Monday, May 16, 2022
spot_img
Homeজাতীয়ফুরফুরে মেজাজে আইভী-তৈমুর

ফুরফুরে মেজাজে আইভী-তৈমুর

মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণার পর বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২ হেভিওয়েট মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াত আইভী ও অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার। যাচাই বাছাইয়ের শেষ দিনে এ দুজন ছাড়া মেয়র পদে মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে আরও ৪ জনের।

এদিকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর পক্ষে কাজ করার জন্য দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয় নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডি কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সঙ্গে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের যৌথ সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে নেতাকর্মীদের এই নির্দেশনা দেন তিনি।

এই নির্দেশনার পর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সোমবার সন্ধ্যা থেকেই নেতাকর্মীদের বেশ ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারকে সমর্থন দিয়েছে বাংলাদেশ লেবার পার্টি। এর আগে রোববার নাগরিক ঐক্যের নেতা ও আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক এমপি এসএম আকরাম ঘোষণা দিয়ে তৈমুরকে সমর্থন জানিয়েছিলেন।

তৈমুরপন্থী নেতারা বলছেন, জেলার সাবেক বিএনপিদলীয় এমপিরা ইতোমধ্যেই কেন্দ্র থেকে তৈমুরের পক্ষে মাঠে নামার নির্দেশনা পেয়েছেন। প্রতীক পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় বিএনপি ও অঙ্গ দলের সকল শীর্ষ নেতারাই নারায়ণগঞ্জে আসবেন।

জানা গেছে, সোমবার দুপুরে ধানমন্ডি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী সেলিনা হায়াত আইভী। সেখানে কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই,  সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, সহস সভাপতি চন্দন শীল, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবু, সাবেক নারী আসনের সংসদ সদস্য হোসনে আরা বাবলীসহ মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী ওই সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি বক্তব্যের শুরুতে উপস্থিত সব নেতাকর্মীকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বাংলাদেশ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হয়েছি। এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। সকল নেতা-কর্মীকে একসাথে কাজ করতে হবে। এতে কোনো ভেদাভেদ আমি চাই না। আমি চাই, সবাই এক হয়ে কাজ করবে। নৌকাকে জেতাতে হবে। একটাই কথা হচ্ছে, নৌকাকে জেতাতে হবে।’

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী আরও বলেন, ‘হয়তো কারও পছন্দ-অপছন্দ আছে। কিন্তু একজনই তো নমিনেশন পাবে। আমরা একজনকেই নমিনেশন দিছি। সবাইকে নৌকার পক্ষে কাজ করতে হবে। নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে। যেন আমরা এগিয়ে যেতে পারি।’

সভায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা ভার্চুয়ালি অংশ নেন। সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর অপর সদস্য আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সদস্য মারুফা আক্তার পপি প্রমুখ।

এদিকে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি নেতা তৈমুর আলম খন্দকার গণমাধ্যমের কাছে বলেছেন, আপনারা জানেন নির্বাচন কমিশন সকল যাচাই বাছাই করে আমার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে। মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করার পর আমি যাদের নিয়ে সর্বপ্রথম আমার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করেছি সেইসব রিকশাচালক, হকার, কুলি-মজুরসহ সব পেশার শ্রমিকদের সালাম জানাতে এসেছি। এসে দেখলাম এদিক দিয়ে পুলিশ আসলে হকার ওইদিক দিয়ে দৌড় দেয়, ওই দিক দিয়া আসলে এদিক দিয়া দৌড় দেয়।

তিনি বলেন, আমার মনে হলো নারায়ণগঞ্জে হকাররা চোর-পুলিশ খেলছে। তাই আমি এক পুলিশ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করেছি এগুলো কেন, সে বললো নারায়ণগঞ্জে এখন তো চোর পুলিশ খেলা হচ্ছে।

তৈমুর আলম বলেন, আসলে নারায়ণগঞ্জে চলছে আলাল দুলালের খেলা। এমপি ডানে গেলে মেয়র যায় বামে। জনগণের সমস্যা সমাধানের জন্য এ দুইজনকে বসতে হবে। কারো সঙ্গে আমার রাজনৈতিক বিরোধ থাকতে পারে, কারো সঙ্গে পেশাগত বিরোধ থাকতে পারে, কারো সঙ্গে মনোমালিন্য থাকতে পারে, কিন্তু জনস্বার্থে কারো সঙ্গে বসতে আমার আপত্তি নাই। এমপিদের সঙ্গেও বসতে আপত্তি নাই, কাউন্সিলরদের সঙ্গে বসতেও আমার আপত্তি নাই।

তিনি বলেন, হকার নারায়ণগঞ্জের জনগণের একটি অংশ। তাদেরও পেট আছে, তাদেরও ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া করে। তাই তাদেরও একটি আয়ের ব্যবস্থা করতে হবে, জোর কইরা তাদের বিদায় করা যাবে না। আর যাতে নারায়ণগঞ্জের মানুষরাও সুন্দর ভাবে চলাফেরা করতে পারে আলাপ আলোচনা করে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। আলাল দুলালের খেলা খেললে হবে না, খেলতে হবে জনস্বার্থে, খেলা হবে জনস্বার্থে।

অপরদিকে প্রতিদিনকার মতো সোমবারও শহরের বিভিন্ন এলাকায় হেঁটে হেঁটে গণসংযোগ করেছেন তৈমুর আলম খন্দকার। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীসহ সমর্থকরা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments