Tuesday, May 28, 2024
spot_img
Homeজাতীয়বাজেট ২০২২-২৩: প্রবাসী আয় বাড়ানোই বড় চ্যালেঞ্জ

বাজেট ২০২২-২৩: প্রবাসী আয় বাড়ানোই বড় চ্যালেঞ্জ

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে ব্যাপকভাবে। আন্তঃব্যাংক ও খোলাবাজারে ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হারে বড় পার্থক্য তৈরি হয়েছে। এতে প্রবাসীরা বৈধপথে রেমিট্যান্স না পাঠিয়ে হুন্ডির দিকে ঝুঁকছে। ফলে কমে গেছে দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখা প্রবাসী আয়। যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য সুখকর নয়। এ অবস্থায় বৈধপথে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, আসছে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে এ সংক্রান্ত সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন।

বেশ কয়েকদিন ধরেই ডলারের বাজারে অস্থিরতা চলছে। ডলারের দাম বাড়তে বাড়তে ১০৪ টাকা পর্যন্ত উঠে গেছে। এর প্রেক্ষাপটে কয়েক দফা দাম নির্ধারণ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর বিপরীতে কমে যাচ্ছে টাকার মান। গত মে ও চলতি জুন মাসের মধ্যে ষষ্ঠবারের মতো কমানো হয়েছে টাকার মান। সর্বশেষ গত সোমবার আরও কমিয়ে প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর প্রবাসীদের থেকে ব্যাংকগুলো ডলার কিনছে ৯৩ থেকে ৯৪ টাকায়। অন্যদিকে খোলাবাজারে ডলার বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ৯৬ টাকায় বা তারও বেশি দরে। আন্তঃব্যাংক ও খোলাবাজারে ডলারের বিনিময় হারের এই পার্থক্য রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। 
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, সদ্য সমাপ্ত মে মাসে ১৮৮ কোটি ৫৩ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা আগের মাসের চেয়ে ১২ কোটি ৫৫ লাখ ডলার কম এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮ কোটি ৫৭ লাখ ডলার কম। গত এপ্রিলে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০১ কোটি ৮ লাখ ডলার। আর গত বছর মে মাসে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন ২১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মানবজমিনকে বলেন, টাকার সঙ্গে ডলারের বিনিময় হার নমনীয় ও বাস্তবসম্মতভাবে নির্ধারণ করা উচিত। যাকে বলা হয় কার্যকর বিনিময় হার। কৃত্রিমভাবে ডলারের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়ে এটাকে কার্যকর করা যায় না। এটার ফলে বিকল্প বাজার সৃষ্টি হয় এবং ব্যাংকের মাধ্যমে না এসে হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স আসে। তাই বিনিময় হার সমন্বয় করা উচিত বাস্তবতার নিরিখে। বাংলাদেশ ব্যাংক যে দর নির্ধারণ করে দেয় সেটা বাস্তবসম্মত নয় বলেও উল্লেখ করেন ড. দেবপ্রিয়।
মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তাসনিম সিদ্দিকী মানবজমিনকে বলেন, সরকার যে প্রবাসীদের ১০০ টাকায় আড়াই টাকা প্রণোদনা দিচ্ছে, এটাকে অব্যাহত রাখতে হবে। কেউ কেউ বলছেন এই প্রণোদনা কমিয়ে দিতে। কিন্তু আমরা যারা অভিবাসন নিয়ে কাজ করি, আমরা মনে করি এই প্রণোদনা যদি কমিয়ে দেয়া হয় তাহলে রেমিট্যান্স বৈধ চ্যানেলে আরও কমে যাবে। সুতরাং প্রণোদনা যাতে অটুট থাকে সেদিকে খেয়াল করতে হবে। প্রবাসীরা যাতে বৈধভাবে বিদেশে যেতে পারে এবং সেখানে গিয়ে যাতে ঠিক চাকরিটা পায়, সেই জায়গাগুলোতে অ্যাকাউন্টিবিলিটি আনতে হবে। কারণ এখন বৈধ হয়েও সেখানে গিয়ে অবৈধ হয়ে যাচ্ছে, চাকরি পাচ্ছে না। এই সংখ্যাটিকে কমিয়ে আনতে হবে। 
তাসনিম সিদ্দিকী বলেন- হুন্ডি বাড়ছে, তার কারণ হতে পারে এখন ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু হয়েছে। আর ব্যবসায়ীরা ট্যাক্স ফাঁকি দেয়ার জন্য ওভার ইনভয়েসিং এবং আন্ডার ইনভয়েসিং করেন। তাই এই জায়গাগুলোতে অ্যাকাউন্টিবিলিটি আনতে হবে। এই কাজটা থেকে ব্যবসায়ীদের বিরত রাখতে হবে। অর্থাৎ হুন্ডির চাহিদা কমাতে হবে। এটা করার জন্য সরকারকে যে পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজন সেটা নিতে হবে। এ ছাড়া সরকার চাইলে প্রবাসীদের আহ্বান জানাতে পারে, যে তারা যেন বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠায় সে জন্য তাদেরকে বিভিন্নভাবে উৎসাহ দিতে পারে। 
গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান মনে করেন, সরকারিভাবে প্রবাসী আয়ে আড়াই শতাংশ প্রণোদনা যেটা দেয়া হচ্ছে, সেটার পুরোটা এখন আর প্রয়োজন নেই। এটা কমিয়ে দেয়া যেতে পারে। তবে যে প্রক্রিয়ায় প্রবাসী আয় পাঠানো হয়, ওই সময় ও প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে কিছু একটা থাকতে পারে। সেটা হয়তো সর্বোচ্চ ১ শতাংশ প্রণোদনা। এ ক্ষেত্রে আসন্ন বাজেটে প্রবাসী আয় পাঠানোর চ্যানেলে সরকার কাঠামোগত কিছু সংস্কার করতে পারে। যেমন আয় প্রত্যাবাসনের সময়টা কীভাবে আরও কমিয়ে নিয়ে আসা যায়। অনেক প্রবাসীর অভিযোগ আছে, আনুষ্ঠানিকভাবে রেমিট্যান্স পাঠাতে তাদের নানা ঝামেলায় পড়তে হয়। এগুলো কীভাবে সমাধান করা যায়, সে ব্যাপারে নজর দিতে হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে রেমিট্যান্স পাঠালে টাকা ওই প্রবাসীর বাড়িতে পৌঁছে দেয়া যেতে পারে। এ ধরনের ছোট ছোট উদ্যোগ প্রবাসীদের বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহ দেবে। এ ছাড়া বাজেটে স্পষ্ট করা যেতে পারে- প্রবাসীদের জন্য বিমানবন্দরে সেবা কেমন হবে, তাদের পাসপোর্ট পাওয়ার প্রক্রিয়া, দেশে আসার পরে ট্যাক্সি ভাড়া সেটার পদ্ধতি কী হবে ইত্যাদি। এসব সুযোগ-সুবিধা তারা ঠিকমতো পাচ্ছে কিনা, বিষয়টি তদারকির সরকারি ব্যবস্থাও থাকতে হবে। কারণ, আমাদের এখানে পরিকল্পনায় অনেক কিছু থাকে। কিন্তু সেটার বাস্তবায়ন হয় না।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments