Saturday, December 3, 2022
spot_img
Homeধর্মনবীদের মধ্যে যাঁরা বিশেষ মর্যাদার অধিকারী

নবীদের মধ্যে যাঁরা বিশেষ মর্যাদার অধিকারী

নবী-রাসুলদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা ঈমানের অপরিহার্য অংশ। তাদের প্রতি ঈমান আনা ব্যতীত কোনো ব্যক্তির ঈমানের দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। শুধু তা-ই নয়, কোনো মুমিন মৌলিক বিশ্বাসের নবী-রাসুলদের মধ্যে ব্যবধান করে না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তাদের সবাই (রাসুল ও মুমিনরা) আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবগুলো এবং তাঁর রাসুলদের প্রতি ঈমান এনেছে। তারা বলে, আমরা তার রাসুলগণের মধ্যে কোনো তারতম্য করি না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৮৫)

বিশ্বাসের জায়গায় সবাই সমান : কোনো সন্দেহ নেই সব নবী ও রাসুল (আ.) বিশ্বাসযোগ্য, সত্যবাদী ও সঠিক পথের নির্দেশক ছিলেন। তাঁরা সবাই আল্লাহর মনোনীত ও সম্মানিত বান্দা ছিলেন। আল্লাহর অর্পিত দায়িত্ব পালনে তাঁরা কখনো অবহেলা করেননি। পৃথিবীর কোনো নেককার ও আল্লাহভীরু মানুষ নবী-রাসুলদের সমমর্যাদায় পৌঁছাতে পারবে না। কেননা নবুয়ত এমন মর্যাদা, যা মানুষের চেষ্টা ও আমলের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব নয়, তারা ছিলেন সরাসরি আল্লাহ কর্তৃক মনোনীত। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ ফেরেশতাদের মধ্য থেকে মনোনীত করেন বাণীবাহক এবং মানুষের মধ্য থেকেও; আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সম্যক দ্রষ্টা। তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যা কিছু আছে তিনি তা জানেন এবং সব বিষয় আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।’ (সুরা হজ, আয়াত : ৭৫-৭৬)

আছে মর্যাদার তারতম্য : আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের বিশ্বাস মতে, পৃথিবীর সব নবী-রাসুল (সা.) সমমর্যাদার অধিকারী ছিলেন না, বরং তাদের মধ্যে মর্যাদার তারতম্য ছিল। এ বিষয়ে সব ইমাম একমত যে রাসুলরা নবীদের চেয়ে বেশি মর্যাদাবান ছিলেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘এসব রাসুল, তাদের মধ্যে কাউকে কারো ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যার সঙ্গে আল্লাহ কথা বলেছেন, আবার কাউকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৫৩)

বিশেষ মর্যাদার অধিকারী যাঁরা : নবী-রাসুলদের (আ.) মধ্যে বিশেষ মর্যাদার অধিকারীদের আল্লাহ ‘উলুল আজম’ (দৃঢ়প্রতিজ্ঞ) শব্দযুগলে ব্যক্ত করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘অতএব আপনি ধৈর্য ধারণ করুন, যেমন ধৈর্য ধারণ করেছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রাসুলগণ।’ (সুরা আহকাফ, আয়াত : ৩৫)

অন্য আয়াতে আল্লাহ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ নবী-রাসুলদের নাম আরো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘স্মরণ কোরো, যখন আমি নবীদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম এবং তোমাদের কাছ থেকেও; আর নুহ, ইবরাহিম, মুসা ও মারইয়াম-তনয় ঈসার কাছ থেকেও—তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করেছিলাম দৃঢ় অঙ্গীকার।’ (সুরা আহজাব, আয়াত : ৭)

শায়খ ইবনে উসাইমিন (রহ.) বলেন, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রাসুলদের মধ্যে মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ। কেননা তিনি বলেছেন, ‘আমি কিয়ামতের দিন মানুষের সর্দার হবো’ এবং মিরাজের রাতে নবী-রাসুলগণ তার পেছনে নামাজ আদায় করেন। এরপর ইবরাহিম (আ.)-এর মর্যাদা। কেননা তিনি নবীদের পিতা এবং সব বংশের মূলে আছেন তিনি। অতঃপর মুসা (আ.)-এর মর্যাদা। কেননা তিনি বনি ইসরাঈলের সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ছিলেন এবং বনি ইসরাঈলের মূল শরিয়ত (জীবনবিধান) ছিল তাঁরই শরিয়ত। এরপর নুহ ও ঈসা (আ.)। তাঁদের মধ্যে মর্যাদায় কোনো তারতম্য নেই।’ (মাজমাউল ফাতাওয়া : ৫/৭৫)

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ (সা.) : নবী-রাসুলদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসুল ছিলেন মুহাম্মদ (সা.)। কেননা আল্লাহ বলেন, ‘আশা করা যায়, আপনার প্রতিপালক আপনাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে।’ (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৭৯)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমাকে সব নবীর ওপর ছয়টি বিষয়ের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে। তা হলো, আমাকে ব্যাপকার্থক ভাবকে সংক্ষিপ্তভাবে প্রকাশের যোগ্যতা দান করা হয়েছে, প্রভাব-প্রতিপত্তি দান করে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে, গনিমত (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) আমার জন্য বৈধ করা হয়েছে, আমার জন্য সব জমিন মসজিদ ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করা হয়েছে, সমগ্র সৃষ্টির জন্য আমাকে নবী করে পাঠানো হয়েছে এবং নবীদের আগমনধারা আমার মাধ্যমে শেষ করা হয়েছে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৫২৩)

শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে বিতর্ক নয় : মহান আল্লাহ নবী-রাসুলদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রেষ্ঠত্ব দান করলেও তা নিয়ে বিতর্ক নিষিদ্ধ করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর নবীদের মধ্যে কাউকে কারো ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান কোরো না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৪১৪)

ইমাম নববী (রহ.) বলেন, ‘এখানে শ্রেষ্ঠত্বদান নিষিদ্ধ হওয়ার অর্থ হলো, যা মানুষকে বিতর্ক ও পারস্পরিক গর্বপ্রকাশের দিকে নিয়ে যায়।’ (শরহু সহিহ মুসলিম : ১৪/৩৮)

লেখক : সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments