) নাতির পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে দাদিকে এক ষষ্ঠাংশ মিরাস প্রদান করেছেন, তখন আবু বকর (রা.) তাঁর কাছে সাক্ষী তলব করেন, আর মুহাম্মদ ইবন মাসলামাহ (রা.) তার পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৮৯৪; তিরমিজি, হাদিস : ৪১৯-৪২০)

অনুরূপ আবু মুসা আশআরি (রা.) যখন তিনবার অনুমতি প্রসঙ্গে হাদিস বলেন, ওমর (রা.) তাঁর হাদিস গ্রহণ করেননি, যতক্ষণ না আবু সায়িদ খুদরি (রা.) তার সঙ্গে সাক্ষ্য দিয়েছেন। (বুখারি, হাদিস : ৬২৪৫)

আলী (রা.) হাদিসের শুদ্ধতার জন্য কখনো বর্ণনাকারী থেকে কসম নিতেন।

সাহাবাদের হাদিস কম বর্ণনা করার উদ্দেশ্য কখনো হাদিসের পথ সংকীর্ণ কিংবা রুদ্ধ করা ছিল না; বরং তাদের উদ্দেশ্য ছিল ভুল ও মিথ্যার সুযোগ নষ্ট করা, যেন সবাই রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে কোনো হাদিস সম্পৃক্ত করার আগে সতর্ক হয়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments