Monday, May 20, 2024
spot_img
Homeনির্বাচিত কলামপাহাড়ে আবারও সহিংসতা

পাহাড়ে আবারও সহিংসতা

পাহাড়ে আবারও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বান্দরবানে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে তিন সন্ত্রাসী ও এক সেনা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরেক সেনা কর্মকর্তা।

বুধবার রাত সাড়ে দশটার দিকে রুমা উপজেলার দুর্গম রাইক্ষ্যং পুকুরের পার্শ্ববর্তী বাতিপাড়া এলাকায় ঘটেছে এ ঘটনা। জানা গেছে, জনসংহতি সমিতির চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের উপস্থিতির খবর পেয়ে বাতিপাড়া এলাকায় অভিযান চালায় সেনাবাহিনীর একটি দল।

এ সময় জুম ঘরে অবস্থান নেওয়া সন্ত্রাসীরা সেনাবাহিনীর সদস্যদের ওপর অতর্কিতে গুলি ছোড়ে। এতে সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাবিবুর রহমান গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। আত্মরক্ষায় সেনাসদস্যরা পাল্টা গুলি চালালে জনসংহতি সমিতির তিন সশস্ত্র সদস্যের মৃত্যু ঘটে।

উল্লেখ করা যেতে পারে, পাহাড়ে জনসংহতি সমিতিসহ অনেক সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তারা চাঁদাবাজি, খুন, অপহরণ, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। আবার বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপ পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-সংঘাতে লিপ্ত রয়েছে। জমি নিয়ে বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টাই এই দ্বন্দ্ব-সংঘাতের মূল কারণ।

১৯৯৭ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির পর আশা করা হয়েছিল পার্বত্য অঞ্চলে শান্তির সুবাতাস বইবে। কিন্তু তা হয়নি। বরং চুক্তির পক্ষাবলম্বনকারী ও বিরোধিতাকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন সহস্রাধিক মানুষ। পার্বত্য চট্টগ্রামে পুলিশ, র‌্যাব, এমনকি সেনাবাহিনীর সদস্যরাও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত রয়েছেন।

তাদের উপস্থিতিতেই কীভাবে চাঁদাবাজি ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে, তা এক প্রশ্ন বটে। তবে কি পাহাড়ি এলাকায় কখনোই উত্তেজনা প্রশমিত হবে না? পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে কী কী বিষয় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বৈকি! বলার অপেক্ষা রাখে না, পার্বত্য অঞ্চলের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা দেশের অপরাপর অঞ্চলের চেয়ে ভিন্ন। ফলে এখানকার সংকটের চরিত্রও ভিন্ন।

এ ভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য দরকার বিশেষ অন্তর্দৃষ্টি। পার্বত্য অঞ্চলের চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, খুন, অপহরণ ইত্যাদিসহ বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে বিরাজমান বৈরীমূলক সম্পর্কের কীভাবে ইতি টানা যায়, তা নিয়ে গভীরভাবে ভাবার অবকাশ রয়েছে। আমরা পাহাড়ি এলাকায় স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে সরকারসহ সমগ্র দেশবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments