Wednesday, June 12, 2024
spot_img
Homeবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনতুন কী আনল অ্যাপল

নতুন কী আনল অ্যাপল

অ্যাপল এম২ প্রসেসর

বহনযোগ্য কম্পিউটিংয়ের দুনিয়ায় সাড়া ফেলে দেওয়া অ্যাপল এম সিরিজের নতুন প্রসেসর অ্যাপল এম২। নির্মাতার দাবি, এম১-এর তুলনায় ১৮ শতাংশ দ্রুত কাজ করতে সক্ষম এই প্রসেসর, কিন্তু নতুন মডেলের মূল আকর্ষণ হলো আগের চেয়ে ২৫ শতাংশ শক্তিশালী গ্রাফিকস পারফরম্যান্স। এ ছাড়া তাদের দাবি, নতুন চিপে থাকা নিউরাল প্রসেসর আগের চেয়ে ৩৫ শতাংশ দ্রুত কাজ করতে সক্ষম। এবারের সিস্টেম অন আ চিপ বা এসওসিতে থাকছে আগের মতোই ৮ কোরের সিপিউ, যার চারটি কোর শক্তিশালী আর বাকি চারটি ব্যাটারি সাশ্রয়ী।

জিপিইউ কোর আটটি থেকে ১০টি পর্যন্ত থাকছে, ভেরিয়েন্ট অনুযায়ী। সম্মিলিত ভির‌্যাম ও র‌্যাম মিলিয়ে তৈরি ইউনিফায়েড মেমোরি থাকছে আট থেকে ২৪ জিবি পর্যন্ত, যার প্রযুক্তি এলপিডিডিআর৫। এসওসিটি তৈরি করা হয়েছে টিএসএমসির ৫ন্যানোমিটার প্লাস প্রযুক্তিতে। অ্যাপলের দাবি, এম১-এর চেয়ে ১৮ শতাংশ কম শক্তি খরচ করবে এম২। নতুন প্রসেসরটির দেখা আপাতত ম্যাকবুক এয়ার আর ১৩ ইঞ্চি ম্যাকবুক প্রোতে পাওয়া যাবে।

নতুন চেহারায় ম্যাকবুক এয়ার

ম্যাকবুক এয়ারের ওয়েজ শেপ এবারের নতুন ডিজাইনে বাদ দেওয়া হয়েছে। সামনে চিকন, পেছনে মোটা ডিজাইনের বদলে আগাগোড়া সমান এবং কোণগুলো আরো চতুষ্কোণ আকৃতির করে, এয়ারের চেহারায় ১৪ ইঞ্চি প্রোর ছাপ এনেছে অ্যাপল। তবে এবারের ম্যাকবুকটির আকার আগের চেয়ে বড়। কেননা এটির ডিসপ্লে ১৩ থেকে ১৩.৬ ইঞ্চি করা হয়েছে। বেড়েছে ডিসপ্লের রেজল্যুশন, আর ব্রাইটনেস এবার সর্বোচ্চ ৫০০ নিট। ডিসপ্লেতে ঠাঁই পেয়েছে নচ, তবে সঙ্গে ক্যামেরার রেজল্যুশনও ৭২০পি থেকে করা হয়েছে ১০৮০পি। কি-বোর্ডের ডিজাইন পুরোপুরি ১৪ ইঞ্চি ম্যাকবুক প্রোর মতো করা হয়েছে। পোর্টে পরিবর্তন আসেনি, তবে জায়গা করে নিয়েছে ম্যাগসেফ ৩ চার্জিং। নতুন একটি রং ‘মিডনাইট’ও লাইনআপে আনা হয়েছে। এবারের ম্যাকবুক এয়ারে থাকবে এম২ প্রসেসর, সর্বোচ্চ ৮ কোর সিপিইউ, ১০ কোর জিপিইউ, ২৪ জিবি মেমোরি এবং ২ টেরাবাইট স্টোরেজ। চার্জিং সর্বোচ্চ ৬৭ ওয়াট, শূন্য থেকে ৮০ শতাংশ চার্জ হবে ৩০ মিনিটে। ব্যাটারি লাইফ হবে সর্বোচ্চ ১৮ ঘণ্টা। মূল্য শুরু এক হাজার ১৯৯ ডলার থেকে। এম২ চিপযুক্ত ১৩ ইঞ্চি ম্যাকবুক প্রোও বাজারে আসবে, তবে বাকি সব হার্ডওয়্যার থাকবে এম১ প্রোর মতোই।

অপারেটিং সিস্টেম আপডেট

আইওএস ১৬, আইপ্যাডওএস ১৬, ওয়াচওএস৯ ও ম্যাকওএস ভেঞ্চুরা উন্মোচন করেছে অ্যাপল। অপারেটিং সিস্টেমগুলোর নতুন সংস্করণ ঘোষণা করা হলেও নতুন ফিচারের অভাব ভালোভাবেই লক্ষণীয়। আইওএসের ক্ষেত্রে লকস্ক্রিন, আর ওয়াচওএসের ক্ষেত্রে ওয়াচফেস কাস্টমাইজ করার ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। আইওএস ১৬তে প্রচুর শেয়ারিং ফিচার আনা হয়েছে, যেমন পুরো পরিবার নিয়ে তৈরি করা যাবে ইমেজ লাইব্রেরি, যাতে পরিবারের সবাই সবার ক্যামেরায় তোলা ছবি দেখতে পায়। সেটিংস অ্যাপের ডিজাইনেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। আইপ্যাডওএস ১৬-এর নতুন ফিচার তেমন নেই। শুধু এম১ চিপসংবলিত আইপ্যাড পাবে বাড়তি মনিটরে আলাদাভাবে অ্যাপ চালানোর সুবিধা। এর আগে শুধু আইপ্যাডের ডিসপ্লে মিরর করা যেত। ওয়াচওএস ৯তে বেশ কিছু নতুন স্বাস্থ্য ফিচার যুক্ত করা হয়েছে, যেমন স্লিপ অ্যানালিসিস ও ওষুধ সম্পর্কিত তথ্য। ম্যাকওএস ভেঞ্চুরা পাচ্ছে আইফোনকে ওয়েবক্যাম হিসেবে ব্যবহার করার সুবিধা, বেশ কিছু নতুন কন্টিনিউয়িটি ফিচার, এবং সবচেয়ে বড় আপডেট, নতুন মেটাল ৩ এপিআই। এর মাধ্যমে ম্যাকে বেশ কিছু নতুন গেমিং সুবিধা পাওয়া যাবে, যেমন প্লেস্টেশনের মতো সরাসরি এসএসডি থেকে জিপিইউতে টেক্সচার লোড করা এবং এনভিডিয়ার ডিএলএসএসের মতো ফ্রেমরেট বাড়ানোর ফিচার। নতুন ফিচারগুলোর ক্ষমতা দেখাতে তারা নো-ম্যানস স্কাই ও রেসিডেন্ট ইভিল ৮-এর ম্যাক সংস্করণ চালিয়ে দেখিয়েছে। ফিচারগুলো এম১ সংবলিত আইপ্যাডেও পাওয়া যাবে, এর মধ্যেই নো-ম্যানস স্কাইয়ের আইপ্যাড সংস্করণও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

যেসব ডিভাইস আপডেট থেকে বাদ পড়ছে

প্রতিবারই ডাব্লিউডাব্লিউডিসির মাধ্যমে পুরনো কিছু ডিভাইসকে আপডেট তালিকা থেকে সরিয়ে থাকে অ্যাপল। এবার বাদ পড়ছে আইফোন ৬এস, ৭, ৭প্লাস এবং প্রথম আইফোন এসই মডেল। আইপ্যাডের তালিকায় নেই চতুর্থ প্রজন্মের আইপ্যাড ও আইপ্যাড মিনি এবং দ্বিতীয় প্রজন্মের আইপ্যাড এয়ার। সব আইপ্যাড প্রো আপডেট পাবে। ওয়াচের ক্ষেত্রে তৃতীয় প্রজন্মের অ্যাপল ওয়াচ বাদ যাচ্ছে। আর ম্যাকের ক্ষেত্রে ২০১৫-১৬ এবং ম্যাকবুক এয়ারের ক্ষেত্রে ২০১৭ পর্যন্ত সব ম্যাক আপডেট থেকে হবে বঞ্চিত।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments