Tuesday, May 28, 2024
spot_img
Homeজাতীয়‘বাধ্য হয়ে ঘুস দেন ডিআইজি মিজান, এটি অপরাধের মধ্যে পড়ে না’

‘বাধ্য হয়ে ঘুস দেন ডিআইজি মিজান, এটি অপরাধের মধ্যে পড়ে না’

পুলিশের বরখাস্তকৃত বিতর্কিত ডিআইজি মো. মিজানুর রহমান বাধ্য হয়ে দুদকের পরিচালক (বরখাস্ত হওয়া) খন্দকার এনামুল বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুস দেন বলে আদালতে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলমের আদালতে ডিআইজি মিজানের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। যুক্তিতর্কে মিজানের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী একথা জানান।

এহসানুল হক সমাজী বলেন, ‘গণমাধ্যমে প্রচারিত প্রতিবেদন, কল রেকর্ড ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য থেকে এটা প্রমাণিত যে, ডিআইজি মিজান বাধ্য হয়ে খন্দকার এনামুল বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুস দিয়েছেন। তাই চাপের মুখে বাধ্য হয়ে ঘুস দেওয়াটা অপরাধের মধ্যে পড়ে না। এ ছাড়া এই ৪০ লাখ টাকার বৈধতা সম্পর্কেও কোনো প্রশ্ন উঠেনি। তাই তিনি খালাস পাওয়ার যোগ্য। আমরা বিজ্ঞ আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করছি।’

এরপর দুদকের এনামুল বাছিরের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য সময় চেয়ে আবেদন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান। আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি বাছিরের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেন।

২০২০ সালের বছরের ১৯ জানুয়ারি দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যা আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। এরপর ওই বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে এ চার্জশিট গ্রহণ করেন আদালত।  একই বছরের ১৮ মার্চ এ মামলার চার্জ (অভিযোগ) গঠনের আদেশ দেন আদালত। ওই বছরের ১৯ আগস্ট এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ২০২১ সালের ২৩ ডিসেম্বর এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৭ জনের মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। এ মামলায় গত ২৪ জানুয়ারি দুদকের পক্ষে দুই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করা হয়।

চার্জশিটে বলা হয়, দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কমিশনে দায়িত্ব পালনকালে অসৎ উদ্দেশ্যে, নিজে লাভবান হওয়ার আশায়, ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ডিআইজি মো. মিজানুর রহমানকে অবৈধভাবে সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার হীনউদ্দেশ্যে ৪০ লাখ টাকা ঘুস গ্রহণ করেন। 

অপরদিকে মিজানুর রহমান সরকারি কর্মকর্তা হয়ে নিজের বিরুদ্ধে আনীত অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য অর্থাৎ অনুসন্ধানের ফলাফল নিজের পক্ষে নেওয়ার জন্য অসৎ উদ্দেশ্যে এনামুল বাছিরকে অবৈধভাবে প্রভাবিক করার লক্ষ্যে ৪০ লাখ টাকা ঘুস দিয়ে পরস্পর যোগসাজশে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। 

২০১৯ সালের ১৭ জুলাই ৪০ লাখ টাকা ঘুস লেনদেনের অভিযোগে ডিআইজি মিজান ও এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে এ মামলাটি করা হয়।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments