Wednesday, April 17, 2024
spot_img
Homeজাতীয়বিনম্র শ্রদ্ধায় ভাষা শহীদদের স্মরণ

বিনম্র শ্রদ্ধায় ভাষা শহীদদের স্মরণ

পোশাকে শোকের কালো, প্রভাতফেরির পথে পথে কণ্ঠে কণ্ঠে সেই গান- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙালির রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল রাজপথ। ওই রক্তের দামে এসেছিল বাংলার স্বীকৃতি, আর তার সিঁড়ি বেয়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। রাষ্ট্রীয় সীমানা ছাড়িয়ে ২১শে ফেব্রুয়ারি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। গতকাল নানা কর্মসূচিতে গর্ব আর শোকের এই দিনটি পালন করছে জাতি, যার সূচনা হয় একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মধ্যদিয়ে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথমে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রেসিডেন্ট হিসেবে এবারই প্রথম একুশের বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মো. সাহাবুদ্দিন। আর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা ২১তম বার। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।  প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শহীদ মিনারে ফুল দেয়ার পর দলীয় নেতাদের নিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু। মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধান, ঢাকার বিভিন্ন মিশনের কূটনীতিকরাও ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

শ্রদ্ধা জানান ভাষাসৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার এবং মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের নেতারা। ঢাকার দুই সিটির মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও আতিকুল ইসলাম পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন শহীদ বেদিতে। সহকর্মীদের নিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রথম প্রহরে ফুল দিয়ে স্মরণ করা হয় ভাষা শহীদদের। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর্ব শেষ হলে শহীদ মিনার সবার জন্য খুলে দেয়া হয়। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও সাধারণ মানুষ শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।  সূর্যোদয়ের পর শুরু হয় ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানে শহীদ মিনার মুখে নগ্নপদে প্রভাতফেরির যাত্রা। শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণের এই পালায় স্মৃতির মিনারে নামে মানুষের ঢল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসা সর্বস্তরের মানুষে লাইন আরও দীর্ঘ হয়। ফুল আর ছোট ছোট পতাকা হাতে লাইন বেঁধে অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায় সব বয়সের, সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের সন্তানদের নিয়ে শহীদ মিনারে আসেন ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা নিবেদন অমর একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

গতকাল সকালে কালো ব্যাজ ধারণ, প্রভাতফেরির মাধ্যমে আজিমপুর কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত ভাষা শহীদদের কবরে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, এডভোকেট আফজাল হোসেন ও সুজিত রায় নন্দী, নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ওয়াসিকা আয়েশা খান, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাপা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীম, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কার্যনির্বাহী সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী, নির্মল চ্যাটার্জি, পারভীন জামান কল্পনা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও সকালে রাজধানীর নিউ মার্কেটের দক্ষিণ গেট থেকে প্রভাতফেরি শুরু করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলের নেতাকর্মীরা। এদিকে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপি’র নেতৃত্বে গড়া সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষকে সমূলে উৎপাটন করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের একমাত্র বাধা সাম্প্রদায়িকতা। বিএনপি’র নেতৃত্বে সাম্প্রদায়িকতার যে বিষবৃক্ষ ডালপালা বিস্তার করেছে, এই বিষবৃক্ষকে সমূলে উৎপাটিত করবো আমরা- এটাই আমাদের অঙ্গীকার। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি হচ্ছে স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তি। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে একুশে ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল। পরে স্বাধিকার সংগ্রামে বিভিন্ন মাইলফলক অতিক্রম করে একাত্তরের স্বত্ব জাতীয়তাবাদের দিকনির্দেশনা আসে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের মধ্যদিয়ে। আমরা প্রথমে ভাষা যোদ্ধা, অতঃপর একাত্তরে আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধা। ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর যে বাংলাদেশের বিজয় হয়েছে- সেই বাংলাদেশের উন্নয়ন সমৃদ্ধি আজকে সারাবিশ্বে বিস্ময়ের। ভাষা শহীদদের কবরে ফুলেল শ্রদ্ধা  মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের কবরে ফুলেল শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ। এ ছাড়া অনেকে কবর জিয়ারত করে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাতও কামনা করেন। গতকাল প্রথম প্রহর থেকেই রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা। ভাষা শহীদদের পরিবার, ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও অঙ্গ সংগঠন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করা হয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments