Wednesday, April 17, 2024
spot_img
Homeনির্বাচিত কলামধ্বংসাত্মক কাজ বন্ধ করুন

ধ্বংসাত্মক কাজ বন্ধ করুন

চট্টগ্রামে অবাধে পাহাড় কাটা

চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের বড় দুটি ঘটনার মধ্যে একটি ঘটেছিল ২০০৭ সালে, মারা গিয়েছিল ১২৭ জন। অন্য বড় ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৭ সালে। তখন মারা গিয়েছিল ১৬৮ জন। এ ছাড়া প্রায় প্রতিবছরই ঘটছে এক বা একাধিক পাহাড়ধসের ঘটনা।

বিশেষজ্ঞরা পাহাড়ধসের জন্য মূলত দায়ী করেন অবৈধ পাহাড় কাটাকে। তার পরও পাহাড় কাটা বন্ধ হচ্ছে না। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী, আকবরশাহ, খুলশীসহ নগরের বিভিন্ন এলাকায় নির্বিচারে পাহাড় কাটা হচ্ছে। বায়েজিদ বোস্তামীতে পাহাড় কেটে প্লট বানিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এসব প্লটে পাকা বা আধাপাকা বাড়ি বানিয়ে মানুষ বসবাস করছে। সেসব বাড়িতে পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছে। প্লটের নিরাপত্তায় বসেছে সিসিটিভি ক্যামেরা। পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে সড়ক। আইনত পাহাড় কাটা নিষিদ্ধ হলেও আইন বাস্তবায়নের কোনো আগ্রহ বা উদ্যোগ চোখে পড়ে না।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে নগরের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের পাহাড় কেটে ঘরবাড়ি বানানোর বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। ৪০ ফুট উঁচু পাহাড় কেটে সমতল করে ফেলার মতো ঘটনাও ঘটেছে। শত শত ট্রাকে করে এসব মাটি পরিবহন করা হচ্ছে। বহু বাড়িঘর নির্মিত হচ্ছে। হাউজিংয়ের সাইনবোর্ড দিয়ে প্লট বিক্রি করা হচ্ছে। এসব ব্যাপারে প্রশাসন কিছুই জানে না, সেটি কেমন করে হয়? অভিযোগ রয়েছে, পাহাড়ে চলা অবৈধ কর্মকাণ্ডের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে উৎকাচ প্রদান করতে হয়। সেখানে যারা বসবাস করে, তারাও পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজনকে নিয়মিত উৎকাচ দেয়। উৎকাচ না পেলেই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অবশ্য স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, তারা সরাসরি পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজনকে অর্থ দেয় না। সমিতি বা দালালদের হাতে সেই উৎকাচের অর্থ দিতে হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশবিদ্যা ইনস্টিটিউটের ২০১১ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, বায়েজিদ, খুলশী, পাহাড়তলী, মতিঝর্ণা, ষোলশহর ও ফয়’স লেক এলাকায় সর্বাধিক পাহাড় কাটা হয়েছে। ১৯৭৬ সাল থেকে পরবর্তী ৩২ বছরে ৮৮টি পাহাড় সম্পূর্ণ এবং ৯৫টি আংশিক কাটা হয়। সবচেয়ে বেশি পাহাড় কাটা হয়েছে পাঁচলাইশে। ২০১৫ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য এক গবেষণাপত্রে বলা হয়, নগরে থাকা ২০০ পাহাড়ের মধ্যে ১০০টি কেটে আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা গড়ে তোলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনো যদি পাহাড় কাটা বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তাহলে অচিরেই বাকি পাহাড়গুলোও কাটা হয়ে যাবে। চট্টগ্রামে আর কোনো পাহাড় অবশিষ্ট থাকবে না।

১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী দেশে পাহাড় হোক, টিলা হোক—সেগুলো কাটা নিষিদ্ধ। ২০১০ সালে আইনটি সংশোধন করা হয়েছে। এ ছাড়া অনেক আইন রয়েছে। কিন্তু সেসব আইনের প্রয়োগ কোথায়? জেলা প্রশাসন বা পরিবেশ অধিদপ্তর সেখানে কী ভূমিকা পালন করছে? পাহাড় কেটে বানানো ঘরবাড়িতে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ দেওয়া হয় কিভাবে? আমরা আশা করি, পাহাড় কাটা বন্ধে সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ আন্তরিকতার পরিচয় দেবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments