Friday, April 19, 2024
spot_img
Homeসাহিত্যবহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে বইমেলা

বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে বইমেলা

করোনা মহামারির তৃতীয় ঢেউয়ের কবলে পড়েছে এবারের বইমেলা। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের দুই সপ্তাহ পর ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে ১৪ দিনের অমর একুশে বইমেলা ২০২২।

মেলা সফল করতে বেশকিছু বিষয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে নানা তৎপরতা। এ বছর অমর একুশে বইমেলা শুরু হবে বেলা ১১টা থেকে, চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। অবশ্য এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে আজ।

প্রায় প্রতিবছরই লটারির পর মেলার স্টল ও প্যাভিলিয়ন নির্মাণে ১০ দিনের বেশি সময় পাওয়া যায়। এরপরও দেখা গেছে, অনেক প্রকাশনী স্টল নির্মাণেই প্রথম সপ্তাহ পার করে দেয়। সেদিক থেকে এবার হাতে সময় আছে এক সপ্তাহ। সোমবার লটারি শেষ হয়েছে। মঙ্গলবারই প্যাভিলিয়ন ও স্টল তৈরিতে নেমে পড়েছে অনেক প্রকাশনী সংস্থা। মঙ্গলবার সরেজমিনে মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘুরে এ দৃশ্য দেখা যায়। যারা এখন কাজে নামেনি, তারা আজ থেকে মাঠে নামবে বলে জানা গেছে।

এদিকে মেলা মাঠে ইট বিছিয়ে প্রস্তুত করা, মসজিদ নির্মাণ, পর্যাপ্ত বসার স্থান তৈরি, টয়লেট বসানোসহ সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ গুছিয়ে নিতে চলে যায় ৮-১০ দিন। এবার এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত আছে ২৮ ফেব্রুয়ারি মেলা শেষ হবে। ১৪ দিনের বইমেলা এত কাজ কীভাবে পুরোপুরি গুছিয়ে উঠবে, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, প্রতিবছর আমরা বাংলা একাডেমির কাছ থেকে কাঠামো বরাদ্দ পাওয়ার পর ১২-১৪ দিন সময় পাই প্যাভিলিয়ন ও স্টল নির্মাণের জন্য। এবার পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭ দিন। এটা চ্যালেঞ্জিং হলেও আমরা মনে করি, প্রকাশকরা এই সময়ের মধ্যেই কাজটি শেষ করতে পারবেন। কেউ যদি শেষ করতে না পারেন, সে দায় আসলে প্রকাশকের। তবে আমরা মনে করি, বেশির ভাগ প্রকাশকই স্টল নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করবেন। কারণ প্রকাশকদের কিছু বই বিক্রি করতে হবে। এবার মেলার শুরুর পরপরই শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি। স্টল যদি সময়মতো ঠিক না করেন, তাহলে তারাই সমস্যায় পড়বেন।

তিনি বলেন, বাংলা একাডেমির বিষয়ে একটি আশঙ্কা রয়ে গেছে। প্রবেশদ্বার নির্মাণ, আলোকসজ্জা, সৌন্দর্যবর্ধনের কাজগুলো করতে সচরাচর একটু দেরি হয়। মনে রাখতে হবে-এবার হাতে সময় কম। ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই বাংলা একাডেমিকে এই কাজগুলো সম্পন্ন করতে হবে।

অন্বেষা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী শাহাদাত হোসেন যুগান্তরকে বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে স্টল নির্মাণ করতে বেগ পেতে হচ্ছে। তবে এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়েছি। আশা করি, ভালো একটি বইমেলা হবে।

শেষ পর্যন্ত বইমেলা হচ্ছে-এতে প্রকাশকরা খুশি হলেও তৈরি হয়েছে সংশয়ের কিছু জায়গা। মাত্র ১৪ দিনের মেলায় স্টল ভাড়াসহ সব খরচ শেষে হাতে কী থাকবে, তা নিয়েও অনেক প্রকাশক দ্বিধায় আছেন। এ কারণে গতবারের চেয়ে ৪০টি প্রতিষ্ঠান কম অংশ নিচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির রাজধানী শাখার সভাপতি ও অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি করোনার সংক্রমণ দিনে দিনে কমে আসছে এবং আশা করছি, মেলা শুরুর সময় থেকে এটি হয়তো আরও কমে যাবে। মেলা ৩০ দিন হোক বা ১৪ দিন হোক স্টল নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক সব খরচ একই। পার্শ্ববর্তী দেশের তুলনায় আমাদের মেলায় জায়গার ভাড়াও বেশি। গত বছর মেলায় প্রকাশকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং সারা বছর তাদের ব্যবসা ভালো ছিল না। এবারও যদি ১৪ দিনের মেলা হয়, তাহলে প্রকাশকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আমরা চাই, বইমেলা যেন ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন পর্যন্ত করা হয়। পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে বাংলা একাডেমিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বাণিজ্য মেলা এক মাস হয়েছে। আমরা আশা করব, বইমেলার সময়ও ১৭ মার্চ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হবে।

অমর একুশে বইমেলা ২০২২ পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, থাকবে। তারপরও বলতে চাই, এবার শুরুর দিন থেকেই একটি গোছানো মেলা পাবেন সবাই। আমরাসহ প্রকাশক, লেখক, পাঠক-সবাই প্রথম দিনই ধরে নেব যে, আজ আসলে মেলার ১৫তম দিন। সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছি। আমরা সবাই মিলেই বইমেলা সফল করতে চাই। প্রসঙ্গত, এ বছর বইমেলায় অংশ নিচ্ছে ৫০০টি প্রতিষ্ঠান। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৫৪০টি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments