পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির মধ্যে নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে মারপিটে জড়িয়েছে প্রবাসী আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মীরা।
শনিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ কর্মীরা জ্যাকসন হাইটসে জড়ো হয়ে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন। কাছেই বিএনপি, যুবদল, জাসাসের নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়ে পাল্টা স্লোগান শুরু করলে উত্তেজনা তৈরি হয়।
এরপর দুই পক্ষের মধ্যে হামলা, পাল্টা হামলা, ধাক্কা-ধাক্কি এবং কয়েক দফা মারপিটের ঘটনা ঘটে।

কয়েকশ প্রবাসীর এই সংঘাতের খবর পেয়ে শতাধিক পুলিশের সেখানে পৌঁছে বেষ্টনী তৈরি করে। তার মধ্যেই দুই পক্ষ আক্রমণাত্মক স্লোগান দিতে থাকে।
এ পরিস্থিতিতে রাত সাড়ে ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
বিকেলে ডাইভার্সিটি প্লাজায় নিউ ইয়র্ক স্টেট বিএনপির উদোগে কর্মসূচি চলাকালে আওয়ামী লীগের একদল কর্মী সেখানে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি বেশি দূর গড়াতে পারেনি।
এর ঘণ্টা দেড়েক পর ডাইভার্সিটি এলাকা থেকে যুবলীগের একটি মিছিল ৭৩স্ট্রিট দিয়ে ৩৭ এভিনিউর দিকে যাওয়ার সময় আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিএনপির নেতা-কর্মীরা পাল্টা স্লোগান দেয়।
এরপর যুবলীগের মিছিল বিএনপি-জামায়াত প্রতিরোধের স্লোগান দিতে দিতে ৩৭ এভিনিউর প্রান্তে যাওয়ার পর রাস্তার উল্টো দিকে মানববন্ধনে থাকা বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে সংঘাত বাঁধে।
এ সময় দুই পক্ষের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা প্রথমে ধাক্কা-ধাক্কি এবং পরে মারপিটে লিপ্ত হয়।
এ পরিস্থিতিতে পথচারীরা হতভম্ব হয়ে পড়েন। অনেকে দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কাছের রেস্তোরাঁ বা দোকানে যারা ছিলেন, তারা ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন।
এ সময় ৩৭ এভিনিউ এবং ৭৩স্ট্রিটে যানবাহান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আশপাশের রাস্তায় থমকে দাঁড়ায় গাড়ি।
বিএনপির মিছিলে ছিলেন গিয়াস আহমেদ, জিল্লুর রহমান, মিল্টন ভূইয়া, গোলাম ফারুক শাহীন, মাওলানা অলিউল্লাহ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা, মোশারফ হোসেন সবুজ, জসীম ভূইয়া, কাজী আজম, মাকসুদ চৌধুরী, কাজী আসাদুল্লাহ, রুহুল আমিন নাসির, ছাত্রদল নেতা মাজহারুল ইসলাম জনি।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের মিছিলে ছিলেন ড. সিদ্দিকুর রহমান, ড. প্রদীপ কর, বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল চৌধুরী, আব্দুর রহিম বাদশা, চন্দন দত্ত, কাজী কয়েস, মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, জাকারিয়া চৌধুরী, আব্দুল কাদের মিয়া, মিসবাহ আহমেদ, ফরিদ আলম, গোলাম রব্বানী চৌধুরী, আমিনুল ইসলাম কলিন্স, মোর্শেদা জামান, সুব্রত তালুকদার, নূরল আমিন বাবু, যুবলীগ নেতা জামাল হোসেন, ইফজাল চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা দরুদ মিয়া রনেল।

উত্তেজনার খবর পেয়েই শতাধিক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু পুলিশের ঘেরাওয়ের মধ্যেই দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি স্লোগান চালিয়ে যায়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা ধীরে ধীরে ওই এলাকা ত্যাগ করেন।
আধ ঘণ্টা পর বিএনপির বেশ কিছু নেতা-কর্মী আবারো ডাইভার্সিটি প্লাজায় জড়ো হন। তারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ এনে বক্তব্য দেন।
জাতিসংঘের ৭৬তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে রোববার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাকে স্বাগত জানাতে কর্মসূচি নিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা।
অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের লোকজন পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এ নিয়েই নিউইয়র্কে উত্তেজনা চলছে। বিডিনিউজ

English