Friday, November 26, 2021
spot_img
Homeনির্বাচিত কলামনীতি দুর্নীতি অর্থনীতি

নীতি দুর্নীতি অর্থনীতি

দ্রব্যমূল্যে অর্থনীতির তত্ত্ব খাটছে না কেন?

আমাদের দেশে কি বাজার অর্থনীতি কার্যকর নয়? অর্থনীতির চাহিদা-সরবরাহের নীতি কি আমাদের দেশের বাজারে অচল? ছাত্রজীবনে পড়েছি, অর্থনীতিবিদদের মুখে শুনেছি, চাহিদা বেশি হলে পণ্যের দাম বাড়বে, আবার সরবরাহ বাড়লে দাম পড়ে যাবে। সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলেও পণ্যের দাম বাড়বে। এ মুখস্থ করা বিদ্যা নিয়ে তো আর চলছে না বলেই মনে হচ্ছে।

কেন এসব কথা বলছি? বলছি একজন মাননীয় মন্ত্রীর বক্তব্য পড়ে এবং মৎস্য অধিদপ্তরের সাবেক এক মহাপরিচালকের পরিসংখ্যান দেখে। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় (২৪.১০.২১) বলেছেন, মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশে একটা বিপ্লব হয়ে গেছে। মাছ চাষে পৃথিবীতে বাংলাদেশের অবস্থান এখন তৃতীয়।

তিনি আরও বলেছেন, এখন মাংস উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং রপ্তানির চেষ্টা চলছে। এদিকে মৎস্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক বলেন, (২৫.১০.২১) বাংলাদেশে এখন বার্ষিক মাছের চাহিদা প্রায় ৪২ লাখ টন, অথচ দেশে উৎপাদন হচ্ছে ৪৫ লাখ টন। দেখা যাচ্ছে, মন্ত্রী বলেছেন মাংস রপ্তানির কথা; আবার সাবেক কর্মকর্তা যে তথ্য দিয়েছেন তা হলো মাছও রপ্তানি করা যায়। কারণ মাছ উদ্বৃত্ত আমাদের তিন লাখ টন।

এসব খবর আমরা জানি ও বুঝি। কাগজে প্রায়ই তা ছাপা হচ্ছে। তবে সরকারি কর্মকর্তা ও মন্ত্রীদের মুখ থেকে শুনলে বিষয়টি গুরুত্ব পায়। মাংস বাদ দিই, মাছের কথায়ই আসি যা আমাদের উদ্বৃত্ত। চাহিদা ও সরবরাহের নীতিতে ফেললে মাছের দাম বাজারে কমার কথা, কমতির দিকে থাকার কথা। আর শীতকালে তো আরও বেশি। কারণ এ সময় বাজারে মাছের সরবরাহ যেমন বেশি হয়, তেমনি সরবরাহ বাড়ে শাক-সবজি ও তরিতরকারির। কিন্তু বাজারে বাস্তবে আমরা কী দেখছি? আমরা কি বাজার অর্থনীতির কোনো প্রতিফলন বাজারে দেখতে পাচ্ছি?

উপরে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাব আমি ব্যক্তিগত একটা অভিজ্ঞতার কথা দিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। এতে ব্যবসাচ্যুতির ঘটনাও আছে, যা করোনা-উত্তর অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে বলা দরকার। আমি থাকি শান্তিনগর কাঁচাবাজারের কাছে। কিন্তু এ বাজারে আমি কেন, অনেকেই যায় না। কারণ পণ্যের অতিরিক্ত দামের কারণে এ বাজারকে অনেকে ‘ডাকাতের’ বাজার বলে। এ কারণে কেনাকাটা করি মতিঝিল কলোনি বাজার থেকে।

প্রশস্ত রাস্তার দুই পাশে বাজার। কোনো প্যাক-কাদা নেই। গাড়ির মালিকরা দোকানের পাশেই গাড়ি রেখে বাজার করতে পারে। এ বাজারে মুদি সামগ্রী, মাছ-মাংস, তরিতরকারি, জামা-কাপড়, পাদুকা, গৃহস্থালি জিনিসপত্র ইত্যাদি পাওয়া যায়। কয়েকদিন আগে ওই বাজারে গিয়েছি, গিয়ে দেখি বাজারে কোনো দোকান নেই। মাছ-মাংসের দোকান, মুদি দোকান, তরিতরকারির দোকান- সব বন্ধ অথবা উঠে গেছে। কী কারণ তা কেউ জানে না।

আমার পরিচিত এক দোকানদার হাউমাউ করে কেঁদে বলল, স্যার আমরা বাঁচব কীভাবে? বাসা খরচ মাসে ২০-২৫ হাজার টাকা। একদিন দোকান বন্ধ মানে হাজার টাকার ক্ষতি। এ ক্ষতি কীভাবে পোষাব? এমনিতে করোনার উত্তুঙ্গ সময়ে বাজার আশানুরূপ ছিল না। এখন একটু স্বস্তি এসেছে কিন্তু রোজগার বন্ধ। স্টকের পণ্য বিক্রি করে দৈনন্দিন খরচ চালাচ্ছি। পুঁজি ভেঙে খাওয়া যাকে বলে। অথচ কেউ প্রকৃত কারণ জানে না- কেন বাজার বন্ধ বা তুলে দেওয়া হয়েছে। এ রকম একটা পরিস্থিতিতে ১০০-২০০ দোকানের মালিকরা পড়েছে বিপদে। জানি না এর সমাধান কবে হবে। যা হওয়ার তা তো হবেই। এরই মধ্যে আমার মাছের বাজারের কী হবে?

বাসায় ছোট পুঁটি মাছ দরকার ঘরোয়া অনুষ্ঠানের জন্য। আমাদের এক সিকিউরিটিকে টাকা দিয়ে অন্য বাজার থেকে পুঁটি মাছ আনতে পাঠাই। ২০০ টাকার পুঁটি মাছ। প্রতিটির সাইজ মধ্যমা আঙুলের সমান। ২০০ টাকায় ১৬টি পুঁটি মাছ। আমার সন্দেহ হওয়ায় জিজ্ঞেস করলাম, কত করে কেজি। ৬০০ টাকা কেজি। খোঁজ নিয়ে জানলাম মোটামুটি এই দর। একটু ছোট হলে ৪০০-৫০০ টাকা কেজি। পুঁটি মাছেরই এই দাপট। ইলিশের কথা বাদ দিলাম, যার কেজি ৮০০-১২০০ টাকা।

কেবল চাষের কাতলা-রুই বাদে শিং, মাগুর, মেনি, কাজলি, বেলে, বোয়াল, আইড়, সামুদ্রিক চান্দা মাছ ইত্যাদির দর কত? কত দর কাচকি, টেংরা, পাবদার? বলা বাহুল্য, বাজারভেদে হয়তো একটু কমবেশি হবে, কিন্তু মোটামুটি ৬০০-৮০০-১০০০ টাকা কেজির নিচে এ ধরনের মাছ পাওয়া যায় না। সোয়া কেজি ওজনের একটা ইলিশের দাম ১২০০-১৩০০ টাকা, যা পাঁচজনের একটা সংসারে দুই বেলা খাওয়া প্রায় অসম্ভব।

শুধু মাছের ব্যাপার নয়, শাক-সবজি, তরিতরকারির দামও গগনচুম্বী। ৫০-৬০-৭০ টাকা কেজির নিচে কোনো শাক-সবজি, তরকারি নেই। পাকা দেশি পেঁপের কেজি ১০০-১২০ টাকা। যে আনারসের দাম ছিল কয়েকদিন আগেও ১০-১৫ টাকা, এখন তার দাম ২৫-৩০ টাকা। চালের দামের কথা সবাই জানি, কারণ এর দামই মিডিয়ায় প্রাধান্য পায়। খাসির মাংসের দাম কত কেজিপ্রতি? হাজার টাকার নিচে কি এক কেজি খাসির মাংস পাওয়া যায়? মুদি দোকানের মালামালের দিকে আমি যাব না।

আমার আলোচ্য বিষয় হচ্ছে মাছ, মাংস, ফলমূল ও তরিতরকারির বাজার। এসব উৎপাদনে আমরা অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছি। শস্যের বহুমুখীকরণ হয়েছে। সারা বছর অনেক সবজি এখন পাওয়া যায়। ফলনশীলতা বেড়েছে। খাদ্যশস্য উৎপাদনে ঈর্ষণীয় অগ্রগতি হয়েছে। স্বাধীনতা-উত্তরকালে খাদ্যশস্য উৎপাদন চারগুণ বেড়েছে। সবজি ও ফল উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে নতুন নতুন ফল এখন পাওয়া যায়। বড় বড় লটকন পাওয়া যায়। কৃষির যান্ত্রিকীকরণ হচ্ছে, হচ্ছে বাণিজ্যিকীকরণ।

কৃষিতে বেসরকারি খাত বিনিয়োগ করছে এখন। সরকার সার-কীটনাশকে ভর্তুকি দিচ্ছে, বিদ্যুতে ভর্তুকি দিচ্ছে। সেচের পানিতে ভর্তুকি এবং সহজে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। এসব সুযোগ-সুবিধার প্রতিদান কৃষকরা দিচ্ছে। আজ বিশ্বে মৎস্য চাষে আমরা তৃতীয়।

সরকারি তথ্য বলছে, ডিমে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। চালে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। মাংসও উদ্বৃত্ত। মন্ত্রী মহোদয় বলছেন, মাংস রপ্তানির কথা হচ্ছে। পাকিস্তান আমলে বা এর পরও যেসব কৃষিপণ্য বাজারে আসত না, সেসব পণ্য এখন বাজারে পাওয়া যায়। কুলবরই অনেক রকমের, পেয়ারার আকার বড় হয়েছে। চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়ার আকার অনেক বড়। এসবের গুণগত মানও বৃদ্ধি পেয়েছে। এখনকার পেঁপের আকার অনেক বড়। বিদেশি অনেক ধরনের ফল এখন দেশেই উৎপাদিত হয়। আমের নতুন একটা ভ্যারাইটি সংযোজিত হয়েছে।

এভাবে আলোচনা করলে দেখা যাবে কৃষিক্ষেত্রে আমাদের অগ্রগতি খুবই দৃশ্যমান। এগুলো নিশ্চিতভাবেই সরকারের সাফল্য, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কৃতিত্ব। কিন্তু প্রশ্ন উৎপাদন বৃদ্ধি নিয়ে নয়, প্রশ্ন দাম ও পরিসংখ্যান নিয়ে। সরবরাহ বাড়লে, পণ্য উদ্বৃত্ত হলে স্বাভাবিকভাবেই এসবের দাম কম হওয়ার কথা। স্বস্তি পাওয়ার কথা সাধারণ মানুষের। কিন্তু দৃশ্যত দেখা যাচ্ছে উৎপাদন বৃদ্ধি, সরবরাহ বৃদ্ধি ও উদ্বৃত্তের কোনো সুবিধা আমরা পাচ্ছি না।

তবে কি আমদানিকারক, পাইকারি ব্যবসায়ী, ফড়িয়া-দালাল ও খুচরা ব্যবসায়ীরা সব সুবিধা নিয়ে নিচ্ছে? সরকারের সব কার্যক্রমের সুবিধা নিয়ে নিচ্ছে? তবে কি আমাদের মার্কেটিং বা বিপণন ব্যবস্থা অকেজো ও অদক্ষ, যে কারণে বাজারে কোনো পণ্যের মূল্য কমার লক্ষণ নেই? নাকি ‘মনোপলি’ ও কার্টেলের শিকার আমাদের দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য? আমদানি পণ্যে ‘মনোপলি’ আছে। বড় বড় আমদানিকারকের মধ্যে সমঝোতা আছে। একেক পণ্যে একেকজনের আধিপত্য।

একই অবস্থা চালের বাজারে। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে বড় বড় মিলার। তারা অর্থবিত্তে ভীষণ শক্তিশালী। তার ওপর রয়েছে ব্যাংকের অর্থায়ন। টাকা/ঋণ চাইলেই তারা সহজে তা পেয়ে যায়। আমদানিকারক, বিশেষত বড় বড় আমদানিকারক খুবই সহজে ব্যাংকের কাজ থেকে ঋণ সুবিধা পায়। জাহাজ থেকে চাল খালাস করে পণ্য বিক্রির পর ব্যাংকের টাকা পরিশোধ (এলটিআর) করার উদার নীতি ব্যাংক অনুসরণ করে।

এর ফলে মনোপলি ব্যবসা পণ্যে পণ্যে জোরদার হচ্ছে। কিন্তু কৃষিপণ্যে? কৃষিপণ্য, মাছ-মাংস, তরিতরকারিতেও কি মনোপলি সৃষ্টি হচ্ছে? এসব পণ্যেও কি বড় বড় ব্যবসায়ীর আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে? এসব প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে নেই। কোনো গবেষণা কাজও আছে বলে মনে হয় না। সরকারি বা বেসরকারি কোনো জরিপের কথাও জানি না। তবে দু’জন মন্ত্রীর কথা থেকে এসব প্রশ্নের কিছুটা উত্তর পাওয়া যেতে পারে।

দুই স্বনামধন্য মন্ত্রীর চালের ব্যাপারে দ্বিমত লক্ষ করে একটি দৈনিক খবরের শিরোনাম করেছে- ‘চাল উদ্বৃত্তের তথ্য নিয়ে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দ্বিমত’। এ দু’জন মন্ত্রী হচ্ছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। আমার ধারণা, দু’জনই কৃষিবিদ এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। গত সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির ভাষণে ড. শামসুল আলম বলেন, ‘দেশে যদি চাল উদ্বৃত্তই থাকবে, তাহলে কেন ৪০০ ব্যক্তিকে ১৭ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দিতে হবে? উদ্বৃত্ত হলে বাজারে চালের দাম এত বেশি কেন? কোথাও নিশ্চয়ই একটা ভুল আছে। সেটি আমাদের দেখতে হবে।’

উত্তরে ড. রাজ্জাক বলেন, ‘চাল উদ্বৃত্তের তথ্য সঠিক। এতে কোনো ভুল নেই। তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে, কোনো কোনো বছর আবহাওয়া অনুকূল নাও থাকতে পারে। তখন উৎপাদন কিছুটা কমতির দিকে যায়। অবশ্য দেশে চালের চাহিদাটা জানা প্রয়োজন। সেটা জানতে হলে আগে জানতে হবে দেশের জনসংখ্যা কত। আমাদের দেশে তাড়াহুড়া করে আদমশুমারি করা হয়। দেশের মানুষের কত চাল দরকার, সেটি জানার জন্য পরিসংখ্যান বা জরিপ সঠিক ও নির্ভুল হওয়া প্রয়োজন। … চাহিদা জানা না থাকলেও উৎপাদনের পরিকল্পনা সঠিকভাবে করা সম্ভব নয়।’

এ কথা বলে ড. রাজ্জাক তার দায়িত্ব পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর ওপর ছেড়ে দেন। কারণ পরিকল্পনা বিভাগের অধীনেই পরিসংখ্যান ব্যুরো। তাহলে দেখা যাচ্ছে, শেষ পর্যন্ত বিষয়টি পরিসংখ্যানের সমস্যা। এ কথা পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানও আকার-ইঙ্গিতে স্বীকার করেন। গত বছর এরকম সময়ে তিনি বলেছিলেন, পরিসংখ্যানের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে জনগণ।

আরেকটু এগিয়ে কিছুদিন আগে সরকারের একজন উপদেষ্টা বলেছিলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো একটি ‘বামন’ প্রতিষ্ঠান। এর লোকবল কম, অধিকন্তু পরিসংখ্যান জানা লোক আরও কম।

এসব বক্তব্য থেকে কী মনে হয়? মনে হয়, যার ওপর ভিত্তি করে চাহিদা কত, ঘাটতি বা উদ্বৃত্ত কত নিরূপণ হবে, তার পরিসংখ্যান ঠিক নেই। এটা ঠিক না থাকলে কথা বলা খুবই কঠিন। পরিসংখ্যান ঠিক না করে কীভাবে বলি আমরা খাদ্যে বা চালে স্বয়ংসম্পূর্ণ? কীভাবে বলি আমরা মাংসে, মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ? মাছ ও মাংস আমরা দুটিই রপ্তানি করতে পারি? এখানে আবার দরকার একটা ভিত্তি। বছরে বা দিনে একজন মানুষের কত চাল দরকার। প্রতিদিন আমাদের মাথাপিছু কত ডিম, মাছ, মাংস, দরকার। কতটুকু দরকার ফলমূল ও শাক-সবজি। দুধ কতটুকু দরকার।

কৃষিমন্ত্রী বলছেন, বাংলাদেশিরা ৪০০ গ্রাম চাল ভোগ করে প্রতিদিন। এ ব্যাপারে কোনো একটি হিসাব চালু নেই। হিসাবের সময় অনেকে কমবেশি করে হিসাব করেন। যাক সে ভিন্ন কথা। কিন্তু মূল কথা হলো, লোকসংখ্যা কত? এটা হচ্ছে মূল ভিত্তি। লোকসংখ্যা কত তা ঠিক না থাকলে সয়াবিন তেল, পেঁয়াজ, রসুন, চিনি, মসুরের ডাল থেকে শুরু করে নানা দ্রব্যের বাৎসরিক বা মাসিক চাহিদা নিরূপণ করা দুরূহ ব্যাপার।

অতএব, কী দাঁড়াচ্ছে? কোনো পণ্যের অভাব আছে, নাকি আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ, নাকি আমরা তা রপ্তানি করতে পারি- এসব কথা বলতে হলে লোকসংখ্যা কত তা জরুরিভিত্তিতে ঠিক করতে হবে। তারপর দৈনিক মাথাপিছু কতটুকু দরকার, তা ঠিক করতে হবে। তারপর কথা বলতে হবে। তাই নয় কি?

ড. আর এম দেবনাথ : অর্থনীতি বিশ্লেষক; সাবেক শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments