Sunday, January 16, 2022
spot_img
Homeনির্বাচিত কলামনতুন মেরুকরণে বাংলাদেশের উদ্বেগগুলো

নতুন মেরুকরণে বাংলাদেশের উদ্বেগগুলো

সম্প্রতি পৃথিবীর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব কোণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আঞ্চলিক শক্তিধর দেশগুলোর একটি মেরুকরণের দৃশ্যপট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ‘কোয়াড’ থেকে ‘ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল’ হয়ে ‘অকাস’ ইত্যাদি ভিন্ন ভিন্ন শিরোনামে একই ধরনের উদ্দেশ্য-লক্ষ্য নিয়ে চীনের উত্থানে ভীত দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যদিও তারা বলছে একটি স্বাধীন, মুক্ত ও নিরাপদ ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গঠনই তাদের লক্ষ্য; কিন্তু বিভিন্ন কার্যক্রম, প্রক্রিয়া, বিবৃতি, বিতর্ক ইত্যাদিতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, মূলত চীনের উত্থানের অবসান ঘটানোই তাদের লক্ষ্য। তবে নতুন এই মেরুকরণকে পর্যবেক্ষকগণ দেখেছেন বৈশ্বিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা, ব্যবসায়-বাণিজ্যের দ্বান্দ্বিক টানাপড়েন, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উজ্জীবিত করা এবং অবৈধ অস্ত্রের অবাধ বাজার সৃষ্টির অনুঘটক হিসেবে। তাদের ধারণা বাংলাদেশসহ আঞ্চলিক ছোট দেশগুলোই হয়ে উঠতে পারে সম্ভাব্য দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাতের রক্তাক্ত ময়দান।

একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকের মাঝামাঝি শুরু হওয়া বিশ্বের নতুন মেরুকরণের চূড়ান্তরূপ ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে তৃতীয় দশকের শুরুতেই। একক বিশ্বব্যবস্থার কাণ্ডারি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বধীন পশ্চিমা বিশ্ব আফগানিস্তানে উপনিবেশ স্থাপনে ব্যর্থতার মুখে দাঁড়িয়ে চীনের দ্রুতগতির উত্থান দেখে হকচকিত হয়ে পড়ে। ‘ম্যাককিনসি করপোরেশন’-এর গবেষণা মতে যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে বিশ্বের এক নম্বর ধনী দেশে পরিণত হয়েছে চীন। ২০২০ সালে বিশ্বের মোট সম্পদ ৫১৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে ১২০ ট্রিলিয়নই চীনের সম্পদ (নয়া দিগন্ত : ১৭/১১/২০২১)। এভাবে চীনের অর্থনীতি, ব্যবসাবাণিজ্য ও অস্ত্র সম্ভারে ঈর্ষণীয় অগ্রগতি আর আঞ্চলিক নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বের আসনে সমাসীন দেখে পশ্চিমা বিশ্ব বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক কর্তৃত্ব হারানোর শঙ্কায় পড়ে যায়। তারা চীনের এই অগ্রযাত্রা ঠেকানোকেই তাদের মূল কৌশল হিসেবে পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। তাই যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ চীন সাগর তথা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের প্রভাবকে সীমিত করার সব ব্যবস্থা নেয়ার দিকে নজর দেয়। পুরো মনোযোগ চীনের দিকে নিবিষ্ট করার লক্ষ্যে আফগানিস্তানে তাদের পর্যুদস্ত বাহিনীকে চুক্তির মাধ্যমে ফিরিয়ে নিয়ে পশ্চিমা বাহিনীকে ঝুঁকিমুক্ত রাখার পদক্ষেপ গ্রহণ করে। চীন ঠেকাও প্রকল্পে তাদের সাথে সংযুক্ত করে নেয় আঞ্চলিক শক্তি জাপান, ভারত আর অস্ট্রেলিয়াকে। সেই সাথে চেষ্টা করতে থাকে ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত সুবিধাজনক এবং ভূরাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত বাংলাদেশকে সাথে নেয়ার জন্য। ফলে এই নতুন মেরুকরণের প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের জন্য কিছু উদ্বেগের জায়গা সৃষ্টি হচ্ছে যা সতর্কতার সাথে মোকাবেলা করা সময়ের দাবি।

আফগানিস্তানে মার্কিনিরা ২০ বছরের যুদ্ধে ট্রিলিয়ন ডলার খরচ ও কয়েক হাজার সৈন্যের জীবন ক্ষয় করে পরাজিত হয়ে ফিরে গেছে। সামনের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই পরাজয়ের এই গ্লানি মুছে নিয়ে ভূলুণ্ঠিত ইজ্জত আর জনপ্রিয়তা ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট বাইডেন মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এই জন্য প্রয়োজন নতুন একটি ফ্রন্ট খোলা যেখানে সঙ্ঘাতে জড়ানোর পরিবর্তে হুমকি-ধমকি দিয়ে এবং কূটনৈতিক সফলতা দেখিয়ে হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করা যাবে। চীনের সাথে গায়ে পড়ে ঝগড়া-বিবাদ এবং নতুন জোট তৈরির পাঁয়তারার মধ্য দিয়েই তা প্রমাণিত হচ্ছে। অন্য দিকে, মধ্যপ্রাচ্যের কর্তৃত্ব সৌদি রাজ এবং ইসরাইলের সন্ত্রাসী সরকারের কব্জায় থাকায় সে দিকে মার্কিনিরা নিশ্চিন্ত। সুতরাং দক্ষিণ এবং দক্ষিণপূর্ব এশিয়া অঞ্চলে দ্বন্দ্ব সৃষ্টির মাধ্যমে মার্কিন উপস্থিতি শক্তিশালী করার একটি প্রয়াস দেখা যাচ্ছে। আবার আফগানিস্তানে তালেবানদের বিজয়ে অন্যতম আঞ্চলিক শক্তি ভারত অর্থনৈতিক, ভূরাজনৈতিক এবং কূটনৈতিকভাবে স্মরণকালের ইতিহাসের সবচেয়ে সঙ্গিনভাবে পর্যুদস্ত হয়ে পড়েছে। অন্য দিকে তালেবানদের সাথে চীনের নতুন সখ্য সৃষ্টি এবং পাকিস্তানের সাথে পুরাতন বন্ধুত্ব মজবুত হওয়ার প্রেক্ষিতে ভারত আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে। একই সাথে এটাকে তারা কাশ্মিরি স্বাধীনতা আন্দোলনকারীদের পুনরুত্থানের প্রভাবক হিসেবে দেখতে পাচ্ছে। ফলে এই দুঃসময়ে ভারত অসহায়ভাবে আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলোকে পাশে পেতে চাচ্ছে।

দক্ষিণ চীন সাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ভূরাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে তাইওয়ান। তাইওয়ান প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে চীনের ভ্যানগার্ড বা সম্মুখ পাহারাদার হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। কাজেই এই তাইওয়ানকে স্বাধীনতা দেয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষায় পশ্চিমা মিত্রদেরসহ তাইওয়ানের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এতে চীনের শক্তিমত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ায় উত্তেজনা ও দুই পরাশক্তির সঙ্ঘাতের সম্ভাবনা দিন দিনই বাড়ছে। কারণ, তাইওয়ানকে সমর্থন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগুন নিয়ে খেলছে বলে চীন হুঁশিয়ারি উচ্চরণ করেছে (প্রথম আলো : ১৭/১১/২০২১)। এভাবে বিতর্কের ধূম্রজাল বুনে মার্কিন নাগরিকদের মনোযোগ আকর্ষণের মাধ্যমে বাইডেন প্রশাসন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে লাভবান হচ্ছে। এই সুযোগে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কর্তৃত্বের অন্যান্য দাবিদার জাপান এবং অস্ট্রেলিয়া চীনের প্রভাবকে খর্ব করার প্রয়াসে আমেরিকার সাথে গাঁটছাড়া বাঁধছে।

এ দিকে দক্ষিণ এশিয়ায় ইন্দো-চীন পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে যাচ্ছে। গত বছরের জুন মাসে লাদাখে শুরু হওয়া সীমান্ত সঙ্ঘাত কোনোভাবেই থামছে না; বরং দিন দিন জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। উভয় পক্ষই তাদের শক্তি বৃদ্ধি করে চলছে সীমান্তে। গত ২৩ অক্টোবর চীন তাদের নতুন স্থলসীমান্ত আইন সংসদে পাস করেছে। এই আইন চীন সরকারকে ভারত সীমান্তে চীনের নিরাপত্তা বাহিনীকে মোতায়েন করা, সীমান্তের চীনা জনগণকে গণপ্রতিরক্ষার প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং সীমান্তে অবকাঠামো নির্মাণের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে (প্রথম আলো : ২৮/১০/২০২১)। অন্য দিকে পাল্টা পদক্ষেপে ভারত তাদের ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-৫ সফলভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। পাঁচ হাজার কিলোমিটার দূরে আঘাত হানতে সক্ষম এই অগ্নি-৫ চীনের যেকোনো স্থানসহ পুরো এশিয়ায় সহজেই আঘাত করতে পারবে (প্রথম আলো : ২৯/১০/২০২১)। আরেক ফ্রন্টে কাশ্মির নিয়ে চীনের বন্ধু পাকিস্তানের সাথে ভারতের চলছে যুদ্ধংদেহী সম্পর্ক। সব মিলে এই অঞ্চল অস্ত্র প্রতিযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক ও সামরিক দ্বন্দ্বের লীলাভূমিতে পরিণত হতে যাচ্ছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন সিরিয়া যুদ্ধে ব্যস্ত এবং আফগানিস্তানে তালেবানদের পাতা চোরাবালিতে আটকে ছিল, তখন ২০১৩ সালে চীন ব্যবসাবাণিজ্য ও অর্থনীতিতে বৈশ্বিক প্রভাব বলয় সৃষ্টির জন্য ৭০টি দেশকে যুক্ত করে ‘অঞ্চল ও পথের (ইজও) উদ্যোগ’ প্রকল্প নিয়ে এগোতে থাকে। এই ‘ব্রি’ প্রকল্প বিশ্বের মানচিত্রে চীনের কৌশলগত অগ্রাভিযানের ইঙ্গিত দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা এতে প্রমাদ গোনে। আঞ্চলিক পরাশক্তি ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া নতুন করে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে। ফলে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় নিরাপদ, স্বাধীন ও মুক্তাঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি’ (আইপিএস) ধারণা চালু করে। এর আগে উদ্বিগ্ন জাপান চীনের প্রাবল্য নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে ২০০৭ সালে ‘কোয়াড’ বা ‘কোয়াড্রিল্যাটারাল সিকিউরিটি ডায়লগ’ (ছঁধফ) জোট গঠনের উদ্যোগ নেয় যাতে যুক্ত হয় ভারত, যুক্তরাষ্ট্র এবং অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু চীনের অদম্য গতি কিছুতেই থামছে না। দক্ষিণ চীন সাগরে শক্তিমত্তার প্রদর্শন, আফগানিস্তানের সাথে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যক সফলতা এবং ভারত সীমান্তে দুর্নিবার প্রতাপ বজায় রাখায় চীনের মোকাবেলায় পশ্চিমারা আরো একধাপ এগিয়ে ‘অকাস’ চুক্তির ঘোষণা করে। অস্ট্রেলিয়া, ইউকে এবং এউএস (অটকটঝ) মিলে এই নিরাপত্তা চুক্তি সম্পন্ন করে। চুক্তির আওতায় অস্ট্রেলিয়াকে পারমাণু শক্তি চালিত সাবমেরিন সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে ভারত ও জাপান সতর্কতার সাথেই এই ‘অকাসে’র সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্টতা থেকে আপাত দূরে রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

বাংলাদেশ ‘আইপিএস’ এ বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক স্বার্থে সংশ্লিষ্ট হতে ইতিবাচক হলেও এখন পর্যন্ত ‘কোয়াডের’ সাথে জড়িত হয়নি। কিন্তু ২০২১ সালের মার্চ মাসে ‘কোয়াড’ গতি পায় এবং ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া ও নিউজিল্যান্ড যুক্ত হয়ে ‘কোয়াড প্লাস’ যাত্রা শুরু করে। এরই মধ্যে বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিম্মিং গত ১০ মে হঠাৎই বাংলাদেশের ‘কোয়াডের’ সাথে জড়িত হওয়ার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। এ দিকে ভারতের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াত গত ২৩ অক্টোবর চীনের সাথে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সহযোগিতার ব্যাপারে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন (নয়া দিগন্ত : ২৫/১০/২০২১)। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ভূরাজনৈতিকভাবে বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় ‘কোয়াড’, ‘আইপিএস’, ‘অকাস’ ইত্যাদির বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশকে অত্যন্ত প্রয়োজন। একই সাথে ভারতের আঞ্চলিক একাধিপত্য প্রতিষ্ঠার অভিশাপ থেকে আত্মরক্ষা ও তাদের একতরফাভাবে বাংলাদেশ থেকে সব স্বার্থ আদায়ের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সহযোগিতার জন্য চীনকে বাংলাদেশের একান্ত প্রয়োজন। আবার তৈরী পোশাক রফতানি এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের পশ্চিমা দেশগুলোকেও বাংলাদেশের প্রয়োজন। এমতাবস্থায় এসব ‘ধারণা’, ‘জোট’ বা ‘চুক্তি’র বিষয়ে বাংলাদেশকে অত্যন্ত সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করতে হবে এবং ভারত ও চীনের সাথে সূক্ষ্ম ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করতে হবে।

লক্ষণীয় হলো আমাদের আঞ্চলিক সমুদ্রসীমায় বিভিন্ন ‘জোট’ ও ‘চুক্তি’র উত্থান ঘটছে সমুদ্রের আধিপত্যকে কেন্দ্র করে। ফলে ভারত মহাসাগর, দক্ষিণ চীন সাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কর্তৃত্ব দখলের লড়াইয়ে চীনের সাথে পশ্চিমাশক্তিগুলোর দ্বন্দ্ব ও পারমাণবিকসহ নানা গণবিধ্বংসী অস্ত্রের প্রতিযোগিতা ভয়ঙ্কর করে তুলবে আমাদের আপাত শান্ত অঞ্চলকে। এই সামরিকীকরণের ছায়ায় ক্ষুদ্রাস্ত্রও ছড়িয়ে পড়বে আঞ্চলিক দেশগুলোর ভেতরে-বাইরে। বাংলাদেশেও তার প্রভাবে পড়তে বাধ্য। অন্য দিকে চীন-ভারতের মধ্যেও সীমান্তে অস্ত্র ও সামরিক জনবল বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা চলছে। তবে বড় দেশগুলো নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ বাধালে তাদের সংঘর্ষ সাধারণত হয় তৃতীয় কোনো দেশে। নিজেদের দেশের মাটিকে বৃহৎ শক্তিগুলো যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের আওতার বাইরে রাখতে চায়। ফলে এই দুই আঞ্চলিক শক্তির মধ্যকার সংঘর্ষের ময়দান বাংলাদেশ হয়ে পড়ে কি না তা আমাদের জন্য অবশ্যই একটি শঙ্কার বিষয় হতে পারে। কারণ যেকোনো সঙ্ঘাতে ভারতের শত্রুদেশ ধরেই নেবে ভারতের দুই অঞ্চলের অস্ত্র-রসদ যাতায়াতের সম্ভাব্য করিডোর হতে পারে বাংলাদেশ!

এমতাবস্থায় এক দিকে চীন ও ভারত উভয়ের কাছ থেকে বাংলাদেশকে দ্বিতীয় পক্ষকে সমর্থন না দেয়ার হুমকি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের তৈরী পোশাকের বাজার এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ইত্যাদি সব বিবেচনায় রেখেই আমাদের কূটনীতির আঁটসাঁট রশির উপর দিয়ে চলতে হচ্ছে। সামান্য ভুল আমাদের বড় বিপদের দিকে ঠেলে দিতে পারে। কাজেই এই মুহূর্তে সতর্ক-কূটনীতির সফলতাই হতে পারে আমাদের নিরাপত্তার প্রথম স্তর।

লেখক : নিরাপত্তা বিশ্লেষক

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments