Monday, May 27, 2024
spot_img
Homeবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনিউরালিংক নিয়ে নতুন বিতর্ক

নিউরালিংক নিয়ে নতুন বিতর্ক

নিউরালিংক ব্যবহার করে করা কর্মটির দায়ভার কিংবা কৃতিত্ব আসলে কার? যন্ত্রের নাকি ব্যবহারকারীর? তবে যন্ত্র ও মানুষের সমন্বয়কেই ভবিষ্যৎ বলছেন নিউরালিংক প্রজেক্টের কর্ণধার ইলন মাস্ক। নতুন করে শুরু হওয়া এই বিতর্ক নিয়ে লিখেছেন মোহাম্মদ তাহমিদ

প্রতিটি কর্ম শুরু হয় চিন্তা থেকে। মনের মধ্যে থাকা কথাগুলো যখন হাতের পেশির মাধ্যমে কলমে পৌঁছে, তখনই সেটা কাগজে লেখা হিসেবে দেখা দেয়। আমরা এর উল্টোটাও বলতে পারি, প্রতিটা লেখাই লেখকের চিন্তা-চেতনাকে প্রকাশ করার ইচ্ছা থেকেই এসেছে।

ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস (বিসিআই) সেটাকে বদলে দিচ্ছে। নিউরালিংক এন১ ডিভাইসটি সরাসরি মস্তিষ্কে স্থাপন করা হয়। সেটি ব্যবহারকারীর ভাবনাকে সরাসরি কর্মে পরিণত করে। যেহেতু এ ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের বাকি অংশ, যেমন—পেশি নাড়ানোর কেন্দ্র বা শরীরের বাকি অঙ্গ সেই কর্মের সঙ্গে জড়িত নয়, সে ক্ষেত্রে কি কর্মটি পুরোপুরি সেই মানুষটির? আমরা কি নিউরালিংকের মতো ডিভাইসগুলোকে ব্যবহারকারীর চেতনারই অংশ ধরে নেব নাকি যন্ত্র আর মনকে আলাদাই রাখা উচিত, সেটা নিয়ে আবারও শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
বিশ্বের প্রথম নিউরালিংক ব্যবহারকারী নোল্যান্ড আরবাগ। গাড়ি দুর্ঘটনায় পুরো শরীরের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনি আজ শুধু মাথা নাড়াতে পারেন, পুরো শরীর তাঁর প্যারালাইজড। নিউরালিংকের মাধ্যমে তিনি আজ কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন। কিছুদিন আগে দাবা খেলে ডিভাইসটির কার্যকারিতাও প্রদর্শন করেছেন।

নিউরালিংক তিনি কিভাবে ব্যবহার করছেন, সেটা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, শুধু কম্পিউটারে কার্সর নাড়ানোর কল্পনা করলেই সেটা বাস্তবায়ন করে ডিভাইসটি। অর্থাৎ দাবা বোর্ডের দিকে তাকিয়ে তিনি শুধু ভাবছেন দুই ঘর আগানোর কথা আর ওতেই বাকি কাজ নিউরালিংক করে দিচ্ছে।নিউরোসায়েন্স বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সরাসরি মস্তিষ্ক স্ক্যান করে পাওয়া তথ্য দেখে কোন চিন্তাটি শুধু কল্পনা আর কোনটি কর্মের জন্য অভিপ্রায়, সেটা এখনো বোঝা সম্ভব নয়। আবার দ্রুত বদলে যাওয়ার চিন্তাও নিউরালিংকের পক্ষে ধরতে পারা অসম্ভব, আরবাগ যদি বিশপকে তিন ঘর আগানোর চিন্তা করার পরপরই সেটা বদলে উল্টো দুই ঘর পেছানোর সিদ্ধান্ত নেন, সেটা নিউরালিংকের পক্ষে ধরা সম্ভব নয়। আবার একাধিক চাল চিন্তা করে অবশেষে একটি বেছে নেন প্রায় সব দাবাড়ু, অথচ নিউরালিংক কোনটি কাল্পনিক চাল আর কোনটি আসলে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে ভাবছেন আরবাগ, সেটা ধরতে অক্ষম।

যদি ভুল চিন্তাকে বাস্তবায়ন করে নিউরালিংক, সে ক্ষেত্রে চালটি চেলেছেন কে, আরবাগ নাকি নিউরালিংক?কম্পিউটার ব্যবহার আর দাবা খেলায় এমন তফাতগুলো তেমন জরুরি নয়। তবে ভবিষ্যতে আরো জটিল কাজে যদি বিসিআই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু হয় তখন অন্তত আইনের চোখে চিন্তা, উদ্দেশ্য এবং এর মধ্যে বিসিআইয়ের অবস্থান পরিষ্কার করা জরুরি হয়ে পড়বে। ডিভাইসগুলোকে ব্যক্তির অংশ ধরে নেওয়া হবে, নাকি আলাদা সত্তা, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। যদি নিউরালিংক ব্যবহার করে আরবাগ গাড়ি চালানোর সময় শুধু এক মুহূর্তের ভুল চিন্তাকে উদ্দেশ্য ধরে নিয়ে গাড়িটি কাউকে চাপা দেয়, তাহলে তার দায় কি চালকের নাকি নিউরালিংকের? আরবাগ দাবি করতে পারেন, মানুষ কাজ করার সময় হাজারো চিন্তা করতেই পারে, সব কটি বাস্তবায়ন করার উদ্দেশ্যে করাও নয়। সে ক্ষেত্রে তিনি দোষটি চাপাতে পারেন বিসিআই ডিভাইসের ভুলের ওপর। আবার যদি আরবাগ বই লেখার উদ্দেশ্যে চিন্তা করেন, কিন্তু তাঁর চিন্তাকে ভাষায় পরিণত করে নিউরালিংক, সে ক্ষেত্রে বইটির স্বত্ব কি আরবাগের? তার চিন্তাকে কাজে পরিণত করেছে নিউরালিংক, কিন্তু যদি গাড়িচাপার ক্ষেত্রে আমরা বলি দায়ী নিউরালিংক তাহলে এ ক্ষেত্রেও বইয়ের দাবিদার ডিভাইসটি, শুধু মূল আইডিয়ামাত্র আরবাগের। যন্ত্র ও মানুষের সমন্বয়কেই ভবিষ্যৎ বলছেন নিউরালিংক প্রজেক্টের কর্ণধার ইলন মাস্ক। এখনই সময়, এ ধরনের যন্ত্র কি মানুষের সত্তার অংশ কি না, সেই বিতর্কের অবসান করার।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments