Sunday, May 19, 2024
spot_img
Homeজাতীয়বাংলাদেশের ওপর আগ্রাসন চালাচ্ছে ভারত

বাংলাদেশের ওপর আগ্রাসন চালাচ্ছে ভারত

বাংলাদেশের ওপর প্রতিবেশী দেশ (ভারত) আগ্রাসন চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, তারা (ভারত) আমাদের তিস্তা নদীর পানি আটকে রেখেছে। অন্যান্য নদীতে বাঁধ দিয়ে বাংলাদেশ অঞ্চলকে মরুভূমি বানিয়েছে। আমরা তো এই স্বাধীন বাংলাদেশ চাই না। এদেশের মানুষ দীর্ঘকাল ধরে স্বাধীনতা চেয়েছে। তারা কখনো দিল্লির গোলাম হয়ে থাকতে চায় নি। বরং তারা আধিপত্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছে সবসময়। গতকাল রোববার রাজধানীর উত্তরায় ঈদ সামগ্রী বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক, দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত এ বি এম রাজ্জাক, দক্ষিণখান থানা বিএনপির আহ্বায়ক মোতালেব হোসেন রতন, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল প্রমুখ।

এদিকে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ডামি নির্বাচনের ‘বাকশাল টু’ সরকারের ভয়াবহ দুঃশাসনে পড়ে পবিত্র রমজানেও নিদারুণ কষ্টে জীবন যাপন করছে সাধারণ মানুষ। নিত্যপণ্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতি, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি সংকট তো আছেই। এছাড়াও অবৈধ সরকারের লুটপাটের অর্থনীতির কারণে দেশে দুর্ভিক্ষ ক্রমসম্প্রসারিত হচ্ছে। বাকস্বাধীনতা প্রয়োগের জন্য অনেক মানুষকে জুলুম ভোগ করতে হচ্ছে। সভা-সমাবেশ-মিছিল করার অধিকার আওয়ামী লীগ এখন এককভাবে ভোগ করছে। নির্বাচনী ব্যবস্থাকে এরা কলুষিত করে ক্ষমতা দখলে রেখেছে। আওয়ামী সন্ত্রাস মাত্রাছাড়া হয়ে উঠেছে। জনগণের ওপর প্রভুত্বকামী জুলুমবাজ সরকার পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত দেশব্যাপী হিংসার মন্ত্রণাদাতা ও শান্তির শত্রু। এরা গণতন্ত্রের মূল নীতিকে সমাধিস্থ করে এক সর্বগ্রাসী অত্যাচারী রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের মনে ঈদের কোন আনন্দ নেই। বিশেষ করে মধ্যম ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এবারের ঈদ সবচেয়ে নিরানন্দ ও বেদনাদায়ক।

আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য ক্ষমতায় এসেই গণতন্ত্রের লাশ ফেলে দেয়া মন্তব্য করে তিনি বলেন, অত্যাচার, লুটতরাজ সর্বক্ষেত্রেই বিদ্যমান। এরা ক্ষমতাসীন হয়ে রাষ্ট্রশক্তিকে ব্যবহার করে বিএনপিসহ গণতন্ত্রকামী মানুষের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা ও গায়েবি মামলা, হামলা, জেল, জুলুম, খবরদারী, অত্যাচার, উৎপীড়ণ, খুন, গুম, লুণ্ঠন, দুঃশাসন চালিয়ে আসছে। জবরদস্তিমূলক ক্ষমতা ধরে রেখে অবৈধ আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী গত প্রায় ১৬ বছরে ক্রমবর্ধমান স্বৈরশাসনের নানামুখী ফরম্যাট পরিবর্তনের মাধ্যমে দেড় লাখের বেশি হয়রানিমূলক মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দেশনায়ক তারেক রহমানসহ প্রায় ৫০ লাখের অধিক নেতাকর্মীকে আসামি করেছে। রাজনৈতিক আচরণের রীতি ও শালীনতাকে উপেক্ষা করে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে আদালতের মাধ্যমে সাজা দিয়েছে, এখনও তিনি মুক্ত নন। যে মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে তাতে তাঁর বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা নেই। তাঁকে চিকিৎসা সেবা থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এই সরকারের আমলে বিচারের রায় ছিল ফরমায়েশি ও আক্রোশমূলক। গণতন্ত্র-ভোটাধিকারের দাবিতে আন্দোলনের অপরাধে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে এখনো কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ এখন ভয়ঙ্কর আতঙ্কের দেশ। ডামি নির্বাচনের পর অনেককে জামিন দিলেও আবারও নতুন নতুন মামলায় কারাগারে নিক্ষেপ করা হচ্ছে। বিএনপিসহ গণতন্ত্রকামী হাজার হাজার মানুষকে গুম, খুন, গুপ্তহত্যার শিকার করা হয়েছে। ছয় বছরের শিশু থেকে মায়ের পেটের বাচ্চাকেও গুলি করা হয়েছে। কবরে শায়িত ব্যক্তি, কোলের বাচ্চা, বিদেশে অবস্থানকারী মানুষ, কারাবন্দি লোককে নাশকতা, ককটেল বিস্ফোরণ, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ইত্যাদি গায়েবি মামলায় জড়িত করার অগণিত উদাহরণ রয়েছে। তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত কেউই এই গায়েবি মামলা ও সরকারি নির্যাতন-নিপীড়ণ থেকে রেহাই পায়নি। দেশ যেন এখন কাঁটাতারের বেড়াঘেরা এক অবরুদ্ধ জনপদ।
রিজভী বলেন, সরকারের সাজানো মিথ্যা মামলায় জর্জরিত বিএনপির তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত প্রায় সকল নেতাকর্মী। কারও কারও বিরুদ্ধে ৪শ থেকে ৫শ মামলাও রয়েছে। একদিকে মামলার চাপ আরেক দিকে ব্যবসা বাণিজ্যসহ সব হারিয়ে অনেকটা নি:স্ব হয়ে পড়েছে বিএনপির অনেক নেতাকর্মীরা। এছাড়াও এখনও যারা কারবান্দি রয়েছেন এমন নেতাকর্মীর সংখ্যাও কম নয়। কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যে এবারও ঈদ করতে হচ্ছে দলটির অজস্র নেতাকর্মীকে। অবৈধ ও ডামি নির্বাচনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে রাজনৈতিক মামলায় বন্দি এসব নেতাকর্মী।

তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ আটক রাজবন্দীদের পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই নিঃশর্ত মুক্তির জোর আহবান জানান। একইসঙ্গে বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ সকল বিএনপি নেতার মিথ্যা মামলায় ফরমায়েশি সাজা বাতিল ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments