Wednesday, April 17, 2024
spot_img
Homeনির্বাচিত কলামপাসপোর্ট নবায়নে দুর্নীতি, ঘুস বাণিজ্য কঠোরভাবে রোধ করতে হবে

পাসপোর্ট নবায়নে দুর্নীতি, ঘুস বাণিজ্য কঠোরভাবে রোধ করতে হবে

দেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত সেবা খাতগুলোর অন্যতম হলো পাসপোর্ট খাত। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) খানা জরিপ ২০২১ অনুযায়ী, গত বছর দুর্নীতিগ্রস্ত খাতগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে (৭০.৫ শতাংশ) ছিল এ খাত।

এ খাতের দুর্নীতি রোধে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের কথা আমরা শুনেছি। সেসব পদক্ষেপ কতটা ফলপ্রসূ হয়েছে অথবা আদৌ ফলপ্রসূ হয়েছে কিনা, সেই বিতর্কে না গিয়েও আমরা বলতে পারি, এ খাতে ঘুস বাণিজ্য ও হয়রানি অব্যাহত রয়েছে। যুগান্তরের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এ সংক্রান্ত নানা তথ্য। জানা গেছে, সরকার ই-পাসপোর্ট চালু করার পর সুযোগ সন্ধানীরা মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) নবায়নের নামে রমরমা ঘুস বাণিজ্যে মেতে উঠেছে। বিশেষ করে জাতীয় পরিচয়পত্রে তথ্যগত জটিলতার কারণে যারা ই-পাসপোর্ট করাতে পারছেন না, তারাই হচ্ছেন এর শিকার। ই-পাসপোর্ট এড়িয়ে মোটা অঙ্কের ঘুসের বিনিময়ে তারা নবায়ন করিয়ে নিচ্ছেন পুরোনো পাসপোর্ট। ক্ষেত্রবিশেষে এই ঘুসের পরিমাণ হয়ে থাকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। উদ্বেগের বিষয় হলো, যেসব অপরাধী ও রোহিঙ্গা জাল-জালিয়াতি করে জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়াই ভুয়া জন্মনিবন্ধন দিয়ে এমআরপি করিয়েছিল, তারাও এখন ঘুসের বিনিময়ে এমআরপি নবায়ন করিয়ে নিচ্ছে। তাছাড়া জানা গেছে, বিদেশে আত্মগোপনে থাকা প্রভাবশালী রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীরাও ঢাকা থেকে এমআরপি নবায়ন করিয়ে নিচ্ছেন।

যুগান্তরের অনুসন্ধানে দেশের বিশেষ কয়েকটি পাসপোর্ট অফিসে এ ঘুস বাণিজ্যের রমরমা অবস্থার প্রমাণ মিলেছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কুমিল্লা, কুষ্টিয়া ও মুন্সীগঞ্জ পাসপোর্ট অফিস। বস্তুত পাসপোর্ট অফিসের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার যোগসাজশে দালালরা এ তৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে দেশের পাসপোর্ট অফিসগুলোতে দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধি অভিযান চালানো জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করি আমরা।

হয়রানি ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা পাওয়া জনগণের সাংবিধানিক অধিকার হলেও বাস্তবতা হলো, দেশে বর্তমানে ঘুস ছাড়া কোনো সেবা পাওয়া যেন অলৌকিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। পাসপোর্ট অধিদফতরের আঞ্চলিক অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের লাগামহীন দুর্নীতি সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার খর্ব করছে এবং এর ফলে প্রান্তিক ও পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠী নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখার পরও দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রবাসী শ্রমিকরা পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে গিয়ে দুর্ভোগ ও হয়রানির শিকার হন। অথচ পাসপোর্ট অফিসের দুর্নীতিবাজদের কারণে একশ্রেণির মানুষ ঘুস দিয়ে অবৈধভাবে সেবা নিচ্ছেন। এ অবস্থা চলতে পারে না। সরকার ই-পাসপোর্ট চালু করেছে এ খাতে আরও স্বচ্ছতা আনার জন্য, যাতে ভুয়া তথ্য দিয়ে কেউ পাসপোর্ট পেতে না পারে। তবে এক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতার অবসান হওয়া উচিত, যাতে রাষ্ট্রের প্রকৃত নাগরিকরা সহজে ও হয়রানিমুক্তভাবে ই-পাসপোর্ট পেতে পারেন। এ জটিলতার অবসান হলে এমআরপি নবায়নের নামে ঘুস বাণিজ্য কমে আসবে বলে আমাদের বিশ্বাস। সেই সঙ্গে পাসপোর্ট অফিসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শাস্তি দেওয়াও জরুরি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments