যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশি নির্যাতনে কৃষাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড নিহতের পর বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। এবার তার আগেও ড্যানিয়েল প্রুডে নামে আরেক কৃষাঙ্গকে হত্যার অভিযোগ উঠল দেশটির পুলিশের বিরুদ্ধে। গত মার্চে নিউইয়র্ক পুলিশের হাতে নিহত হওয়া প্রুডের হত্যার দৃশ্য গতকাল বুধবার প্রকাশ্যে আসে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, গতকাল বুধবার নিউইয়র্ক পুলিশের বডিক্যামে ড্যানিয়েল প্রুডের হত্যার দৃশ্য উঠে আসে। হত্যার ছয় মাস পর ভিডিও প্রকাশ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছে ড্যানিয়েল প্রুডের পরিবার। ড্যানিয়েলকে কীভাবে আটক করা হয়েছিল এবং তাকে কীভাবে হত্যা করা হয় তা ওই ভিডিওটিতে উঠে আসে।

ড্যানিয়েল প্রুডের ভাই জোয়ে প্রুড গত ২৩ মার্চ ৯১১ নম্বরে ড্যানিয়েল প্রুডের মানসিক অবস্থার কথা জানিয়ে সাহায্য চেয়েছিলেন। ওইদিন বিকেল ৩টার দিকে ড্যানিয়েল প্রুডে বিবস্ত্র অবস্থায় রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছিলেন। ড্যানিয়েল প্রুডে ওইদিন তার ভাই জোয়ে প্রুডের বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়েছিলেন। হাসপাতালে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্টেও দেখা যাচ্ছে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।

জোয়ে প্রুডে পুলিশকে বলেছিলেন, তার ভাইকে যেন হত্যা না করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, জোয়ে প্রুডে নিজের ভাইকে বাঁচানোর জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথোপকথন চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ, পুলিশের পাঁচজন সদস্য তার ভাই ড্যানিয়েল প্রুডে হাতকড়া পরিয়ে ঘিরে রেখেছে। ড্যানিয়েল একপর্যায়ে চিৎকার করে নিজেকে করোনা আক্রান্ত দাবি করে পুলিশের গায়ে থুথু দিতে শুরু করেন। এরপর একজন কর্মকর্তা তার মুখে মুখোশ পরিয়ে দেয়। তারপর মাটিতে ফেলে ঘাড়ে হাঁটু চেপে ধরে।

এ সময় ড্যানিয়েল প্রুডে পুলিশকে বলেন, ‘আপনি আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করছেন।’

পুলিশ কর্মকর্তা মার্ক ভগন, ট্রয় টালাডে মিলে তাকে চেপে ধরে রাখেন। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে ড্যানিয়েলকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ‘ব্রেন ডেড’ হিসেবে রিপোর্ট আসে। এর সাতদিন পর ড্যানিয়েল মারা যান।

ড্যানিয়েল প্রুডের ভাই জোয়ে প্রুড দাবি করেন, ‘পুলিশ ঠান্ডা মাথায় আমার ভাইকে হত্যা করেছে। আমার ভাইকে নিকৃষ্ট প্রাণী হিসেবে গণ্য করেছে পুলিশ।

তিনি বলেন, ‘এসব বন্ধ হওয়াটা যে খুবই দরকার,সেটা বোঝার আগে আরো কতো ভাই মারা যাবে,কে জানে! আমি আমার ভাইকে সাহায্যের জন্য ফোন কল করেছিলাম, তাকে শেষ করে দেওয়ার জন্য নয়।’

নিউইয়র্কের রচেস্টারের মেয়র ভিডিওটি দেখে পুলিশের ওপর বিরক্ত হয়ে বলেন, ‘আমি কেবল তার পরিবারকে সহানুভূতি এবং সমানুভূতি জানাতে পারি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

English