নিউইয়র্কে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে তিনদিনের ‘বাংলাদেশ সম্মেলন’। এবারের তৃতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়েছে ব্যতিক্রমী আমেজে ইস্ট রিভারে নৌ-ভ্রমণের মাধ্যমে। উদ্বোধন করেন কণ্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায়। আর সমাপনী ঘটে খ্যাতনামা শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার অনবদ্য পরিবেশনার মধ্যদিয়ে।

শুক্রবার বিকেলে বেলুন উড়িয়ে উদ্বোধন ঘোষণা করা হয় তিনদিনের বাংলাদেশ কনভেনশনের। ওয়ার্ল্ড ফেয়ার মেরিনায় শীপে ওঠার আগ মুহুর্তে উদ্বোধনী বক্তৃতা করেনে কনভেনশনের আহবায়ক ডা. সারওয়ারুল হাসান, কনভেনশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজাদ, কনভেনশনের সদস্য সচিব আলমগীর খান আলম। এরপরই শুরু হয় ইস্ট রিভারে গান, তাল আর লয়ের নৌ বিহার। নৌ বিহারের শুরুতেই ডিনারে আপ্যায়ন করা হয় আগত অতিথিদের।

রাতের খাবার শেষে দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। এতে অংশ নেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের স্বনামধন্য শিল্পী, একুশে পদকপ্রাপ্ত রথীন্দ্র নাথ রায়।
জনপ্রিয় উপস্থাপক বুলবুল এ হাসান ও সোনিয়ার প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় টানা ছয় ঘন্টা শিল্পীদের একের পর এক গান দর্শকদের নিয়ে যায় অন্য এক ভূবনে। টানা সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী কৃষ্ণা তিথি, শাহ মাহবুব, রোকসানা মির্জা সহ নিউইয়র্কের সেরা শিল্পীরা। সবশেষে ছিল আকর্ষণীয় র‌্যাফেল ড্র।

নাচ, কাব্য জলসা, সেমিনার আর সঙ্গীতানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয় বাংলাদেশ কনভেনশনের দ্বিতীয় দিন শনিবার। ছুটির দিনে বিপুল সংখ্যক নিউইয়র্কবাসী গভীর রাত অবধি উপভোগ করেন দ্বিতীয় দিনের আয়োজন।
দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই বিভিন্ন নৃত্য সংগঠনের শিল্পীরা নৃত্য পরিবেশন করেন। নৃত্য আর সুরের মুর্ছনায় মোহিত হন দর্শক শ্রোতা। কাব্য জলসার প্রতিটি মুহুর্ত ছিল উপভোগ্য। এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ইশতিয়াক রূপু। শিল্পী শহীদ হাসান, শাহ মাহবুব সহ স্থানীয় শিল্পীদের গানের পর দিনের সেরা আকর্ষণ ছিল স্বনামধন্য শিল্পী সায়েরা রেজা ও শুভ্র দেবের মন উজার করা গান। এই মহান দুই শিল্পীর একের এক পরিবেশনায় দর্শক আনন্দে পায় অন্য মাত্রা। সাংস্কৃতিক আয়োজনের দায়িত্বে ছিলেন শিবলী সাদেক।
‘বাংলাদেশ সম্মেলন’র সমাপনী উৎসব অনুষ্ঠিত হয় রোববার। শেষ দিনে দর্শক মাতান উপমহাদেশের কিংবদন্তী রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ও সৈয়দ আব্দুল হাদী।
‘বাংলাদেশ সম্মেলন’র সমাপনী উৎসবে সদস্য সচিব আলমগীর খান আলম বলেছেন, ‘করোনা ভীতির পরিপ্রেক্ষিতে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এবারের সম্মেলনে অনেক কিছুই করা সম্ভব হয়নি। সীমিত পরিসরে হলেও প্রবাসীদের আগ্রহের পরিপূরক নৌ-ভ্রমণ, ট্যালেন্ট শো, ফ্যাশন শো, সেমিনার, কাব্য জলসা এবং নাচ আর গানের আসর বসেছিল। বিশিষ্টজনেরা অংশগ্রহণ করেন। সবকিছুকে ছাড়িয়ে যায় উপ-মহাদেশের খ্যাতনামা শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার অনবদ্য পরিবেশনা।

আলমগীর খান আলম বলেন, ২০১৬ সালে শুরু এই সম্মেলনের। কোনভাবেই এটি ফোবানার পাল্টা কোনো সম্মেলন নয়। প্রতি বছরই করার ইচ্ছা থাকলেও মধ্যখানে নিউইয়র্কে ফোবানার সম্মেলন একইসময়ে হওয়ায় আমরা কোনো কনফ্লিক্টে যেতে চাই না বলে ২০১৯ সালে সম্মেলন করিনি। এজন্যে এবারের সম্মেলন ছিল তৃতীয় বাংলাদেশ সম্মেলন। তিনি বলেন, প্রয়োজনে আমরা ফোবানার নির্ধারিত সময় ‘লেবার ডে উইকেন্ড’ পরিত্যাগ করে মেমরিয়্যাল ডে উইকেন্ড অথবা থ্যাঙ্কস গীভিং উইকেন্ডে করতে পারি।
আলমগীর খান আলম বলেন, আমাদের এ কনভেনশন সব সময় নিউইয়র্কেই অনুষ্ঠিত হবে। তবে আগামী বছর এ কনভেনশন আরও বৃহৎ আকারে অনুষ্ঠিত হবে। সামনের বছর চতুর্থ সম্মেলন সর্বকালের সেরা একটি সমাগমে পরিণত করতে এখন থেকেই আমরা প্রস্তুতি শুরু করবো। প্রবাসে থেকেও দেশ ও দেশের সংস্কৃতি সারা বিশ্বের মানুষের কাছে তুলে ধরার এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এ সময়ে উত্তর আমেরিকায় ২০ লাখের বেশী বাঙালি বাস করছি। তাই প্রবাস প্রজন্মকে বাঙালি সংস্কৃতির সাথে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে রাখতে যতবেশী সম্মেলন হবে ততই মঙ্গল।
উল্লেখ্য, দেড় দশকেরও অধিক সময় যাবত নিউইয়র্কসহ উত্তর আমেরিকায় বিনোদন-প্রমোটর হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করছে ‘শো-টাইম মিউজিক’র প্রতিষ্ঠাতা আলমগীর খান আলম। গত ৬/৭ বছর ভিন্ন আঙ্গিকেও বাংলাদেশ সম্মেলন, সাহিত্য সম্মেলনের আয়োজন করে আসছেন। তারই সাথে যুক্ত হয়েছে ‘বাংলাদেশ সম্মেলন’।

English