Monday, November 28, 2022
spot_img
Homeনির্বাচিত কলামবিএনপি কি তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে?

বিএনপি কি তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে?

গত ৭ মে আওয়ামী লীগের কার্যকরি সংসদের বৈঠক শেষে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বিরোধীদলগুলোর রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কোনো বাধা দেয়া হবে না। আমরা চাই, তারা তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করুক। কার্যকরি সংসদেও এ ধরনের কথা বলা হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের এমন বক্তব্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সাধুবাদ জানিয়েছিলেন। রাজনৈতিক দলগুলো আবার তাদের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাÐ চালাতে পারবে বলে আশাবাদী হয়ে উঠে। তবে ক্ষমতাসীন দলের এ কথা বলার পনের দিন পরই তার ব্যত্যয় ঘটেছে। বৃহত্তম রাজনৈতিক বিরোধীদল বিএনপি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও দলটির চেয়ারপারসনকে নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের কটূক্তির প্রতিবাদে গত ২৬ মে দেশের জেলাগুলোতে সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনকালে বেশ কয়েক জেলায় ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠনের ব্যাপক বাধার সম্মুখীন হয়। কোথাও কোথাও হামলা চালিয়ে সমাবেশ পন্ড করে দেয়া হয়। এর দুই দিন আগে ২৪ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল মিছিল সহকারে সংবাদ সম্মেলন করতে যাওয়ার পথে শহীদ মিনার এলাকায় ছাত্রলীগের বাধার সম্মুখীন হয়। দুই দলের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। তার একদিন পর ছাত্রদল আবার মিছিল সহকারে ক্যাম্পাসে যাওয়ার সময় হাইকোর্ট এলাকায় ছাত্রলীগ বাধা দেয় এবং দুই দলের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে প্রায় ৩০-৩৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়। প্রথম ঘটনার পর ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে পাহারা বসায়, যাতে ছাত্রদল ক্যাম্পাসে ঢুকতে না পারে। হামলা সম্পর্কে ছাত্রলীগ একটি কথাই বারবার বলে আসছে, সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রদলকে প্রতিহত করেছে এবং তারা তাদের সাথে সংহতি প্রকাশ করেছে। এখানে প্রশ্ন আসে, সাধারণ শিক্ষার্থীরা কেন ছাত্রদলকে প্রতিহত করতে যাবে বা ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেবে না? ছাত্রদল কি কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন? আর সাধারণ শিক্ষার্থীদের কি এমন ঠেকা পড়েছে, ক্লাস বাদ দিয়ে তারা ছাত্রদলকে প্রতিহত করতে যাবে? তারা সবাই কি ছাত্রলীগ করে কিংবা তার কর্মী? আবার ছাত্রলীগ কেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পয়েন্টে পাহারা বাসাবে? এটা কি তার কাজ? যেখানে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বিরোধীদলের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হবে না, সেখানে কেন তারা বাধা দিচ্ছে? বিএনপি’র সভা-সমাবেশেই বা কেন বাধা দেয়া হচ্ছে?

দুই.
বিরোধীদলের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা না দেয়ার ঘোষণা দিয়েও বাধা দেয়ার অর্থ হচ্ছে, ক্ষমতাসীন দল তার কথা রাখেনি। তার কথা কেবল মাত্র কথার কথা ছিল। এক্ষেত্রে দলটির পক্ষ থেকে পুরনো কথা নতুন করে বলা হতে পারে, বিরোধীদল রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে সন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও এবং ভাঙচুর করে। এ কথা গত সাড়ে ১৩ বছর ধরে ক্রমাগত বলা হচ্ছে। ২০১৪ সালের আন্দোলনের পর থেকে তা আরও বেশি বলা হচ্ছে। হামলা-মামলা, গুম-খুনের মাধ্যমে বিরোধীদলের মধ্যে ভয় ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। রাস্তায় নামতে দেয়া হয়নি। বিএনপির দাবী অনুযায়ী, দলটির ৩৫ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় রাস্তায় নামা দূরে থাক, কোর্ট-কাচারিতে হাজিরা দিতে দিতেই তাদের অবস্থা টাইট হয়ে গেছে। আবার প্রতিপক্ষের হামলা ও গ্রেফতার এড়াতে অনেক নেতা-কর্মী বাড়িছাড়া হয়ে গেছে। দলটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই দায় হয়ে পড়েছে। এমনই এক পরিস্থিতিতে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য এবং ক্ষমতাসীন দলকে খুশি করার জন্য ২০১৮ সালে নিশ্চিত পরাজয় জেনেও বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং ভরাডুবির শিকার হয়। সংসদেও যোগ দেয়। তবে একজন সচেতন মানুষও নিশ্চিত করে বলতে পারবে না, সংসদে বিএনপির কতজন সংসদ সদস্য রয়েছে। বিএনপি’র অনেক সমর্থক বলতে পারে, তাহলে বিএনপি সংসদে গেল কেন? এ প্রশ্নের উত্তর একটাই হতে পারে, ক্ষমতাসীন দলের নিপীড়ন-নির্যাতন থেকে কিছুটা রেহাই পাওয়ার জন্যই তারা সংসদে গিয়েছে। সংসদের বাইরে থাকলে কি অবস্থা হয়, তা ২০১৪ সালের পর তা দেখা গেছে। তাছাড়া, বিএনপি যে দেশের একমাত্র বৃহত্তম বিরোধীদল, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তার যে দশের নিচে আসন পাওয়ার কথা নয়, এ বিষয়টিও দেশে-বিদেশে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলে ধরার প্রয়াস রয়েছে। সংসদে গিয়েও যে দলটি মাঠের স্বাভাবিক রাজনীতি করতে পেরেছে, তা নয়। সরকারের কঠোর নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে অনুমতি নিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে কিছু কিছু সভা-সমাবেশ করে। যাকে বলে অনুমতির রাজনীতি। গণতান্ত্রিক কোনো দেশে এ ধরনের অনুমতি নির্ভর রাজনীতি দেখা যায় না। শুধু মূল ধারার রাজনীতিই নয়, ছাত্র রাজনীতিও অনুমতি নির্ভর হয়ে পড়ে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রলীগ ছাত্রদলকে বিতাড়িত করে বিশ্ববিদ্যালয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে। তারপর থেকে বিগত একযুগের বেশি সময় ছাত্রদলকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেয়নি এবং এখনও দিচ্ছে না। সর্বত্রই ক্ষমতাসীন দল এবং তার অঙ্গসংগঠনের একচেটিয়া আধিপত্য। এর মধ্যে বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন, স্বাধীনতাবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধীসহ যত ধরনের অপবাদ দেয়া যায়, তা দিয়ে দমনমূলক পন্থা অবলম্বন করা হয়। ইংরেজিতে একটি কথা আছে, ‘গিভ এ ডগ এ বেড নেইম, দ্যান বিট ইট।’ খারাপ অপবাদ দিয়ে কাউকে দমন করার এমন প্রতিহিংসামূলক পন্থা বিশ্বের কোথাও দেখা যায় না। একইভাবে বিরোধী বৃহত্তম ছাত্রদলকে সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যা দিয়ে শিক্ষাঙ্গণ থেকে বিতাড়ন করা হয়। এর মধ্যেই বিগত বছরগুলোতে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ক্যাম্পাসে নিজেদের মধ্যে এবং বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে দেখা গেছে। সাধারণ শিক্ষার্থী খুন থেকে শুরু করে টর্চার সেলে অত্যাচার, নির্যাতন এবং জোর করে মিছিলে অংশগ্রহণ করতে বাধ্য করা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, ধর্ষণ থেকে শুরু করে হেন কোনো অপারধ নেই যাতে সংগঠনটির একশ্রেণীর নেতা-কর্মী জড়ায়নি। বিনা দোষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবু বকর এবং বুয়েটের আবরারের মতো মেধাবী শিক্ষার্থীকে সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের হাতে প্রাণ দিতে হয়েছে। এমনও দেখা গেছে, ছাত্রলীগের কোনো কোনো শীর্ষ নেতা কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে। ক্যাম্পাসে দামী গাড়ি নিয়ে এসেছে। সংগঠনটি বলতে পারে, অতীতেও বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন ক্যাম্পাসে তাদের আধিপত্য ছিল। অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে বর্তমানের মতো এমন একক আধিপত্যবাদী পরিস্থিতি ছিল না। আমরা দেখেছি, সংখ্যাগরিষ্ঠ হলে ছাত্রদলের আধিপত্য থাকলেও কিছু কিছু হলে ছাত্রলীগের আধিপত্য ছিল। তাদের ক্যাম্পাসছাড়া করা হয়নি। পারস্পরিক সহাবস্থান ছিল। তাদের ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেয়নি, এমন পরিস্থিতি ছিল না। তাদের মতো ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে পাহারা বসানো হয়নি, যাতে তারা ঢুকতে না পারে। তারা মিছিল ও সভা-সমাবেশ করেছে। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যেও এমন প্রকট দলবাজি ও ক্ষমতাসীন দলের বশংবদ হতে দেখা যায়নি। যেকোনো ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ ভিসি’র সাথে তাদের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে পারত। শিক্ষকদের মধ্যে দলীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে একধরনের রাখঢাক ছিল। ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহাবস্থান সৃষ্টিতে তারাও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতেন। এখন বিশ্ববিদ্যালয় যেন এককভাবে ছাত্রলীগের। তা কিভাবে পরিচালিত হবে, সে দায়িত্ব যেন সংগঠনটির। ছাত্রলীগের উৎপাত এতটাই সীমাছাড়া হয়ে গিয়েছিল যে, এক সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বিরক্ত হয়ে সংগঠনের অভিভাকত্ব থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ থেকে বুঝতে অসুবিধা হয় না, ছাত্রলীগ কতটা দুর্বিনীত।

তিন.
অস্বীকার করার উপায় নেই, দেশে বৃহত্তম রাজনৈতিক দল এবং ক্ষমতায় যাওয়ার একক যোগ্যতা রাখে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এই দুই দলের দেশব্যাপী যেমন সাংগঠনিক ভিত্তি রয়েছে, তেমনি তাদের ব্যাপক সর্থক রয়েছে। অন্যদিকে তাদের কর্মকাÐের বিচারে জনসমর্থন হ্রাস-বৃদ্ধি পায়। ফলে দুইটি দলকে বিনাশ করে দেয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। যেমনটি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে বিগত একযুগের বেশি সময় ধরে নীপিড়ন-নির্যাতন, শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে দূরে সরিয়ে রাখার কৌশল এবং নানা অপবাদ দিয়েও বিএনপিকে ধ্বংস করতে পারেনি। আওয়ামী লীগ অসংখ্যবার বলেছে, বিএনপি’র অবস্থা হবে মুসলিম লীগের মতো। নাম-নিশানা বলে কিছু থাকবে না। তবে তা যে সম্ভব নয়, সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও বিএনপি’র টিকে থাকা তা প্রমাণ করে। এমনকি যখন আওয়ামী লীগ বিলুপ্ত করে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, তখন বাকশালের নেতারাই আওয়ামী লীগের পুর্নজন্ম দিয়েছেন। এক-এগারো সরকারও বিএনপি ও আওয়ামী লীগে বিভক্তি সৃষ্টি করে বিকল্প দল দাঁড় করাতে চেষ্টা করেছিল। তাতেও কোনো লাভ হয়নি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নিশ্চিহ্ন করার প্রক্রিয়ার মধ্যেও বিএনপি টিকে আছে এবং ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষমতাসীন দল ও প্রশাসনের বাধার মুখে দলটির রাজনৈতিক কর্মকাÐ গতি পেয়েছে। একের পর এক বিভিন্ন কর্মসূচি দেখে মনে হচ্ছে, বাধা-বিঘœ উপেক্ষা করেই সে এগিয়ে যাবে। দলটির হাইকমান্ড ইতোমধ্যে বলেছে, ছাত্রদল সরকার পতন ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত ঘরে ফিরবে না। এ থেকে একটি ইঙ্গিত পাওয়া যায়, বিএনপি বিগত একযুগের মধ্যে এ সময়ে অনেক বেশি চাঙ্গা ও আত্মবিশ্বাসী। দলটির নেতাদের বক্তব্য সরকারবিরোধী বিবৃতিতেও বেশ ঝাঁজ পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর বিপরীতে সরকারি দলের নেতৃবৃন্দের মুখে বরাবরের মতোই বিএনপি’র প্রতি হুমকিÑধমকি ও কঠোর হস্তে দমনের কথা বলা হচ্ছে। এসব বক্তব্য-বিবৃতির মধ্যে কিছুটা নার্ভাসনেসও ফুটে উঠছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করেন। তারা এ কথাও বলছেন, দলটি যেহেতু আওয়ামী লীগ, তাই প্রতিপক্ষকে কিভাবে মোকাবেলা করতে হয়, তা তার জানা আছে। অতীতের মতো শক্তিশালী অবস্থায় না থাকলেও তার যে কৌশল রয়েছে, তাতে সন্দেহ নেই। এক্ষেত্রে সেই কৌশল কি হতে পারে, বিএনপিকে তা বুঝতে হবে। কৌশল মোকাবেলা করতে না পারলে তার অস্তিত্ব আবারও হুমকির মুখে পড়বে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপিকে বুঝে-শুনে এগুতে হবে। ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে দলটির কর্মসূচিতে ক্ষমতাসীন দলের হামলা মূলত বিএনপি’র মনে ভয় ধরিয়ে দেয়ার অংশ। ক্ষমতাসীন দলের পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করার প্রবণতা এবং হামলা-মামলা, নিপীড়ন-নির্যাতন চালানোর মধ্য দিয়ে যেন বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে, বিএনপিকে আন্দোলন গড়ে তুলতে দেয়া যাবে না। এক্ষেত্রে বিএনপিকে সতর্ক হয়ে আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। শুধু আন্দোলন নয়, জনমত এবং আন্তর্জাতিক মহলের কাছে নিজের দাবী-দাওয়া গ্রহণযোগ্য করে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। তা নাহলে, শুধু আন্দোলনে সীমাবদ্ধ থাকলে এবং তার ফল না পেলে ২০১৩ সালের আন্দোলনের মতোই ব্যর্থতার গøানি নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের রোষানলে পড়তে হবে। ক্ষমতাসীন দল আগের মতো সন্ত্রাসী দল হিসেবে আখ্যায়িত করার সুযোগ পাবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, আগামী জাতীয় নির্বাচন বিএনপি ও আওয়ামী লীগের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জের। আওয়ামী লীগের জন্য কঠিন হচ্ছে, ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করা, বিএনপিকে তার অধীনে নির্বাচনে আনা এবং ক্ষমতা ধরে রাখা। অন্যদিকে বিএনপি’র জন্য সুকঠিন কাজ হচ্ছে, আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়া এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবী আদায় করা। একে তো আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়, প্রশাসনযন্ত্র তার পক্ষে, অপরদিকে সাংগঠনিক শক্তি। রাষ্ট্র ক্ষমতা এবং সাংগঠনিক শক্তিÑএই দুই শক্তির বিরুদ্ধে বিএনপিকে লড়তে হবে।

চার.
বিএনপিকে এ কথা মনে রাখতে হবে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ একটি পোড় খাওয়া রাজনৈতিক দল। বলা হয়ে থাকে, দলটি সরকার পরিচালনার চেয়ে কিভাবে আন্দোলন করতে হয়, তাতে বেশি দক্ষ। দীর্ঘ ২১ বছর দলটি ক্ষমতার বাইরে ছিল। এ সময়ের মধ্যে এরশাদের অধীনে যেমন নির্বাচনে গেছে, তেমনি সংসদ থেকে সরে এসেছে এবং এরশাদবিরোধী আন্দোলনেও শামিল হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালেও তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে এবং ২০০৭ সালে নমিনেশন পেপার জমা দিয়েও শেষ মুহূর্তে তা তুলে নিয়ে নির্বাচন বানঞ্চাল করে দিয়েছে। ফলে ওয়ান-ইলেভেন সরকার গঠিত হয়। অর্থাৎ ক্ষমতাসীন বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলে কিভাবে ক্ষমতা থেকে বিদায় করতে হয়, তার কৌশল দেখিয়েছে। ক্ষমতায় এসে সরকারে থেকে কিভাবে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমাতে হয়, তাও সে দেখাচ্ছে। যদিও এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের কৌশল প্রভাবিত হয়েছে, পার্শ্ববর্তী একটি দেশের কূটকৌশলের মাধ্যমে। আদালত থেকে শুরু করে প্রশাসনযন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কিভাবে বিরোধীদলকে দমাতে হয় তা ইতোমধ্যে দেখিয়েছে। আওয়ামী লীগের এই কৌশলের কাছে বিএনপি পরাস্ত হয়েছে। তবে দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি ক্ষমতাসীন দলের দ্বারা যেভাবে হেনস্তা ও অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, স্বাধীনতার পর আর কোনো রাজনৈতিক দল তেমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দলটি টিকে আছে। এটি দলটির অন্তর্শক্তির কারণেই সম্ভব হয়েছে। বিএনপি যদি তার এই অন্তর্নিহিত শক্তি উপলব্ধি করে এবং ক্ষমতাসীন দলের কৌশল যথাযথভাবে অনুধাবন করে নিজস্ব কৌশল দিয়ে তা অতিক্রম করতে পারে, তবে তার সাফল্যের পথটি মসৃণ হতে পারে। বিএনপিকে এ মনোভাব ধারণ করতে হবে যে, সে বিজয়ীর মতো যুদ্ধ করছে, তাহলে তার জয় সম্ভব। যদি পরাজয়ের মনোভাব ধারণ করে যুদ্ধে নামে, তবে তার পক্ষে বিজয়ী হওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। পাশাপাশি এ কথাও মনে রাখতে হবে, আন্দোলন করতে গিয়ে অতীতের মতো যাতে ঘরের এবং বাইরের অন্তর্ঘাতের শিকার হতে না হয় সে ব্যাপারে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments