যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সের ইস্ট রিভার ঘেঁষা রেইনি পার্ক একটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট। সুযোগ পেলেই সেখানে বিভিন্ন এলাকার লোকজনের সমাগম ঘটে। বহু দেশ আর নানা বর্ণের মানুষের দেখা মেলে ওই পার্কে। তবে গত ৫ সেপ্টেম্বর পার্কটিতে উপস্থিত সবাই ছিলেন একই এলাকার বাসিন্দা। অপরূপ সাজে সজ্জিত পার্কটি সেদিন ছিল শুধুই প্রবাসী হবিগঞ্জবাসির দখলে। বিপুল উপস্থিতিতে পার্কটি পরিণত হয়েছিল এক খন্ড হবিগঞ্জে।

আর অনন্য এই উপলক্ষ এনে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র হবিগঞ্জ সদর সমিতি ইনক। দীর্ঘ প্রস্তুতি আর নানান আয়োজনে ৫ সেপ্টেম্বর দিনটি সবার স্মৃতিতে ভাস্মর করে রাখার জন্য ছিল নানান আয়োজন। সেদিন শুধু নিউইয়র্ক থেকেই নয়, বিভিন্ন স্টেট থেকেও হবিগঞ্জবাসীর আগমন ঘটে এ মিলন মেলায়। অপরূপ সাজে সজ্জিত হয়ে আমন্ত্রিত অতিথি সহ সকলকে বরণ করে নিতে যেন অপেক্ষায় ছিল। কোভিড পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন পর একত্রে সবাইকে কাছে পাওয়ার অনুভূতিগুলো সবাইকে আবেগাপ্লুত করে রাখে। অনুষ্ঠানে সমিতির নতুন কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়।

দিনব্যাপি এই মিলন মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করে আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তুলেন স্বদেশ থেকে আসা হবিগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআই এর নবনির্বাচিত পরিচালক মোতাচ্ছিরুল ইসলাম। গেস্ট অব অনার ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্টের এটর্নী ও সমিতির উপদেষ্টা মঈন চৌধুরী।

বিশেষ অতিথি ছিলেন নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম, মাধবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন চৌধুরী অসীম, বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাষ্টি বোর্ডের সদস্য ওয়াসি চৌধুরী, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি ময়নুল হক চৌধুরী হেলাল, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী, সাংবাদিক মুজাহিদ আনসারী, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা এড. নাসির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী শেফাজ, সমিতির উপদেষ্টা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সাবেক জেলা শিক্ষা অফিসার গফ্ফার আহমেদ, মো: ইব্রাহিম খলিল বার ভুঁইয়া রিজু, আজদু মিয়া তালুকদার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সদস্য রোকন হাকিম।

সমিতির সভাপতি মো: আব্দুর রহমানের সভাপত্বিতে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম ও বনভোজনের সমন্বয়কারী মো: শিমুল হাসানের পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বনভোজন আয়োজন কমিটির আহবায়ক তাজুল ইসলাম মানিক।

প্রধান অতিথি মোতাচ্ছিরুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, প্রবাসে হবিগঞ্জ সদর সমিতির এত বড় আয়োজনে অংশ নিতে পেরে আমি অত্যন্ত খুশি হয়েছি। সদর সমিতি আমাকে যে সম্মান প্রদান করেছে তার জন্য আমি ঋণী হয়ে গেলাম। তিনি জানান, তার নির্বাচনী এলাকায় আধুনিক হসপিটালের উন্নয়ন, বিভিন্ন ইউনিয়নে খেলার মাঠ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, ব্যবসায়ীদের ব্যবসার পরিবেশ, হবিগঞ্জ শহরকে শান্তির শহরে পরিণত করেছেন। সকল প্রবাসীকে দেশে গিয়ে আগের হবিগঞ্জ আর বর্তমান হবিগঞ্জ শহরের আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা দেখার আহবান জানান তিনি।

আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ জেলা সমিতির সাবেক সভাপতি মো: আশিকুর রহমান, নিউইয়র্কের ৩৭ ডিস্ট্রিক্টের এ্যাসেম্বেলীওম্যান প্রার্থী মেরি জোবাইদা, হবিগঞ্জ জেলা কল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতি সফি উদ্দিন তালুকদার, শাহিন আহমেদ, ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম, সাবেক ইউপি চেযারম্যান লিয়াকত হাসান, নওশাদ আহমেদ, বৃন্দাবন সরকারী কলেজের সাবেক শিক্ষক ইকবাল আহমেদ, হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম আজাদ, বৃন্দাবন কলেজ এলামনাই এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জায়েদুল মুহিত খান, আবু সাঈদ চৌধুরী কুটি, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুকিদুল ইসলাম মুকিদ, নবীগঞ্জ উপজেলা সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি শেখ জামাল হোসেন, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিকলীগের সহ-সভাপতি মনজুর চৌধুরী, জেলা কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আকবর হোসেন স্বপন,সদর সমিতির সহ-সভাপতি সৈয়দ আবদাল হোসেন, মিয়া মো: আসকির, হবিগঞ্জ সোসাইটি অব ইউএসএ’র সাধারণ সম্পাদক সামছুল ইসলাম শামীম, জয়নাল আবেদীন খান, শাহ মোহাম্মদ তওফিক, শামছুল ইসলাম সামছু, মো: কামরুল ইসলাম, রকিব আহমেদ, শিশির চন্দ্র বণিক, মো: আবুল কাসেম, অতীন্দ্র কুমার পাল জয়, ফয়সল আহমেদ, সুকান্ত দাশ হরে, সাদেকুর রহমান, গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, দেলেয়ার হোসেন মানিক, আমির আলী, মোশাররফ চৌধুরী, শাফি খান, জুনেদ খান, জহিরুল ইসলাম (জহুর আলী), মো: দুলাল বিল্লাহ, ওয়াদেুর রহমান, শামীম চৌধুরী, জুয়েল আহমেদ, মিজানুর রহমান শামীম, আব্দুল আউয়াল, এনামুল হাসান রাসেল, সোহাগ আফছর, হাসান চৌধুরী, আব্দুল মতিন, জুয়েল মিয়া, মোহাম্মদ নাহিদ, মঈনুল হক মুন্না, শরিফুল ইসলাম শরীফ, জালাল উদ্দিন তালুকদার, মাহমুদুল হাসান, শেখ মোস্তফা কামাল, এডভোকেট রহিম শেখ, হারুনুর রশীদ, গুলজার হোসেন, আবুল কালাম আজাদ টিপু, মাসুদ আহমেদ, রন্টু মোদক, তুহিন তালুকদার, জহিরুল ইসলাম রাহুল, হাসান চৌধুরী, বশির আহমেদ, সাইফ উদ্দিন আখঞ্জী রবিন, আবুল হোসেন, নাঈম উদ্দিন আকঞ্জী প্রমুখ।

বনভোজনে অতিথি এবং আগত সকলকে খাবার পরিবেশেন করেন সমিতির একঝাঁক নিবেদিত প্রাণ কর্মকর্তা। নিউইয়র্কের বাংলাদেশী খাবারের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান এষ্টোরিয়া বৈশাখী রেষ্টুরেন্টের সুস্বাদু খাবার খেয়ে সকলেই আয়োজক কমিটির প্রশংসিত করেন।
বনভোজনের শেষ পর্বে সদর সমিতির প্রধান নির্বাচন কমিশনার গফফার আহমেদ ২০২১-২০২৩ সেশনের জন্য সভাপতি মিয়া মো: আসকির, সাধারণ সম্পাদক মো: আমির আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ মোস্তফা কামালের নাম প্রধান অতিথির মাধ্যমে ঘোষণা করান।

বনভোজনে খেলাধুলার বিজয়ীদের মধ্য অতিথিরা পুরস্কার তুলে দেন। আয়োজনের অন্যতম আর্কষণীয় পর্ব ছিল র‌্যাফেল ড্র। এতে ১ম পুরস্কার নিউইয়র্ক টু ঢাকা বিমান টিকেট (সৌজন্যে এটর্নি মঈন চৌধুরী)। ২য় পুরস্কার ডায়মন্ড কানের দুল (সৌজন্যে মোশাররফ চৌধুরী), ৩য় পুরস্কার ল্যাপটপ (সৌজন্যে মেঘা ইন্সুরেন্স), ৪র্থ পুরস্কার ৪০ ইঞ্চি টিভি (সৌজন্যে শাফি খান), ৫ম পুরষ্কার টেবলেট (সৌজন্যে তুহিন তালুকদার), ৬ষ্ঠ পুরস্কার সেলফোন (সৌজন্যে আব্দুল আওয়াল), ৭ম পুরষ্কার টেবিল ফ্যান (সৌজন্যে সাঈফ আখন্জী রবিন)।
শেষে সভাপতি মো: আব্দুর রহমান সকলকে এই ঐতিহাসিক বনভোজনে অংশগ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বনভোজনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
বনভোজনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, দীর্ঘদিন পর সবাই বনভোজনে অংশগ্রহণ করে একে অপরের সাথে কুশলাদি বিনিময় এবং সাক্ষাৎ যেন সকলের হৃদয়ে বাড়তি অনুভূতি ছড়িয়ে সকলের হৃদয় আনন্দে উদ্বেলিত হয়েছে। বনভোজন শেষে অনুষ্ঠান স্থলে নেমে আসে বিদায়-বিষাদের ছায়া। তবে আবারও এমন সুন্দর দিনের প্রত্যাশা নিয়ে সবাই বাসায় ফিরেন সেদিন।

English