Friday, December 3, 2021
spot_img
Homeধর্মপ্রযুক্তি ও মানবমস্তিষ্ক

প্রযুক্তি ও মানবমস্তিষ্ক

এখন প্রযুক্তির যুগ। প্রতিদিন আমাদের সামনে হাজির হচ্ছে নতুন নতুন শক্তিশালী প্রযুক্তি, যা দেখে আমরা বিস্মৃত হই। অথচ আমাদের ভেতরেই মহান আল্লাহ এত বড় বড় বিস্ময় রেখে দিয়েছেন, যা আমরা জানিই না।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আল্লাহ তোমাদের নির্গত করেছেন তোমাদের মাতৃগর্ভ থেকে এমন অবস্থায় যে তোমরা কিছুই জানতে না এবং তিনি তোমাদের দিয়েছেন শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি এবং হৃদয়, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। (সুরা : নাহাল, আয়াত : ৭৮)

জন্মকালে মানবসন্তান যত বেশি অসহায় ও অজ্ঞ হয়, এমনটি অন্য কোনো প্রাণীর ক্ষেত্রে হয় না। কিন্তু শুধু আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞানের উপকরণাদির (শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, বিবেক ও চিন্তাশক্তি) সাহায্যেই সে উন্নতি লাভ করে পৃথিবীর সব বস্তুর ওপর প্রাধান্য বিস্তার এবং তাদের ওপর রাজত্ব করার যোগ্যতা অর্জন করে। এ কারণেই মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মস্তিষ্ক কাজে লাগিয়ে বেশি বেশি চিন্তা-গবেষণা করার তাগিদ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা কি নিজেদের নিয়ে ভাববে (চিন্তা-গবেষণা) করবে না?’ (সুরা জারিয়াত, আয়াত : ২১)

মানুষের মস্তিষ্কে আছে ১০০ বিলিয়নেরও বেশি নিউরন বা নার্ভ সেল। একটি গমের দানার সমপরিমাণ মস্তিষ্ক টিস্যুতে এক লাখের মতো নিউরন থাকে, যেগুলো পরস্পরের সঙ্গে এক বিলিয়ন বন্ধন তৈরি করে। মস্তিষ্কে প্রায় ১০ হাজার রকমের নিউরন রয়েছে। মস্তিষ্কের আদেশ এসব নিউরনের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক তরঙ্গের আকারে পৌঁছে। এসব তরঙ্গের গতি ঘণ্টায় ৪০০ কিলোমিটার বা তারও বেশি। প্রতিদিন মস্তিষ্কে ১২ থেকে ২৫ ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে। লো  ভোল্টেজের খঊউ জ্বালানোর জন্য যথেষ্ট। আর শরীরের যেকোনো অঙ্গের চেয়ে মস্তিষ্কে অনেক বেশি পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়। আমরা শরীরের প্রয়োজনে যে খাবার খাই, তার পাঁচ ভাগের এক ভাগই খরচ হয় মস্তিষ্কের শক্তি উৎপাদনের পেছনে। এই খাদ্য ও অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়ার জন্য ১০৪০-৮০ লিটার রক্ত পরিবাহিত হয় ২৪ ঘণ্টায়।

মস্তিষ্কের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মহান আল্লাহ তাতে একটি পর্দা দিয়েছেন, যার নাম ব্লাড-ব্রেইন-ব্যারিয়ার। রক্ত থেকে মস্তিষ্কে কী যাবে, তা নিয়ন্ত্রণ করে এই পর্দা। ক্ষতিকর পদার্থ এই পর্দা ভেদ করে সাধারণত যেতে পারে না। তবে নিকোটিন কিংবা অ্যালকোহলকে বাধা দিতে পারে না সে। হয়তো এ কারণেই মহান আল্লাহ মদ, অ্যালকোহলসহ সব মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকারক জিনিস হারাম করেছেন।

মজার কথা হলো, মস্তিষ্কে ২২ লাখ সেল আছে। মানুষ তার মাত্র ৩ শতাংশ ব্যবহার করে। খুব বেশি মেধাবীরাও ১০ থেকে ১১ শতাংশের বেশি ব্যবহার করে না। সুবহানাল্লাহ!

আমাদের মোবাইল ফোন কিংবা কম্পিউটারে যেমন মেমোরি স্পেস থাকে, তেমনি আমাদের মস্তিষ্কেরও মেমোরি স্পেস আছে। মস্তিষ্কের মেমোরি স্পেস নিয়ে গবেষণা তথ্য নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজির অধ্যাপক ড. পল রেবার উল্লেখ করেছেন, মানুষের মস্তিষ্কে রয়েছে ১০০ কোটি বা এক বিলিয়ন নিউরন। প্রতিটি নিউরন একে অপরের সঙ্গে গড়ে তুলেছে ১ হাজার সংযোগ, যার গাণিতিক সংখ্যা হবে এক ট্রিলিয়নের বেশি।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, যদি প্রতিটি নিউরন একটি করে মেমোরি ধারণ করে তা হলেও কারো জীবদ্দশায় কখনো মেমোরি স্পেস শেষ হবে না; বরং একেকটা নিউরন অসংখ্য মেমোরি ধারণ করতে সক্ষম।

তিনি আরো বলেন, অধ্যাপক পল রেবর উল্লেখ করেছেন, ব্রেন যদি কোনো সর্বাধুনিক ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডারের মতো মেমোরি ধারণ করে, তাহলে সেই মেমোরি যদি কোনো টিভিতে অবিরাম সমপ্রচার করা হয়, তাহলে তিন শতাধিক বছর লাগবে তা প্রচার করতে।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ব্রেনের মেমোরি ধারণক্ষমতা কমপক্ষে ২.৫ পেটাবাইট অথবা ১ মিলিয়ন জিবি বা ১০ লাখ গিগাবাইট ধারণক্ষমতা রয়েছে মস্তিষ্কের মেমোরি কার্ডের।

মহান আল্লাহ এত বড় বড় নিয়ামত আমাদের দিয়ে রেখেছেন যে তাঁর একটি নিয়ামতের শুকরিয়া জ্ঞাপন করার জন্য আমাদের গোটা জীবনটাও যথেষ্ট নয়। তাই আমাদের উচিত, জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত মহান আল্লাহর নির্দেশিত পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments