বাংলা গানের কালজয়ী কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দীর দ্বিতীয় প্রয়াণ দিবসে গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয় এক স্মরণসভার। মঙ্গলবার রাতে উডসাইডের গুলশান ট্যারেস মিলনায়তনে বাংলা চ্যানেল এ স্মরণ সভার আয়োজন করে। বরেণ্য এই কণ্ঠশিল্পীকে শ্রদ্ধা জানাতে অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন নিউইয়র্কের জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) নূর এলাহী মিনা, নিউইয়র্ক কনস্যুলেটের ডেপুটি কনসাল জেনারেল এস এম নাজমুল হাসান, একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়, শহীদ হাসান সহ বিশিষ্টজনেরা।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলা চ্যানেল-এর চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এ.কে.এম. ফজলুল হক। শিল্পীকে নিয়ে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র উদীচী’র সভাপতি জীবন বিশ্বাস। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নিউইয়র্ক সাহিত্য একাডেমীর পরিচালক মোশারফ হোসেন।
প্রবাসী কণ্ঠশিল্পীরা প্রয়াত শিল্পী সুবীর নন্দীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান তারই জনপ্রিয় ও কালজয়ী গান গেয়ে। বাচিক শিল্পীরা শ্রদ্ধা জানান কবিতা আবৃত্তিতে। ছিল স্মৃতি-স্মরণ কথামালা।
রথীন্দ্রনাথ রায় বলেন সুবীর নন্দীর জীবনের গল্প। সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন সুবীর নন্দীর পরিবারের সদস্য ও তার এক সময়ের ঘনিষ্ঠজনরা।

সুবীর নন্দীর জনপ্রিয় গানগুলো গেয়ে শোনান, রথীন্দ্রনাথ রায়, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠশিল্পী শহীদ হাসান, চন্দন চৌধুরী, শাহ্ মাহবুব, কৃষ্ণা তিথি, নিপা জামান, প্রমুখ। সুবীর নন্দীর গানের মূর্ছনায় হলরুম জুড়ে এক ঐন্দ্রাজালিক মায়াজাল যেন ছড়িয়ে পড়ে। ফিরে ফিরে আসতে থাকে কালজয়ী গান— ‘আমার এ দু’টি চোখ’ থেকে ‘ও আমার উড়াল পঙ্খী রে’, কিংবা ‘পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই’ থেকে ‘দিন যায় কথা থাকে’র সুরে ডুবে গিয়েছিলেন সকলে।
সুবীর নন্দীকে নিয়ে লেখা দর্পণ কবীরের একটি কবিতার আবৃত্তি পরিবেশন করেন স্বাধীন মজুমদার। অনুষ্ঠানে প্রয়াত কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দীর পরিবারকে আর্থিক অনুদানের একটি চেক প্রদান করেন শাহ ফাউন্ডেশনের কো-ফাউন্ডার হোসনে আরা চৌধুরী ও উপদেষ্টা মাহমুদা নার্গিস হক।
অনুষ্ঠানটির সমন্বয়ক ছিলেন বাংলা চ্যানেলের সিইও এবং রূপসী বাংলা ও অনুস্বর-এর সম্পাদক শাহ্ জে. চৌধুরী, লেখক, সাংবাদিক ও কবি দর্পণ কবীর, এটিএন বাংলা ইউএস অফিসের বার্তা সম্পাদক কানু দত্ত, দৈনিক সংবাদ-এর যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি ও সন্ধান-এর সম্পাদক সঞ্জীবন সরকার, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট গোপাল স্যানাল, শুভ রায় ও বাংলা চ্যানেলের বিশেষ প্রতিনিধি মোহাম্মদ হোসেন দিপু। সঙ্গীতায়োজন সফল করতে বিশেষভাবে সহযোগিতা করেন তবলাবাদক তপন মোদক।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস এসোসিয়েশনের (জেবিবিএ) সভাপতি ও ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব শাহ্ নেওয়াজ, রিয়েলেটর মইনুল ইসলাম, নারী নেত্রী মনিকা রায়, নাট্যকার ও সাংবাদিক তোফাজ্জল লিটন, কোম্পানীগঞ্জ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক আরজু হাজারী, রিয়েলেটর নূরুল হুদা হারুণ, ব্যবসায়ী হেদায়েত উল্লাহ, শো টাইম মিউজিকের পরিচালক আলমগীর খান আলম, বাংলাদেশ সোসাইটির নেতা আহসান হাবীব, সংস্কৃতি কর্মী মিথুন আহমেদ, ছড়াকার মঞ্জুর কাদের, আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ সাঈদ, জাকির হোসেন বাচ্চু প্রমুখ।
উল্লেখ্য, বাংলা গানের কালজয়ী সঙ্গীতশিল্পী সুবীর নন্দী ২০১৯ সালের ৭ মে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বরেণ্য এই সঙ্গীতশিল্পী দীর্ঘ ৪০ বছরের সঙ্গীত জীবনে আড়াই হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন। বেতার থেকে টেলিভিশন আর চলচ্চিত্রে উপহার দিয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান। ১৯৮১ সালে তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘সুবীর নন্দীর গান’ বাজারে আসে ডিসকো রেকর্ডিংয়ের ব্যানারে। সুবীর নন্দী প্রথম গান করেন ১৯৭৬ সালে আবদুস সামাদ পরিচালিত ‘সূর্যগ্রহণ’ চলচ্চিত্রে। তিনি চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করে পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ২০১৯ সালে সঙ্গীতে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার সুবীর নন্দীকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে।
নিউইয়র্কে সাক্ষাৎকারে বাংলা গানের কালজয়ী প্রয়াত কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দী বলেছিলেন, আমার জীবনে অপ্রাপ্তি বলে কিছু নেই।‘

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

English