কোরআন ও হাদিস থেকে জানা যায়, নেক আমল মানুষের পরকালের পাথেয়। পরকালে আমলের পূর্ণ প্রতিদান পাওয়া যাবে। কিন্তু কিছু বিশেষ আমল এমন আছে, যেগুলো পরকালে ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করবে। সেগুলো হলো—

রোজা ও কোরআন সুপারিশ করবে 

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, রোজা ও কোরআন বান্দার জন্য শাফাআত করবে। রোজা বলবে, হে রব, আমি তাকে দিনের বেলা খাবার গ্রহণ করতে ও প্রবৃত্তির তাড়না মেটাতে বাধা দিয়েছি। অতএব তার ব্যাপারে এখন আমার শাফাআত কবুল করুন। কোরআন বলবে, হে রব, আমি তাকে রাতের বেলা ঘুম থেকে বিরত রেখেছি। অতএব তার ব্যাপারে এখন আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন। অতঃপর উভয়ের সুপারিশই কবুল করা হবে। (মুসতাদারাক হাকিম, হাদিস : ২০৩৬, শুআ’বুল ঈমান, হাদিস : ১৮৩৯)

প্রতিদিন সুরা মুলক পাঠ

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কোরআনে ৩০ আয়াতবিশিষ্ট এমন একটি সুরা আছে, যা তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে এবং শেষ পর্যন্ত তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। আর সেটা হলো তাবা-রাকাল্লাজি বিয়াদিহিল মুলক (সুরা মুলক)।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৮৯১, আবু দাউদ, হাদিস : ১৪০০)

সুরা আল-বাকারা ও সুরা আলে ইমরান পাঠ

নাওয়াস ইবনে সামআন (রা.) বলেন, আমি নবী করিম (রা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘কিয়ামতের দিন কোরআন ও কোরআনের এমন তিলাওয়াতকারীদের আনা হবে, যারা কোরআনের ওপর আমল করেছে, এর অগ্রভাগে থাকবে সুরা বাকারা ও সুরা আলে ইমরান। নাওয়াস (রা.) আরো বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এই সুরা সম্পর্কে (এমন আশ্চর্যজনক) তিনটি উদাহরণ দিয়েছিলেন, যা আমি কখনো ভুলিনি। রাসুল (সা.) বলেছিলেন, ‘এই সুরা দুটি এমন হবে যেন দুটি কালো শামিয়ানা (ছায়া দানকারী চাদর) বা দুটি মেঘের খণ্ড, যার মাঝখানে আছে ঔজ্জ্বল্য। কিংবা তা ডানা মেলে উড়ে চলা দুটি পাখির ঝাঁকের মতো (ছায়াদানকারী হয়ে) হবে। সুরা বাকারা ও সুরা আলে ইমরান—এই সুরা দুটি পাঠকারী ব্যক্তির পক্ষে বিতর্ক করবে (অর্থাৎ তাদের পক্ষ নিয়ে যুক্তি দিতে থাকবে)। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৭৬১)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

English