Thursday, June 30, 2022
spot_img
Homeসাহিত্যবাংলা সাহিত্যে সাতক্ষীরা

বাংলা সাহিত্যে সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা জেলার সাহিত্য নিয়ে বিশেষ আয়োজন

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদে সুন্দরবন এবং সুন্দরবন সন্নিহিত জীবনের কথা উঠে এসেছে কবি ভুসুকুর কবিতায়। চর্যাপদ গবেষক ড. এসএম লুৎফর রহমান তার ‘বৌদ্ধ চর্যাপদ’ গ্রন্থে কবি ভুসুকুর বাড়ি মধ্যযুগের যসর বর্তমান সাতক্ষীরাকে চিহ্নিত করেছেন। ‘অপণা মাংসে হরিনা বৈরী’, ‘আজি ভুসুকু বঙ্গালি ভইলি’ কবি ভুসুকু রচিত চর্যাপদের বিখ্যাত পঙ্ক্তি।

যবন হরিদাস ছিলেন মধ্যযুগের কবি। ১৩৪৫ সালে তিনি কেড়াগাছিতে জন্মগ্রহণ করেন। যবন হরিদাস সম্পর্কে কবি নিত্যানন্দ দাস লিখেছেন-

‘বুঢ়ণে হইল জন্ম ব্রাহ্মণের বংশে

যবনত্ব প্রাপ্তি তার যবনান্ন দোষে।’

মধ্যযুগে যশোরের মোগল জমিদার (সাতক্ষীরা) বসন্তরায় (১৫৭৭-১৫৯৫) ছিলেন সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক। বৈষ্ণব পদকর্তা গোবিন্দদাসকে তিনি তার সভাকবির মর্যাদা দান করেন।

যশোর বিজেতা এনায়েত খান এবং মীর্জা নাথান ছিলেন সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক। যশোর বিজয়ের পর (১৬১১) রাজ্যের গুণিজনদের নিয়ে এনায়েত খান যে উৎসবের আয়োজন করেন সেখানে কবি উরফি, কবি আগাহী প্রমুখ স্বরচিত কবিতা পাঠের মধ্য দিয়ে উৎসবকে মুখরিত করে তুলেছিলেন। সুন্দরবন অঞ্চলে মুসলিম বিজয়ের পটভূমিতে রচিত ‘গাজী কালু চম্পাবতী’ এবং ‘বনবিবির জহুরানামা’ নামে রচিত হয়েছে একাধিক পুঁথিসাহিত্য। স্থানীয় শক্তিমান স্বভাবকবিদের সাহিত্যচর্চার এসব নিদর্শন সুন্দরবনসংলগ্ন জনপদের সংস্কৃতির পরিচয়বাহী।

৩.

আধুনিক সাতক্ষীরার সাহিত্যচর্চার নিদর্শন পাওয়া যায় উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে। ঔপনিবেশিক বাংলার রাজধানী হিসাবে কলকাতায় সাহিত্য-সংস্কৃতির গোড়াপত্তন হয়। ছাপাখানা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বই ও পত্রিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে নবদিগন্ত সূচিত হয়। ১৮০০ সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে আধুনিক যুগ আরম্ভ হয়। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের উইলিয়াম কেরী তার সাহিত্য উপাদান সংগ্রহের জন্য সাতক্ষীরার দেবহাটাতে কিছুকাল অবস্থান করেন। সাতক্ষীরা অঞ্চলের ইতিহাস নিয়ে রামরাম বসু লিখেছেন রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র, যেটা প্রথম মুদ্রিত গদ্যগ্রন্থ হিসাবে স্বীকৃত। কলকাতা থেকে ভৌগলিক দিক দিয়ে নিকটবর্তী হওয়ায় নানা প্রয়োজনে সাতক্ষীরার মানুষ কলকাতায় অবস্থান করতেন। পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতায় শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে সাতক্ষীরার মানুষের সম্পৃক্ততা সৃষ্টি হয়। ঔপনিবেশিক যুগের সাহিত্যিকদের মধ্যে খান সাহেব আবদুল ওয়ালী, মেয়ারাজ উদ্দীন, আজিজননেছা খাতুন, খানবাহাদুর আহছানউল্লা, মোবারক আলী খান, মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী, মোয়েজদ্দীন হামিদী ও আবদুল ওহাব সিদ্দিকীর নাম প্রণিধানযোগ্য।

খান সাহেব আবদুল ওয়ালী (১৮৫৫-১৯২৬) ছিলেন ইতিহাসবিদ, কবি ও লোক গবেষক। তিনি আরবি, উর্দু, ফারসি ও ইংরেজিতে পণ্ডিত ছিলেন। তার রচিত এশিয়াটিক সোসাইটির জার্নাল, ইন্ডিয়ান এন্টিকোয়ারি ইসলামিকা জার্নাল, মোসলেম ইনস্টিটিউট জার্নাল, ক্যালকাটা রিভিউসহ বিভিন্ন জার্নাল ও পত্রিকায় প্রকাশিত হতো। লোককবি লালন ফকিরের ওপর তিনিই প্রথম আলোচনার সূত্রপাত করেন।

মেয়ারাজ উদ্দীন ছিলেন কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের আরবি ও ফারসি বিষয়ের অধ্যাপক। তিনি ছিলেন সুধাকর গোষ্ঠীর অন্যতম রূপকার। সুধাকর ও মিহির পত্রিকায় লেখালেখি ছাড়াও অনুবাদ সাহিত্যে অবদান রাখেন। মুন্সী রিয়াজউদ্দীন আহমদ সহযোগে তার লিখিত বই ‘এসলাম তত্ত্ব’। আজিজননেছা খাতুন (১৮৬৪-১৯৪০) ছিলেন বেগম রোকেয়ার পূর্বসূরি মহিলা কবি। অলিভার গোল্ডস্মিথ-এর হারমিট (উদাসীন কাব্য) কাব্যের অনুবাদের মধ্য দিয়ে তিনি ‘বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম মহিলা অনুবাদ কবি’ হিসাবে বিবেচিত হন। নবনূর, ইসলাম প্রচারক, ইসলাম দর্শন, মসজেদ প্রভৃতি পত্রিকায় তিনি লিখতেন।

মোবারক আলী খান (১৮৮৮-১৯৭১) ছিলেন একজন ইতিহাসবিদ। বাংলা সনের ওপর তিনিই প্রথম গবেষণা করেন। ১৩৬৪ বাংলা সনে ‘বাংলা সনের জন্মকথা’ প্রকাশিত হয়। খানবাহাদুর আহছানউল্লা (১৮৭৩-১৯৬৫) অবিভক্ত বাংলা বিভাগের শিক্ষা বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর ছিলেন। কলকাতায় তিনি আহছানউল্লা বুক হাউস নামীয় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। কাজী নজরুল ইসলামসহ অনেক বিখ্যাত লেখক কবিদের বই প্রকাশ পেত। মোয়েজউদ্দিন হামিদী (১৮৯৫-১৯৭০) ছিলেন একজন রাজনীতিক, ধর্মবেত্তা ও সাহিত্যিক। তার সম্পাদনায় ব্রিটিশ আমলে সাতক্ষীরার কলারোয়া থেকে প্রকাশিত হতো ‘মাসিক হেদায়েত’ নামের ধর্ম সমাজ ও সাহিত্য বিষয়ক পত্রিকা। মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী (১৮৯৬-১৯৫৪) প্রাবন্ধিক, সম্পাদক ও শিশুসাহিত্যিক। সাপ্তাহিক মোহাম্মদী পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন। মাসিক সাম্যবাদী পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। মরুভাস্কর তার লেখা বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ। মুক্তবুদ্ধি ও যুক্তবাদী লেখক ছিলেন। মুসলিম সাহিত্য সমাজের নবম অধিবেশনের (১৯৩৫) সভাপতি ছিলেন তিনি। আবদুল ওহাব সিদ্দিকী (১৯০২-১৯৮৫) শিশুসাহিত্যিক ও সাংবাদিক। তিনি আল মুসলিম, হানাফী এবং গুলবাগিচা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। স্মৃতির সাগর তীরে, নয়া জামানার ইতিহাসে হামিদপুর তার লেখা স্মৃতিচারণমূলক বই। শিশুতোষ বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য-কুরআনের কথা, নবিকথা, আরবের দুলাল, ধুলোয় যারা গড়েছেন তাজ।

৪.

১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির মধ্য দিয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামক ২টি পৃথক রাষ্ট্রের গোড়াপত্তন হয়। বাংলা অঞ্চলও ২টি ভাগে বিভক্ত হয়ে ২টি রাষ্ট্রের অধীভুক্ত। ফলশ্রুতিতে পূর্ব বাংলার ঢাকা শহরে একটি নতুন রাজধানী এবং বাংলাভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির নতুন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা পায়।

পাকিস্তান ও বাংলাদেশ পর্বে ঢাকাকেন্দ্রিক সাহিত্যচর্চায় যারা কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন তন্মধ্যে সিকান্দার আবু জাফর, আল কামাল আবদুল ওহাব, মোমেন চৌধুরী, আনিস সিদ্দিকী, কাজী রোজী, জহুরুল আলম সিদ্দিকী ও আ শ ম বাবর আলীর নাম উল্লেখযোগ্য।

সিকান্দার আবু জাফর (১৯১৯-১৯৭৫) বাংলাদেশে সাহিত্যচর্চা ও আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, গীতিকার ও সম্পাদক। ‘বাংলা ছাড়’ ও ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই’ কবিতার কবি। নতুন লেখক সৃষ্টিতে ‘সমকাল’ (১৯৫৭-১৯৭৫) সম্পাদক হিসাবে তার নিষ্ঠা, কর্মোদ্যম ও অনমনীয় সংকল্প শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণযোগ্য।

সাতক্ষীরা থেকে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে সাহিত্যচর্চায় যারা অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন-

প্রবন্ধ ও নিবন্ধ : খান আনসারু-দ-দীন আহমদ, গোলাম মঈনউদ্দীন, আ ফ ম আবুবকর সিদ্দিকী, এ কে এম আবদুর রউফ, হাসান আব্দুল খালেক, আসাদুল্লাহ আল গালিব, কাজী মুহম্মদ অলিউল্লাহ, এস এম হারুন উর রশীদ, গাজী আজিজুর রহমান, মোহাম্মদ আবদুল মজিদ, শেখ আব্দুর রশীদ, মোস্তফা তারিকুল আহসান, মুসা সাদিক, আবেদ খান, আফজালুল বাসার, ইয়ারুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, এম এম নজমুল হক, শাহ সিদদিক, জাহিদুর রহমান।

কবিতা: শাহেদা খাতুন, তবিবুর রহমান, সাবদার সিদ্দিকী, সুনীল সাইফুল্লাহ, মোঃ কেরামত উল্যাহ, গাজী আবদুল্লাহেল বাকী, শহীদুর রহমান, নিশিকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, ইয়াসমিন জাহান শাহীন, মাসুদা মোবারক, শেখ নজরুল, আবদুল ওহাব আজাদ, সিরাজুল ইসলাম, ফরহাদ খান চৌধুরী, কুমার দীপ, শাকিরা পারভীন, শুভ্র আহমেদ, স ম তুহিন, এলিজা খাতুন।

উপন্যাস ও গল্প: খায়রুল বাসার, আফজাল হোসেন, স ম তৈয়েবুর রহমান, বদরুজ্জামান, বুলবুল আজাদ, শেখ আমানুল্লাহ, আবদুল কাদিম, সিরাজুল ইসলাম, জিএম মুজিবুর রহমান, মিজানুর রহমান, ইবাইস আমান, এলিজা খাতুন।

ছড়া ও শিশুসাহিত্য: আবুল হোসেন আজাদ, মীর আমজাদ আলী, সুহৃদ সরকার, সরদার আবুল হাসান, ইমরুল ইউসুফ, আবু তাহের বেলাল, নাজমুল হাসান, আহমেদ সাব্বির, জিসান মেহবুব, মুহাম্মদ ইব্রাহিম বাহারী, আনিস আরমান।

৫.

সাহিত্যকে প্রকাশ ও উপস্থাপনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো সাহিত্য পত্রিকা বা সাময়িকী। এসব সাময়িকীতে বহু লেখকের ভাবনা ও সৃজনের সমাহার ঘটে। বর্তমান ও ভবিষ্যতের পাঠকের জন্য সাহিত্য পাঠের অন্যতম উপকরণ এ সাহিত্য সাময়িকী। ১৯১৭ সালে সাতক্ষীরা থেকে মুন্সী আহমেদ সোবহানের সম্পাদনায় সাহিত্য পত্রিকা মসজেদ প্রকাশিত হয়। মসজেদের লেখকগণের মধ্যে ছিলেন-মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ইসমাইল হোসেন সিরাজী, মোজাম্মেল হক, শেখ ফজলল করিম, হাবিবুর রহমান, আজিজুননেছা খাতুন, দীননাথ মুখোপাধ্যায়, চারুচন্দ্র মিত্র প্রমুখ। মসজেদের অন্তত ৪টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়। সাতক্ষীরার কলারোয়া থেকে বিংশ শতাব্দীর ত্রিশের দশকে নিয়মিত প্রকাশ পেত মাসিক হেদায়েত পত্রিকা। এটি কলকাতার মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকার সমমান ও পর্যায়ের ছিল। পাকিস্তান পর্বে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী পি এন হাইস্কুলে ষাটের দশকে একটি সাহিত্য আন্দোলন গড়ে ওঠে। স্কুল বার্ষিকী হিসাবে ম্যাগাজিন নবনূর প্রকাশ পেতে থাকে। পিএন স্কুলের শিক্ষক তবিবুর রহমানের প্রচেষ্টায় কোরক সাহিত্য সংসদ এবং এর মুখপত্র হিসাবে কোরক (১৯৬২) পত্রিকা প্রকাশিত হয়। আবুল হোসেন খানের প্রগতি সংঘের উদ্যোগে প্রগতির ২টি সংখ্যা (১৯৬৬) এবং হাতে লেখা পত্রিকা জোনাকীর ২টি সংখ্যা (১৯৬৭) প্রকাশ পায়। ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পরপরই ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সাহিত্য সংসদ এবং বাংলাদেশ সংস্কৃতি সংসদ নামে দুটি সংঘের উদ্যোগে ১৯৭২-এর ফেব্রুয়ারিতে সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত হয় অধীর কুমার গণ ও তবিবুর রহমানের সম্পাদনায় ‘রক্ত স্মৃতির আলেখ্য’ ও ‘রক্ত অশ্রু পণ’ নামের দুটি বিশেষ সাহিত্য সাময়িকী। এরপর সাতক্ষীরা থেকে নিয়মিত অনিয়মিত বেশ কিছু সাহিত্য সাময়িকী প্রকাশিত হয়েছে। কিছু পত্রিকার বিলুপ্তি ঘটেছে, আবার নতুন সাহিত্য পত্রিকার উদয় হয়েছে।

এসব সাহিত্য সাময়িকীর মধ্যে পল্টু বাসার সম্পাদিত ঈক্ষণ (১৯৮৬-বর্তমান), আমীরুল বাসার সম্পাদিত সাম্প্রতিক (১৯৯০-বর্তমান), মোশতাক আহমদ শুভ্র সম্পাদিত আড্ডা (১৯৯৪-১৯৯৬), গাজী শাহজাহান সিরাজ সম্পাদিত সৌম্য (১৯৯৯-বর্তমান), বেদুইন মোস্তফা সম্পাদিত প্রতিধ্বনি (১৯৯৮-২০০৩), জিএম মুজিবুর রহমান সম্পাদিত প্রগলভ (১৯৮৫-২০১০), হাসানাত অলিউল্লাহ সম্পাদিত প্রতিভা (১৯৯৯-২০০০), নাজমুল হাসান সম্পাদিত ছড়ার ডাক (১৯৯৮-বর্তমান), মুহাম্মদ ইব্রাহিম বাহারী সম্পাদিত বাঁধনহারা (২০০০-বর্তমান), মীর আমজাদ আলী সম্পাদিত মর্মিতা (২০১০-২০১৪), নিশিকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বিজয় (২০০৬- বর্তমান), মোঃ জাহিদুর রহমান সম্পাদিত মৃত্তিকা (২০১১-২০১৩), আব্দুর রহমান সম্পাদিত সাহিত্য পাতা (২০১২-বর্তমান) পত্রিকার নাম সবিশেষ উল্লেখ্য।

সম্পাদিত উল্লেখযোগ্য বিশেষ সাহিত্য সংকলন ও পত্রিকার মধ্যে রয়েছে খায়রুল বাসার সম্পাদিত স্বদেশী (১৯৬৬), গাজী আজিজুর রহমান সম্পাদিত হরফ (১৯৭৮), পল্টু বাসার সম্পাদিত মৌয়াল ও বুড়ন (১৯৯৮ ও ২০১০), আতা রহমান সম্পাদিত সাতক্ষীরা পত্র (১৯৮৫) আবদুল হামিদ ও সিরাজুল ইসলাম সম্পাদিত স্রোত (২০০০ ও ২০২০), মিজানুর রহমান সম্পাদিত উন্মেষ (২০০১) এবং মোঃ জাহিদুর রহমান সম্পাদিত নিখিলের চির সুন্দর ও অনন্ত অসীম প্রেমময় তুমি (২০০৪ ও ২০০৬)। সংকলনগুলো স্থানীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাস-ঐতিহ্যনির্ভর এবং তথ্যবহুল।

৬.

ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঞ্চল মিলেই একটি দেশ। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়েই সমগ্র বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য গঠিত। তেমনিভাবে সাতক্ষীরার সাহিত্যচর্চাও বাংলাদেশের জাতীয় সাহিত্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সাহিত্যে সাতক্ষীরার অবদান তাই বাংলাসাহিত্যের ইতিহাসে মিশে আছে ওতপ্রোতভাবে।

লেখক পরিচিতি : মোঃ জাহিদুর রহমান ১৯৮৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরা জেলার ব্রহ্মশাসন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মোঃ আব্দুর রশীদ, মাতা জেবুন্নেছা বেগম।

তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৬ সালে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে বিএসএস সম্মান, ২০০৭ সালে এমএসএস এবং ২০১৮ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন।

প্রকাশিত গ্রন্থ : ১। অনন্য সিকান্দার, ২০১৪, ২। বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি : সাতক্ষীরা, ২০১৪ (যৌথ), ৩। প্রত্ন-প্রতীক, ২০১৭, ৪। স্বাধীনতা সংগ্রামে সাতক্ষীরা, ২০২০।


RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments