Wednesday, June 12, 2024
spot_img
Homeধর্মনিজের পাপ-পুণ্যের হিসাব কিভাবে নেব

নিজের পাপ-পুণ্যের হিসাব কিভাবে নেব

আল্লামা ইবনুল কাইয়িম (রহ.) নাফস বা মনের হিসাব গ্রহণের একটি কার্যকর পদ্ধতি তুলে ধরেছেন। সেটি হলো—

১. ফরজের হিসাব : ইসলামে বিধান পালন খুব জরুরি। ফরজ পালন ইসলামী শরিয়তের মূল উদ্দেশ্য। সুতরাং ফরজ দিয়ে তার নফসের হিসাব শুরু করবে।

যদি তাতে কোনো ঘাটতি দেখতে পায় তাহলে ফরজ পুনরায় আদায় করে কিংবা বেশি বেশি নফল ইবাদত করে তা পূরণ করবে। যদি দেখে যে ফরজ শুদ্ধভাবে পালিত হয়নি তাহলে তা পুনর্বার আদায় করবে; আর যদি কিছুটা ত্রুটি হয়ে থাকে তাহলে বেশি বেশি নফল ইবাদত করবে।

২. হারাম কাজের হিসাব : হারাম কাজের বেলায় নফসের হিসাব করতে গিয়ে দেখবে যে সে কোনো হারাম কিংবা নিষিদ্ধ কাজ করে ফেলেছে কি না। প্রথমে হারাম কাজ ছেড়ে দেবে। আর যদি অন্যদের অধিকার জোর করে নিয়ে থাকে তাহলে তাও তাদের ফেরত দেবে। কারো গিবত, লাঞ্ছনা ও অপমান করলে তাদের থেকে ক্ষমা চেয়ে নেবে, তাদের জন্য দোয়া করবে এবং তাদের পক্ষ থেকে দান করবে। আর যদি এমন অন্যায় করে, যার বিকল্প প্রতিবিধান নেই। যেমন—মদ পান করেছে কিংবা কোনো নারীর দিকে তাকিয়েছে তাহলে তাওবা করবে এবং ভবিষ্যতে এমন যাতে না ঘটে সে জন্য সুদৃঢ় প্রতিজ্ঞা করবে। বেশি বেশি নেক আমল করবে। মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আর তুমি সালাত কায়েম করো দিনের দুই প্রান্তে ও রাত্রির কিছু অংশে। নিশ্চয়ই সৎকর্মসমূহ মন্দ কর্মসমূহকে বিদূরিত করে। ’ (সুরা হুদ, আয়াত : ১১৪)

৩. ইবাদত থেকে উদাসীনতার হিসাব : খেয়াল করবে যে (হারাম ছাড়াও) অসার গান-বাজনা ও অহেতুক কাজে নিজেকে মত্ত রেখেছে কি না? এমন করে থাকলে আরো বেশি সময় ধরে জিকির, ইবাদত ও নেক কাজ করবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যে আমার স্মরণ থেকে উদাসীন থাকবে, অবশ্যই তার জীবনযাপন হবে সংকুচিত। আর আমি (আল্লাহ) কিয়ামতের দিন তাকে উত্থিত করব অন্ধ অবস্থায়। ’ (সুরা ত্বহা, আয়াত : ১২৪)

৪. অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের হিসাব : মনে করে দেখবে—আমার পা দিয়ে, আমার হাত দিয়ে, আমার কান দিয়ে, আমার চোখ দিয়ে, আমার জিহ্বা দিয়ে আমি কী করেছি? অঙ্গগুলো থেকে কোনো পাপ হয়ে থাকলে প্রতিকার হিসেবে অঙ্গগুলোকে আরো বেশি আল্লাহর আনুগত্যমূলক কাজে নিয়োজিত রাখবে।

৫. নিয়তের হিসাব : ইবাদতের প্রতিদান পাওয়ার জন্য ইখলাসের সঙ্গে ইবাদত করা জরুরি। মনকে জিজ্ঞাসা করবে, আমি যে ইবাদত করছি, তাতে আমার নিয়ত কী? এভাবে প্রশ্ন করে নিয়ত যাচাই করবে। যেকোনো কাজের মূল লক্ষ্য থাকতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি। (ইগাসাতুল লাহফান : ১/৮৩)

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments