Thursday, January 27, 2022
spot_img
Homeআন্তর্জাতিকপ্রায় তিন বছর কারাবাসের পর বাড়ি ফিরলেন সৌদি রাজকুমারী

প্রায় তিন বছর কারাবাসের পর বাড়ি ফিরলেন সৌদি রাজকুমারী

তিন বছর রাষ্ট্রীয় কারাগারে থাকার পর অবশেষে জেদ্দায় তার নিজের বাড়িতে ফিরলেন মানবাধিকার নিয়ে লড়াই করা সৌদি রাজকুমারী বাসমাহ বিনতে সৌদ বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ । দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে মানবাধিকার এবং বিশেষত নারীদের এখতিয়ার নিয়ে কথা বলতেন ৫৭ বছরের এই রাজকুমারী। যে দেশে পোশাক থেকে শুরু করে গাড়ি চালানোর অধিকার, সব ক্ষেত্রেই গণ্ডি টেনে দিয়েছে প্রশাসন সেখানে মুখ খোলার জন্য তাঁকে রাজপরিবারের রোষের মুখে যে পড়তে হবেই, তা অনুমেয় ছিল। বাস্তবে হয়েছিলও তাই। রাজকন্যা হওয়া সত্ত্বেও রাজকুমারী বাসমাহ বিনতে-র ঠাঁই হয় রাজনৈতিক বন্দিদের সঙ্গে কারাগারে। গ্রেফতারের সময় সঙ্গে থাকায় মায়ের সঙ্গে বন্দি হতে হয় তাঁর মেয়ে সুহুদ আল-শারিফকেও। তবে বছর তিনেকের সেই বন্দিদশা কাটিয়ে সম্প্রতি মুক্তি পেলেন এই দু’জনেই। এর নেপথ্যে নাকি রয়েছেন সৌদির যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমন।এই কারাবাসকে কেন্দ্র করে সৌদি কর্মকর্তারা কার্যত মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন।

২০১৯ সালের মার্চ মাসে চিকিৎসার জন্য সুইৎজ়ারল্যান্ডে যাওয়ার পথে উধাও হয়ে যান রাজকুমারী বাসমা। হঠাৎ ১৩ মাস নিখোঁজ থাকার পরে টুইটারে তার গ্রেপ্তারের ঘোষণা করে  রাজকুমারী বাসমাহ দাবি করেছিলেন যে, তিনি কোনও ভুল করেননি এবং বলেছিলেন যে তিনি “খুবই গুরুতর” স্বাস্থ্য সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। ২০২০ সালের এপ্রিলে তার টুইটগুলি সামনে আসার পর দ্রুত সেগুলি মুছে ফেলা হয়েছিল। আদতে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাঁকে কোনও অভিযোগ ছাড়াই! এপ্রিলে প্রথম পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন বাসমা। জানাতে পারেন যে সুইৎজারল্যান্ডের বিমান ধরার আগেই তাঁকে ধরে নিয়ে আসা হয়েছে। বলে হয়েছিল পাসপোর্ট নিয়ে কারচুপির দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে বাসমাদের। যা কি না একেবারেই মিথ্যে বলে জানিয়েছেন তাঁর আত্মীয়রা।
তাঁদের বক্তব্য , সৌদির দ্বিতীয় শাসক রাজা সৌদের কনিষ্ঠ কন্যা এই রাজকুমারী বাসমা। রাজকুমারী বিশেষ করে যুবরাজ মোহাম্মদের নেতৃত্বে ভিন্নমত ও ক্ষমতা একত্রীকরণের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের বিষয়ে সোচ্চার ছিলেন। সেইসঙ্গে মহিলাদের প্রতি রাজ্যের আচরণেরও সমালোচনা করতেন তিনি। ভেবেছিলেন যে তার পারিবারিক প্রতিপত্তি হয়তো তাঁকে রক্ষা করবে। কিন্তু মোহাম্মদ বিন সালমান তার চেয়ে বড় পরিবারের সদস্যদের যখন আটকে রেখেছেন, তখন রাজকুমারী বাসমাহ-কে কি করে ছেড়ে দিতেন ?”

রাজকুমারীর ভাগ্যে নেমে আসে কারাবাসের সাজা। বাসমার মুক্তি পাওয়ার কথা জানিয়ে টুইট করেছে একাধিক মানবাধিকার সংগঠন। রাজকুমারীর আইনজীবী হেনরি এসট্রামান্টের কথায়, ‘‘বাসমা এবং তাঁর মেয়ে সুহুদ জেদ্দায় তাঁদের বাড়িতে ফিরে গিয়েছেন গত ৬ জানুয়ারি।’’ মুক্তির পর, দেশের মানবাধিকার সংগঠন ALQST বলেছে: ” জেলের মধ্যে জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে তাই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে নিজেকে বঞ্চিত করে রেখেছিলেন রাজকুমারী । কারণ তাঁর গ্রেফতারের পেছনে কি কারণ তাঁকে বলাই হয় নি। ” ২০২০ সালে জাতিসংঘের কাছে লিখিত সাক্ষ্যদানে, বাসমা-র পরিবার বলেছিল যে রাজকুমারী স্পষ্টভাষী হওয়ার কারণেই তাঁকে আটকে রাখা হয়েছে।

সূত্র : দা গার্ডিয়ান

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments