Sunday, June 23, 2024
spot_img
Homeধর্মবদনজরে কি মানুষের ক্ষতি হয়?

বদনজরে কি মানুষের ক্ষতি হয়?

কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর প্রতি আশ্চর্য হয়ে উপহাস করে, হিংসা করে কিংবা লোভনীয় ভঙ্গিমায় দৃষ্টি দিলে এতে যদি তার ক্ষতি হয়, তাহলে তাকে অশুভ দৃষ্টি বা বদনজর বলা হয়।

বিভিন্ন দেশে সামাজিক প্রথা অনুযায়ী ছোট বাচ্চাদের কপালের পাশে কালো টিপ দেওয়া হয়। এতে তারা অশুভ দৃষ্টি থেকে বেঁচে থাকতে পারবে বলে মনে করা হয়। ফলের গাছ বা ফসলের ক্ষেতে কারো ‘মুখ লেগে যাওয়ার’ ভয়ে মাটির পাতিলে চুনা লাগিয়ে টানিয়ে রাখার প্রথাও গ্রামগঞ্জে প্রচলিত আছে।

ঘর-বাড়ি সোনা-রুপার পানি দিয়ে ধৌত করে বদনজর কাটানোর চেষ্টা করা হয়। যদিও এগুলো বদনজর রোধ করার ইসলামসম্মত পদ্ধতি নয়। তথাপি বদনজর লাগার বিষয়টিও একেবারেই অবাস্তব বা কুসংস্কার নয়। বাস্তবিক অভিজ্ঞতাকে প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান দিয়ে মাপা যায় না। পবিত্র কোরআন ও হাদিস থেকে জানা যায়, কুদৃষ্টি বা বদনজর লেগে যাওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত সত্য।

মানুষের চোখ লাগা (কুদৃষ্টি) এবং এর ফলে অন্য মানুষ বা জন্তু-জানোয়ারের ক্ষতি হওয়া সত্য। এটা মূর্খতাসুলভ কুসংস্কার নয়। এক আয়াতে এসেছে : ‘কাফিররা যখন কোরআন শোনে, তখন তারা যেন তাদের তীক্ষ দৃষ্টি দিয়ে তোমাকে আছড়িয়ে ফেলবে…। ’ (সুরা : কলম, আয়াত : ৫১)

এ আয়াতে কুদৃষ্টির প্রভাবের বিষয়ে ইঙ্গিত আছে। রাসুলুল্লাহ (সা.)ও বদনজরের প্রভাবকে সত্য বলে উল্লেখ করেছেন। এক হাদিসে এসেছে : ‘অশুভ দৃষ্টির প্রভাব সত্য। যদি কোনো কিছু ভাগ্যের লিখনকে অতিক্রম করত, তাহলে অশুভ দৃষ্টিই তা করতে পারত। ’ (মুসলিম, হাদিস : ৫৮৩১; ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৬৩৯)

নবী করিম (সা.) আরো ইরশাদ করেছেন, ‘অশুভ দৃষ্টি মানুষকে কবরে এবং উটকে পাতিলে প্রবেশ করিয়ে ছাড়ে। ’ (সহিহুল জামে, হাদিস : ৪১৪৪)

এসব আয়াত ও হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় যে কুদৃষ্টি বা বদনজর অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর হয়। ক্ষতিকর ওষুধ কিংবা খাদ্য যেমন মানুষকে অসুস্থ করে, শীত ও গ্রীষ্মের তীব্রতায় যেমন রোগব্যাধির জন্ম নেয়, ঠিক তেমনি কুদৃষ্টিরও বিশেষ প্রভাব আছে। তবে এ ক্ষেত্রে এই বিশ্বাস রাখতে হবে, দৃষ্টিশক্তির মধ্যে এমন ক্ষমতা মহান আল্লাহই দান করেছেন। তাই মানুষের উচিত আল্লাহর ওপর ভরসা করা, তাঁর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments