Tuesday, July 16, 2024
spot_img
Homeজাতীয়বিএনপি কর্মীরা ইচ্ছে করে হাতে লাঠি নেয়নি: টুকু

বিএনপি কর্মীরা ইচ্ছে করে হাতে লাঠি নেয়নি: টুকু

বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, মার খেতে খেতে নেতাকর্মীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তারা আত্মরক্ষার্থে হাতে লাঠি নিয়েছে। ইচ্ছে করে কেউ লাঠি নেয়নি। সারাদেশে সাম্প্রতিক কর্মসূচিতে হামলা, নেতাকর্মীকে হত্যা ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সোমবার ঢাকার হাজারীবাগে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, টেলিভিশনের টক শোতে বিএনপির লাঠি নিয়ে আলোচনা কইরেন না। লাঠি আপনারা তুলে দিয়েছেন। বিএনপির কর্মীরা নিজ ইচ্ছা করে লাঠি তোলে নাই। তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্র নাই। আজকে আমরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জনসভা করছি না, আমরা এই জনসভা করছি, আন্দোলন করছি জনগনের অধিকার আদায়ের জন্য।

মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্তদের জীবন চলছে না, তাদের জীবনধারণ কষ্টকর হয়ে গেছে। বাজারে প্রত্যেকটি জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। রান্না করে খাব, সেই গ্যাসের দাম বেড়ে গেছে।

জ্বালানি তেল নাই, গ্যাসও নাই। এর থেকে উত্তরণে সরকারের পতন ছাড়া কোনো বিকল্প নাই। টুকু বলেন, আওয়ামী লীগের অনেকের মুখে একটা বুলি হয়ে গেছে বিএনপি-জামায়াত, বিএনপি-জামায়াত। আমি বলছি, এখন সময় এসেছে, আওয়ামী লীগ-জামায়াত, আওয়ামী লীগ-জামায়াত বলার। জামায়াতও উর্দু, আওয়ামী লীগও উর্দু। দুটো একসঙ্গে মিলবে ভালো। কেননা ওনারা জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করেন। কিন্তু বেআইনি ঘোষণা করেন না। তাহলে কি আমি বলবো, ওনাদের (জামায়াত-আওয়ামী লীগের) পরকীয়া চলছে?

তিনি বলেন, এই দেশের মন্ত্রিপরিষদ সচিব অন্যায় দেখতে দেখতে অসহ্য হয়ে গেছেন। তিনি কয়দিন আগে অফিসারদের মিটিংয়ে বললেন, আমাদের যে বহিঃসম্পদ বিভাগ আছে তারা চুরি করার জন্য বিদেশ থেকে ঋণ নিয়ে আসে। ঋণ নিয়ে এসে চুক্তি করে প্ল্যানিং কমিশনে পাঠায়, তারা সেটা পাস করে দেয়। পরে সেই ঋণ আমাদের গলার ফাঁদ হয়ে যায়। এটা বাংলাদেশের কেবিনেট সচিবের কথা, যিনি এখনও চাকরিতে বহাল আছেন।

তিনি আরো বলেন, আজকে ওসির অনুমতি নিয়ে আমরা মিটিং করছি।  দেশটাকে আজকে কোথায় নিয়ে গেছে। কাল রাত থেকে এখানে না ওখানে, ওখানে না সেখানে। হায়রে আমার বাংলাদেশ। এজন্য আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছি। আর আজকে ওসির অনুমতি নিয়ে মিটিং করতে হবে। তারা বলে দেশে নাকি গণতন্ত্র আছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, গণতন্ত্রই যদি থাকত তাহলে আমাকে ওসির অনুমতি নিয়ে কেন মিটিং করতে হবে?

ওদিকে সমাবেশ শুরুর আগে হাজারীবাগে মিছিল নিয়ে আসার সময় বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ কর্মীদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সমাবেশ চলার সময় দেশ টিভির দুইজন সাংবাদিকও মারধরের শিকার হয়েছে। বিএনপি কর্মীরা কথা কাটাকাটির জেরে তাদের মারধর করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। 

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম, আবদুল খায়ের ভুঁইয়া, কেন্দ্রীয় নেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মীর সরাফত আলী সপু, শেখ রবিউল আলম রবি, রফিকুল আলম মজনু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments