Saturday, December 3, 2022
spot_img
Homeনির্বাচিত কলামনির্বাচন বিধিমালা সংশোধনের প্রস্তাব

নির্বাচন বিধিমালা সংশোধনের প্রস্তাব

সবকিছু হওয়া উচিত অংশীজনদের মতৈক্যের ভিত্তিতে

গত শনিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে কমিশনের ৯২তম সভায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পোস্টার, লিফলেট ও ব্যানার ঝুলানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বিধিমালা সংশোধনের প্রস্তাব উঠেছে। এতে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮ সংশোধনের মাধ্যমে বিষয়টি কার্যকরের কথা বলা হয়েছে। মূলত পরিবেশ দূষণ ও দৃষ্টিকটু-এ দুই কারণ দেখিয়ে সংশোধনীটি আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে ‘নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮’ সংশোধনীর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে, যেখানে নির্বাচনি দায়িত্বরত ব্যক্তি ও প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের পরিবর্তে ইলেকট্রনিক ভোটের ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি বর্তমান কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে; উপরন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রধান আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এ সংশোধনের প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। ওই সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাশ হওয়ার আগেই দুটি বিধিমালায় নতুন করে সংযোজনের প্রস্তাব আনা কতটা যৌক্তিক, এ প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বস্তুত মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে এ ধরনের কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে কমিশন আবারও বিতর্কের মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে। তাদের মতে, এসব বিষয় চাপিয়ে দিলে হবে না; বরং এক্ষেত্রে অবশ্যই স্টেকহোল্ডারদের মতামত নেওয়া প্রয়োজন। বস্তুত স্টেকহোল্ডারদের মতামত সাপেক্ষে এক বা একাধিক ক্ষেত্রে আইন কিংবা বিধিবিধান সংশোধনীর উদ্যোগ নেওয়া যেতেই পারে, নচেৎ নয়।

এ কথা সত্য, বিদ্যমান আচরণ বিধিমালার ৭-এ অনুযায়ী, যে কোনো স্থানে পোস্টার, লিফলেট এবং হ্যান্ডবিল ঝুলানো ও টাঙানোর বিধান থাকায় সাধারণত একটা দড়ির মধ্যে অনেক পোস্টার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে পরিবেশ দূষণ হয়, এতে কোনো সন্দেহ নেই। বিদ্যমান এ ব্যবস্থার বিপরীতে প্রস্তাবিত সংশোধনীতে পোস্টার টাঙানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কাঠের বোর্ডে তা সাঁটানোর কথা বলছে ইসি। একই বিধিতে প্রার্থীর নিজ খরচে মালিকপক্ষের অনুমতিক্রমে সর্বসাধারণের ব্যবহারযোগ্য যে কোনো জমির ওপর ১০টি স্থানে নির্দিষ্ট আকারের কাঠের বোর্ডে পোস্টার সাঁটানোর কথা বলা হয়েছে, যেগুলো নির্বাচন শেষ হওয়ার সাত দিনের মধ্যে প্রার্থীর খরচে অপসারণ করতে হবে। এসবই ভালো কথা, তবে প্রশ্ন হলো, পরিবেশ দূষণরোধসহ বিবিধ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের চিন্তা হুট করে এ সময়ে ইসির মাথায় কেন এলো? এমন নয় যে, কেবল আগামী সংসদ নির্বাচনেই এ জাতীয় পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমান ইসির অধীনে ইতঃপূর্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ অন্যান্য যত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে একই ঘটনা ঘটলেও তখন এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা কেন তাদের মাথায় এলো না, এ প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তাছাড়া দেখা গেছে, ইউপি থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকারের যে কোনো নির্বাচনসহ জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনগুলোয় নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন নৈরাজ্য ও সহিংসতার ঘটনায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রভাবশালীরা যুক্ত থাকেন। ফলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে খুব একটা আগ্রহ লক্ষ করা যায় না। এ প্রবণতা যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে সহায়ক নয়, তা বলাই বাহুল্য। কাজেই আইন বা বিধিবিধান সংশোধন ও পরিবর্তনের পাশাপাশি তা কার্যকর করার বিষয়েও যত্নবান হতে হবে। তা না হলে সব বিধিবিধান ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে, যা মোটেই কাম্য নয়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments