Tuesday, May 28, 2024
spot_img
Homeনির্বাচিত কলামনতুন নির্বাচন কমিশন

নতুন নির্বাচন কমিশন

সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগের মধ্য দিয়ে কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বে ১৩তম নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে। এবারই প্রথম প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনার পদে একই সঙ্গে তিনজন সিনিয়র সচিব পর্যায়ের সাবেক কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাকি দুজনের মধ্যে একজন জেলা ও দায়রা জজ এবং অপরজন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল। ইতঃপূর্বে কেএম নূরুল হুদা, কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ ও ড. এটিএম শামসুল হুদা কমিশনের সিইসি ও কমিশনার পদে সর্বোচ্চ একজন সাবেক সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো গত ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন নিয়োগ আইন পাশ হয়। ওই আইনের আলোকে আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে প্রধান করে ছয় সদস্য বিশিষ্ট সার্চ কমিটি গঠন করে দেন রাষ্ট্রপতি। সার্চ কমিটি রাজনৈতিক দল ও সুধীজনের কাছে নাম আহ্বান করলে সরাসরি ও ই-মেইলের মাধ্যমে অন্তত ৫০০ জনের নাম জমা পড়ে। তবে সার্চ কমিটিতে বিএনপি, সিপিবি, বাসদসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশন পদে কারও নাম দেয়নি। সার্চ কমিটি প্রথম দফায় ৩২২ ও দ্বিতীয় দফায় ৩২৯ জনের নাম বাছাইয়ের পর একাধিক দফায় বৈঠক করে। এসব নাম থেকে ১০ জনের নাম চূড়ান্ত করে বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দিয়েছিলেন, যার ভিত্তিতে ১৩তম নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে।

নবগঠিত নির্বাচন কমিশনের আগ পর্যন্ত দেশে নূরুল হুদা কমিশনসহ ১২টি নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে এবং ১১টি কমিশনের ৩টি ছাড়া ৮টি কমিশন ১০টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা করেছে। এসব নির্বাচনের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় চারটি নির্বাচন ছাড়া বাদবাকি নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। হতাশাজনক হলো, একটি গণতান্ত্রিক দেশে যতটা শক্তিশালী নির্বাচনি ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, তা গড়ে তুলতে পারিনি আমরা। এ অবস্থায় স্বাধীন, দৃঢ়চেতা এবং যে কোনো অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার মানসিকতাসম্পন্ন নির্বাচন কমিশন প্রয়োজন, তা বলাই বাহুল্য। আশার কথা, নতুন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বিরাজমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে বলেছেন, সব দলকে নির্বাচনমুখী করাই হবে তার কমিশনের মূল লক্ষ্য। এ কাজে নবগঠিত নির্বাচন কমিশন কতটা সফল হয়, এটাই এখন দেখার বিষয়।

বলার অপেক্ষা রাখে না, দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যকার সম্পর্ক শত্রুতায় পর্যবসিত হওয়ায় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা ও দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়েছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর অব্যাহত সংঘাত ও নৈরাজ্যের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকী ‘ফরেন পলিসি’ সংঘাতের দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের যে তালিকা তৈরি করেছিল, তাতে বাংলাদেশের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল। আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নতুন নির্বাচন কমিশনের হাতে খুব বেশি সময় নেই। এর মধ্যেই সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। দেখা গেছে, দেশে নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা, সংঘাত ও প্রাণহানির ঘটনাই সবচেয়ে বেশি ঘটে থাকে। দশকের পর দশক ধরে এর পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকুক, আমরা তা চাই না। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে এখন থেকেই প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে নবগঠিত নির্বাচন কমিশন, এটাই প্রত্যাশা।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments