Sunday, August 14, 2022
spot_img
Homeআন্তর্জাতিকপুতিনের নেতৃত্বে অনন্য উচ্চতায় রাশিয়া

পুতিনের নেতৃত্বে অনন্য উচ্চতায় রাশিয়া

ইউক্রেনে অভিযানের শুরুতে অনেকেই মনে করেছিলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন উত্তেজনাপূর্ণ,ক্ষুব্ধ এবং এমনকি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সে সময় তিনি কিছুদিন আড়ালেও ছিলেন। কিন্তু জুন মাসে, পুতিন নতুন করে আবির্ভূত হয়েছেন, যা অনেকটা তার যুদ্ধপূর্ব চিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ: স্বাচ্ছন্দ্য, ধৈর্যশীল এবং আত্মবিশ্বাসী।
তরুণদের উদ্দেশ্যে দেয়া বক্তৃতায় তিনি নিজেকে রাশিয়ার প্রথম সম্রাট পিটার দ্য গ্রেটের সাথে তুলনা করেছিলেন। এর পর একটি অর্থনৈতিক সম্মেলনে তিনি এই ধারণাটি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন যে, নিষেধাজ্ঞা রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে বরং বলেছিলেন যে, এটি পশ্চিমাদের আরও বেশি ক্ষতি করছে। এবং বুধবার, তিনি তুর্কমেনিস্তানে পাঁচ দেশের সাথে শীর্ষ বৈঠকে গর্ব ও আত্মবিশ্বাসের সাথে যোগ দেন।

ইউক্রেন আক্রমণের পর এটি ছিল পুতিনের প্রথম বিদেশ সফর। স্পেনে ন্যাটো সম্মেলনের পাল্টা হিসাবে তিনি এ বৈঠক করেন বলে মনে করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে পুতিন রাশিয়ানদের এবং বিশ্বকে একটি বার্তাও পাঠিয়েছেন যে, ইউক্রেনে যুদ্ধ সত্ত্বেও, ক্রেমলিনের প্রভাব বাড়ছে। এ সফরটি ছিল পুতিনের বৃহত্তর রূপান্তরের সর্বশেষ পদক্ষেপ যা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তিনি যুদ্ধকালীন সঙ্কট মোকাবেলা করেছেন একজন শান্ত, পিতৃতান্ত্রিক নেতার মতো করে, যিনি রাশিয়ানদের বিশ্বের বিপদ থেকে রক্ষা করেন। তিনি অত্যান্ত দক্ষতার সাথে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার স্রোত কাটিয়ে যুদ্ধ প্রচেষ্টা এবং তার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করেছেন।
এ সপ্তাহে পুতিনের বার্তার মূল চাবিকাঠি হল যে, রাশিয়াকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্নতা করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। এবং ন্যাটো সম্মেলনের ঘোষণাগুলো – ইউক্রেনকে সমর্থন করার এবং জোটের পূর্ব দিকের অংশকে শক্তিশালী করার সংকল্প – তার জন্য তেমন উদ্বেগের বিষয় নয়। বুধবার, পুতিন কাস্পিয়ান সাগরকে ঘিরে থাকা পাঁচটি দেশের নেতাদের এক সমাবেশের জন্য তুর্কমেনিস্তানে উড়ে গেছেন, যার মধ্যে আজারবাইজান, কাজাখস্তান এবং ইরানও রয়েছে। শীর্ষ সম্মেলনটি ব্যবহারিক তাৎপর্যপূর্ণ কারণ রাশিয়া অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, শক্তি সমৃদ্ধ অঞ্চলে তার প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে, যখন কাছাকাছি আফগানিস্তান থেকে আমেরিকান প্রত্যাহারের ফলে শক্তির শূন্যতা পূরণ করতে চাইছে।

পরবর্তীতে, পুতিন একটি সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে এ ধারণাটিকে খারিজ করে দেন যে, ইউক্রেনে তার অভিযান বন্ধ হতে পারে কারণ, সুইডেন এবং ফিনল্যান্ড ন্যাটোতে যোগদান করতে যাচ্ছে। একটি পশ্চিমা-মিত্র ইউক্রেন, তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, দুটি নর্ডিক দেশের চেয়ে অনেক বেশি হুমকি হবে। পুতিনকে নিয়ে পশ্চিমাদের যে ভবিষ্যদ্বাণী ছিল যে, তিনি একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা করবেন এবং একটি সামরিক খসড়া স্থাপন করবেন তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরিবর্তে, পুতিনের কৌশলে এখন পশ্চিমা সংকল্প অর্থনৈতিক চাপে নড়বড়ে হয়ে যাবে এবং রাশিয়া তার বাহিনী ও শহরগুলিকে আঘাত করার কারণে ইউক্রেনের জেলেনস্কির সরকার ভেঙে পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

পুতিন বুধবার তুর্কমেনিস্তানে তার আট মিনিটের বক্তৃতায় ইউক্রেন বা পশ্চিমের সাথে তার শোডাউনের কথা উল্লেখ করেননি। পরিবর্তে তিনি এ অঞ্চলে পরিবহন ও পর্যটনের উন্নতি এবং দূষণ ও ক্ষয়প্রাপ্ত মৎস্যসম্পদ মোকাবেলায় রাশিয়ার প্রচেষ্টার কথা বলেছেন। এটি আরেকটি লক্ষণ যে, পুতিন কীভাবে রাশিয়াকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনছেন এবং ব্যণিজ্য সম্প্রসারণ করছেন। তিনি বলেন, প্রথম ক্যাস্পিয়ান ক্রুজ জাহাজটি আগামী বছর রাশিয়ার আস্ট্রখান অঞ্চল থেকে ভলগা নদীর ব-দ্বীপে যাত্রা করবে। জাহাজের নাম: পিটার দ্য গ্রেট।
ন্যাটো সবার কাছে নিঃশর্ত আনুগত্য আশা করে : মাদ্রিদে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন আবারও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ন্যাটোর সদস্যরা বিশ্বের বাকি দেশগুলোর কাছ থেকে তাদের ইচ্ছার প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য আশা করে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বৃহস্পতিবার তার বেলারুশিয়ান সমকক্ষ ভøাদিমির মেকির সাথে একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন। ‘আমি বিশ্বাস করি যে তারা যা প্রত্যাশা করে তা প্রত্যেকের কাছেই স্পষ্ট। তারা এটি সম্পর্কে কথা বলতে দ্বিধা করে না, এবং তারা বুধবার মাদ্রিদে ন্যাটো সম্মেলনের সময় এটি আবারও বলেছিল। তারা সমস্ত রাষ্ট্রের কাছ থেকে তাদের ইচ্ছার প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য আশা করে, যা তাদের উদ্দেশ্য প্রতিফলিত করে। সেটি হচ্ছে তাদের অহংকারী স্বার্থ – প্রাথমিকভাবে, মার্কিন স্বার্থ,’ ল্যাভরভ বলেছেন।

লুহানস্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে অভিযান শুরু : লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিক (এলপিআর) এর বাহিনী এবং রাশিয়ান সৈন্যরা লুহানস্ক এবং ডোনেৎস্ক অঞ্চলে বেশ কয়েকটি বসতি মুক্ত করার পর সেভার্সক শহরের দিকে আক্রমণ শুরু করেছে। শুক্রবার এলপিআর পিপলস মিলিশিয়ার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। সেভার্সক শহরটি কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়ায় এলপিআর রাষ্ট্রদূত রডিয়ন মিরোশনিক এর আগে বলেছিলেন যে, লিসিচানস্ক এবং সøাভিয়ানস্ক শহরের আশেপাশের এলাকাগুলো থেকে পালিয়ে যাওয়া কয়েক হাজার ইউক্রেনীয় সেনা সেভার্সকে জড়ো হতে পারে।

ইইউতে যোগ দিতে ইউক্রেনকে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হবে : ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের জন্য ইউক্রেনের প্রার্থীর মর্যাদা এমন কিছু যা মাত্র পাঁচ মাস আগে কল্পনা করা কঠিন ছিল এবং সদস্য হওয়ার আগে দেশটিকে এখনও অনেক পথ যেতে হবে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেইন গতকাল ইউক্রেনের সংসদে এক বক্তৃতায় বলেছেন। ‘ইউক্রেন ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের জন্য একটি প্রার্থী দেশ, যা মাত্র পাঁচ মাস আগে প্রায় অকল্পনীয় মনে হয়েছিল,’ তিনি ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে বক্তৃতায় বলেছিলেন, ‘ইউক্রেনের জন্য সামনে একটি দীর্ঘ পথ রয়েছে তবে ইউরোপ প্রতিটি পদক্ষেপে আপনার পাশে থাকবে। প্রতিটি সংস্কারের জন্য, যতক্ষণ সময় লাগে,’ ইসি সভাপতি বলেন। সূত্র: তাস।

সুইডেন, ফিনল্যান্ডকে হুমকি এরদোগানের : সুইডেন ও ফিনল্যান্ডকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান। তিনি বলেছেন, তুরস্ক যে ৭৩ জন ‘জঙ্গি’কে চাইছে, তাদের না দিলে সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের ন্যাটোর সদস্য পদ পাওয়া এখনও বন্ধ করতে পারে তারা। বৃহস্পতিবার ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে এরদোগান বলেন, সুইডেন তাদের হাতে ৭৩ জনকে তুলে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এরা সকলেই হয় কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) বা যুক্তরাষ্ট্র-প্রবাসী ধর্মীয় নেতা ফতেউল্লাহ গুলেনের সমর্থক। ফতেউল্লাহ ২০১৬ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পিছনে ছিলেন বলে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের দাবি।

মাদ্রিদে ন্যাটোর শীর্ষবৈঠকের পর এরদোগান বলেছেন, ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের সঙ্গে তুরস্কের দশ দফা চুক্তি হয়েছে। এটা পুরোপুরি তাদের কূটনৈতিক সাফল্য। সন্ত্রাসবাদের বিপদ নিয়ে তাদের উদ্বেগ মেনে নিয়েছে দুই দেশ। এরদোগান বলেছেন, ‘যদি সুইডেন ও ফিনল্যান্ড এই চুক্তি থেকে পিছনে সরে যায়, তাহলে তুরস্কের পার্লামেন্ট এই চুক্তিকে অনুমোদন করবে না। তাহলে ওরাই বিপদে পড়বে।’ তুরস্কের প্রেসিডেন্টের দাবি, ‘সুইডেন ও ফিনল্যান্ডকে তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে। না করলে, আমরাও চুক্তি পার্লামেন্টে পাঠাবো না।’ গত মে মাসে এরদোগান জানিয়েছিলেন, তুরস্কের জাতীয় সুরক্ষার পক্ষে বিপজ্জনক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে সমর্থন চালিয়ে গেলে সুইডেন ও ফিনল্যান্ডকে ন্যাটোর সদস্য হতে দেবে না তুরস্ক।

এ বিষয়ে সুইডেনের বিচারমন্ত্রী বলেছেন, সুইডেনে স্বাধীন বিচারবিভাগ এই আইন রূপায়ণ করে। কোনো সুইডিশ নাগরিককে অন্য কোনো দেশের হাতে তুলে দেয়া যায় না। যারা সুইডেনের নাগরিক নয়, অন্য দেশ চাইলে তাদের হাতে দেয়া যেতে পারে। কিন্তু তা সুইডেনের আইন এবং ইউরোপীয় রীতি মেনেই। ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, অন্য দেশের হাতে কাউকে তুলে দিতে গেলে তাদেরও আইন মেনে এগোতে হয়। সেক্ষেত্রে নিজেদের আইন এবং আন্তর্জাতিক চুক্তির কথা মাথায় রাখতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনীতিক কোনোভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারেন না। সূত্র : ডয়চে ভেলে, নিউইয়র্ক টাইমস, আল-জাজিরা, তাস।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments