Friday, April 19, 2024
spot_img
Homeধর্মবাংলাদেশের অর্থনীতিতে ঈদুল আজহার প্রভাব

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ঈদুল আজহার প্রভাব

মহিমায় উজ্জীবিত মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা ইতিমধ্যে পালিত হয়েছে। এই উৎসবে দেশের সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ না থাকলেও দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে এর ব্যাপক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্য বলছে, ঈদের আগের সাত দিনে ৯০ কোটি ৯৩ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার রেমিট্যান্স ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে। দেশীয় মুদ্রায় বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৯৩ টাকা ৪৫ পয়সা) এ অর্থের পরিমাণ আট হাজার ৪৯৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

এ হিসাবে ঈদের আগে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, নতুন অর্থবছরের (২০২২-২৩) প্রথম মাস জুলাইয়ের প্রথম ছয় দিনে (১ থেকে ৬ জুলাই) ৭৪ কোটি ১০ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গড়ে প্রতিদিন এসেছে ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এর মধ্যে প্রথম পাঁচ দিনে (১ থেকে ৫ জুলাই) এসেছিল ৫৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ৬ জুলাই বুধবার এসেছে ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এর আগে কোনো ঈদের আগে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে এমন উল্লম্ফন দেখা যায়নি। (সূত্র : প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন রেকর্ড রেমিট্যান্স, দৈনিক ইনকিলাব, ৮ জুলাই, ২০২২)

শুধু রেমিট্যান্স নয়, চামড়াশিল্পেও কোরবানির বিশেষ প্রভাব আছে। চামড়াশিল্প দেশের একটি সম্ভাবনাময় শিল্প। পোশাকশিল্পের পর দেশে চামড়াশিল্পের স্থান। এ শিল্পের ওপর ভর করে বর্তমানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৯ লাখ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে। বর্তমানে দেশে ট্যানারির সংখ্যা ২৩০-এর বেশি, যার বেশির ভাগ ঢাকায় অবস্থিত। দেশীয় ট্যানারিশিল্পের প্রধান কাঁচামাল কাঁচা চামড়ার জোগানের প্রায় ৭০ ভাগ আসে কোরবানি পশুর চামড়া থেকে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, কভিড-১৯ মহামারির প্রভাবে সাম্প্রতিক সময়ে চামড়া রপ্তানি ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। যদিও সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরে রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। আর চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসের রপ্তানির প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩০ শতাংশ।

সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানির পরিমাণ আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৯৪.১৬ কোটি ডলার।

ইতিমধ্যে চামড়া ও চামজাড়াত পণ্য থেকে ২০৩০ সাল নাগাদ ১০-১২ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ১০ বছর মেয়াদি রূপকল্প প্রণয়ন করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বর্তমানে এ খাতের রপ্তানি আয় ১ বিলিয়ন ডলার। (দ্য বিজনেস স্টান্ডার্ড, বাংলা, ১৮ মার্চ, ২০২২)

২০২২ সালে পবিত্র ঈদুল আজহায় বেশি পরিমাণ পশু কোরবানি হওয়ায় এই আয় আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ বছর পবিত্র ঈদুল আজহায় সারা দেশে মোট ৯৯ লাখ ৫০ হাজার ৭৬৩টি গবাদি পশু কোরবানি করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর আট লাখ ৫৭ হাজার ৫২১টি গবাদি পশু বেশি কোরবানি হয়েছে। গত বছর সারা দেশে মোট ৯০ লাখ ৯৩ হাজার ২৪২টি গবাদি পশু কোরবানি হয়েছিল।

সুতরাং নির্দ্বিধায় এ কথা বলা যায় যে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments