Friday, April 12, 2024
spot_img
Homeবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনিরাপদে থাকুক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট

নিরাপদে থাকুক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট

খবির উদ্দিন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট উদ্ধারে দক্ষ। কয়েক হাজার অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করছেন এ পর্যন্ত। ‘ফেসবুক আইডি রিকভারি’ নামে একটি গ্রুপের অ্যাডমিনও খবির। ফেসবুকে নিরাপদ থাকার কিছু পদ্ধতির কথা বলেছেন তিনি।

শুনেছেন মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

প্রাথমিক পদক্ষেপ

♦ প্রথমত ফেসবুকে একটি প্রাইমারি ই-মেইল অ্যাড্রেস থাকতে হবে এবং ই-মেইলের অ্যাকসেসও থাকতে হবে। সেটিং থেকে জেনারেল অ্যাকাউন্ট সেটিংয়ের নিচে কন্টাক্ট প্রাইমারি লেখার পাশে এই ই-মেইল ঠিকানা দিতে হয়। এখানে একাধিক ই-মেইল ঠিকানা দেওয়া যায়। এই ই-মেইলের পাসওয়ার্ড মনে থাকা চাই। ই-মেইল ঠিকানা থাকলে ফেসবুক হ্যাক হলে ওই ঠিকানায় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ মেইল করে জানায়। হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্টটি আপনার ওই মেইলের লিংকে গিয়ে জানাতে হয়। সপক্ষে যথেষ্ট প্রমাণাদি দিলে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ অ্যাকাউন্ট ফেরত দিয়ে দেয়।

♦ ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে দুই ধাপের ভেরিফিকেশন চালু রাখতে হবে। এটা করা থাকলে অন্য কেউ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ঢুকতে গেলে ফেসবুক মেসেজে কোড পাঠাবে। অথবা সরাসরি কল করে কোড জানাবে। ফলে তখনই জেনে যাচ্ছেন দুষ্কৃতকারীদের তৎপরতার খবর।

♦ ফেসবুক অ্যাকাউন্টের নাম এবং জন্মতারিখ মনে রাখতে হবে এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গেও মিল রাখতে হবে। এই তথ্যগুলো হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট উদ্ধারে কাজে লাগে।

♦ কোনো লিংকে বা থার্ড পার্টি অ্যাপ্লিকেশনে ফেসবুকের নম্বর এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করা যাবে না। এতে আইডি হ্যাক সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। ইনবক্সে লোভনীয় খুদে বার্তা এলো। সুখবর জানিয়ে কেউ লিংক পাঠাল। ভুলেও তাতে প্রবেশ করা যাবে না। সম্ভব হলে যে মেইল অ্যাকাউন্ট দিয়ে ফেসবুক খুলবেন, সেটা অন্য কোথাও ব্যবহার করা যাবে না।

♦ তিন থেকে পাঁচ বন্ধুকে সিকিউরিটি অপশনে সংযুক্ত করতে পারেন। যেন কখনো অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে সহজে পুনরুদ্ধার করা যায়। নির্বাচিত বিশ্বস্ত বন্ধুর সহায়তা নিয়ে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।

♦ অপরিচিত কাউকে ফেসবুকে বন্ধু না করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ—এমনটাই ফেসবুক কর্তৃপক্ষের পরামর্শ। ইনবক্সে অনেক মুখরোচক খুদে বার্তা আসতে পারে। এসব এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। বন্ধু ছাড়া কেউ বার্তা দিতে পারবে না—এ অপশনটি চালু রাখতে পারেন।

♦ সন্দেহজনক লিংককে না বলুন। কেউ লিংক পাঠাল। হুট করে তাতে ক্লিক না করে যাচাই করে নিন। যিনি লিংক পাঠিয়েছেন, তাঁকে আলাদাভাবে নক দিয়ে জেনে নিতে পারেন। আদৌ সেটা তিনি পাঠিয়েছেন কি না? কারণ হ্যাকার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করেও সেই অ্যাকাউন্ট থেকে লিংক পাঠাতে পারে।

♦ ফেসবুকে লগইনে ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড টাইপ করবেন। তবে কখনো ‘কিপ মি লগড ইন’ বক্স চেক করবেন না। এটা করলে আপনার অ্যাকাউন্ট বেহাত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। শুধু নিজের ব্যক্তিগত কম্পিউটারেই ‘কিপ মি লগড ইন’ করা যেতে পারে।

চাই শক্তিশালী পাসওয়ার্ড

শক্তিশালী করতে গিয়ে এমন পাসওয়ার্ড দিলেন, যা নিজেই একসময় ভুলে গেলেন। মহামুশকিল, তাই না? ফেসবুকে যে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন তা অন্যত্র ব্যবহার না করাই উত্তম। এক পাসওয়ার্ড সব জায়গায় ব্যবহার বরাবরই ঝুঁকিপূর্ণ। এবার মনে প্রশ্ন আসতে পারে—কেমন পাসওয়ার্ড নিরাপদ হতে পারে? বর্ণ বা সংখ্যার কম্বিনেশন দিয়ে পাসওয়ার্ড তৈরি করা এবং ছোট বা বড় হাতের বর্ণ ব্যবহার করা, প্রতীকী চিহ্ন (#,*,? ইত্যাদি) এবং নন-ডিকশনারি শব্দ ব্যবহার করা। কমপক্ষে আট থেকে ১২ ডিজিট দিয়ে পাসওয়ার্ড তৈরি করা এবং মাঝে মাঝে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা। কমন কিছু, যেমন—আপনার জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর, ঠিকানা, ডাকনাম, স্ত্রীর নাম, বিবাহবার্ষিকী, ছেলেমেয়ের নাম—এসব দেওয়া অনুচিত। যখনই ফেসবুক থেকে চলে যাবেন, লগআউট করতে ভুলবেন না একেবারে। এমন কোনো বিষয়, যা অন্যের কাছে মোটেও গুরুত্বপূর্ণ নয় সে রকম কিছু পাসওয়ার্ড হিসেবে দারুণ। হ্যাকার আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার জন্য মুখিয়ে আছে। তারাও ব্যর্থ হয়ে ফিরবে যদি একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড দিতে পারেন। ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ার্স (আইইই) থেকে জানা যায় যে একজন হ্যাকার আট ডিজিটের বেশি WPA-2 PSK(Pre Shared Key) যুক্ত একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ভাঙতে চাইলে তার অনেক বেশি সময় বা বেগ পেতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ সাইবার দুনিয়ায় একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই।

যা ফেসবুকে একেবারেই মানা

♦ কখনোই আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (ন্যাশনাল আইডি), বৈধ কোনো আইডি কার্ড ফেসবুকে দেবেন না।

♦ ফোন নম্বর, জন্মতারিখ অনলি মি করে রাখবেন।

♦ পাসপোর্ট, ভিসা ফেসবুকে অপলোড করবেন না। কখন কোথায় যাচ্ছেন লোকেশনসহ না দেওয়া উত্তম।

♦ আপনার ‘ফ্রেন্ড’ নয় এমন আইডিগুলো খুব বেশি পরিমাণ মেসেজ পাঠালে সেগুলো স্প্যাম বলে গণ্য হতে পারে। এ রকম হলে ফ্রেন্ড অ্যাড করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে ফেসবুক।

অ্যাকাউন্ট হ্যাকড, কী করবেন?

অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে গেছে। তখন আপনার করণীয় কী হতে পারে? প্রথমেই বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজনকে জানিয়ে দিন যে আপনার অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছে। তাদের প্রফাইলে আপনার অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছে—এমন বার্তা দিতে অনুরোধ করতে পারেন। হ্যাকাররা আপনার প্রফাইলে আপত্তিকর পোস্ট করতে পারে, আপনার পরিচিতদের কাছে টাকা চাইতে পারে—এসব কারণে আগেই এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

আইডি হ্যাক করে হ্যাকাররা সাধারণত মেইল, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে দেয়। না দিলে ‘ফরগট পাসওয়ার্ড’ অপশনটি সিলেক্ট করুন। অ্যাকাউন্টটি চালু করার সময় যে মোবাইল নম্বর বা ই-মেইল আইডি দেওয়া ছিল সেটা লিখতে হবে। এরপর মেন্যু থেকে ‘রিসেট ইয়োর পাসওয়ার্ড’ সিলেক্ট করতে হবে। তারপর নতুন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ফেসবুক লগইন করা যাবে।

এ ছাড়া আইডি হ্যাক হওয়ার বিষয়টি ফেসবুককে জানানোর সুযোগ আছে। এটা করার জন্য ww.facebook.com/hacked-এ যেতে হবে এবং ‘my account is compromised’ অপশনটি সিলেক্ট করতে হবে। এরপর সঠিকভাবে ব্যবহারকারীর নাম, ই-মেইল অ্যাড্রেস বা মোবাইল নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্টটি শনাক্ত করতে হবে। এরপর ‘সিকিউরিটি চেক’ অপশন হিসেবে ক্যাপচা (বিশেষ কোড) লিখলে ফেসবুক আপনাকে পুরনো পাসওয়ার্ডসহ একাধিক নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করবে। আপনি সঠিকভাবে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে সাবমিট বাটন সিলেক্ট করলে আপনার অভিযোগটি ফেসবুকের কাছে চলে যাবে। তারা আপনার তথ্যের সত্যতা পেলে অ্যাকাউন্ট ফেরত পাওয়ার সুযোগ আছে।

সাহায্যকারীদের খোঁজখবর

হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট উদ্ধারে অন্যের সাহায্য নিতে পারেন। অর্থের বিনিময়ে অ্যাকাউন্ট উদ্ধারে কাজ করে থাকেন কিছু ব্যক্তি। ফেসবুকে কিছু গ্রুপও আছে। যেখানে মিলবে এসংক্রান্ত সাহায্য। তবে এখানেও প্রতারকের কমতি নেই। সে জন্য একটু দেখেশুনে অন্যের সাহায্য নেওয়াটাই উত্তম। এ রকম কিছু গ্রুপের নাম—Facebook ID Recovery Group, BD Recovery Group Facebook, Facebook Recovery Group, Facebook Help Center|

হঠাৎ অ্যাকাউন্ট লক?

বিভিন্ন কারণে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট লক হতে পারে। চিন্তার কিছু নেই। লক হওয়া অ্যাকাউন্ট কিছুদিন পর ফেসবুক এমনিই আনলক করে দেয়। বারবার ডিভাইস পরিবর্তনের জন্যও অ্যাকাউন্ট লক হতে পারে। নতুন ডিভাইস দিয়ে লগইন করতে গেলে ফেসবুক আপনার অ্যাকাউন্টি ব্লক করে দিতে পারে। ফেসবুক লগইন করার সময় আইডি, পাসওয়ার্ড পর পর তিনবার ভুল করলে আপনার অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দিতে পারে।

আপনি যদি এমন কোনো পোস্ট বা কমেন্ট করেন যেটা ফেসবুকের প্রাইভেসি পলিসির বাইরে বা ফেসবুক সমর্থন করে না—এ ধরনের কোনো পোস্ট বা কমেন্ট করলে আপনার অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দিতে পারে। ফেসবুক প্রাইভেসি পলিসি সাপোর্ট করে না এমন কোনো লিংক ফেসবুকে শেয়ার করলেও অ্যাকাউন্ট ব্লক হওয়ার সুযোগ আছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments