আজও উদঘাটিত হয়নি কিংবদন্তি নায়ক সালমান শাহ’র মৃত্যু-রহস্য। আজ তার মৃত্যুর ২৪ বছর পূর্ণ হচ্ছে, তবুও থেমে নেই ভক্তদের হাহাকার। সিআইডি কিংবা পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বারবার বলা হয়েছে, ‘পারিবারিক কলহের’ জেরে আত্মহত্যা করেছেন সালমান। তবে তার ভক্তরা এখনো সেসব তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়ে আজও করেছেন মানববন্ধন।
প্রিয় নায়কের অকাল মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করে এবার একাই রাস্তায় দাঁড়িয়েছেন সালমান ভক্ত মাসুদ রানা নকীব।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে রোববার সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ব্যানার, ফেস্টুন হাতে একা দাঁড়িয়ে ছিলেন নকীব। দেওয়ালে ঝুলন্ত ব্যানারে লেখা ছিল, ‘সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ পুনঃতদন্ত সাপেক্ষে চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র রহস্যজনক অকাল মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করছি।’ আর নকীবের হাতে থাকা ফেস্টুনে লেখা, ‘সালমান হত্যার বিচার চাই’। এছাড়াও দেয়ালে থাকা অন্য একটি ফেস্টুনে লেখা ছিল, ‘চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার পুনঃতদন্ত দায়িত্বভার র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‌্যাব) দেওয়া হোক।’
মাসুদ রানা নকীব জানান, প্রথমে পরিকল্পনা ছিল সব ভক্তদের জানিয়ে প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ ও দাবি উত্থাপনের। তবে করোনার কারণে এই পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে এসেছেন। তাই নিজে একাই নায়কের প্রয়াণ দিবসে দাঁড়িয়েছেন।
তিনি আরও জানান, তিনি টিম সালমান শাহ’র পক্ষ থেকে দাঁড়িয়েছে। এখানে তাদের অনেক সদস্য আছে। যদি প্রশাসন সরে যেতে বলে, তা ভেবে করোনাতে অন্য কাউকে তিনি জানাইনি।
নকীব বলেন, ‘সালমান শাহকে ঘিরে এফডিসিতে অনেক ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। মৃত্যুর কিছুদিন আগে এফডিসিতে নায়ককে দুই সপ্তাহের জন্য বয়কট করা হয়। তৎকালীন শিল্পী সমিতির সভাপতি আহমেদ শরীফ এটি করেন। নায়ককে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করতে নানা প্রেসার দেওয়া হয়। এছাড়াও তাকে বহুবার হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তার মৃত্যুর পর অনেক প্রযোজক-ব্যক্তি কোটিপতি হয়েছেন। সে সময়ে ঘটে যাওয়া এফডিসির প্রতিটি ঘটনা তদন্তের দাবি জানাই। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এছাড়া নায়কের মৃত্যুর পূর্ণ তদন্তের ভার র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নকে (র‌্যাব) দেওয়ার দাবি আমাদের।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

English