Sunday, June 23, 2024
spot_img
Homeনির্বাচিত কলামদ্রুত বিচারের বিকল্প নেই

দ্রুত বিচারের বিকল্প নেই

প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। থেমে নেই শিশু নির্যাতনের ঘটনা। একটি বেসরকারি সংস্থার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের তথ্য নিয়ে কালের কণ্ঠে গতকাল প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, দেশে গত বছর ৮১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ৯৪ শিশুকে।

আর ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১৪ শিশুকে। এ ছাড়া নানাভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১১০ শিশু। গত বছর ৫৭ ছেলেশিশু ও ২১ মেয়েশিশু আত্মহত্যা করেছে। এই সময়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করতে গিয়ে আহত হয়েছে ২৩ শিশু। ২০২০ সালে আত্মহত্যাকারী শিশুর সংখ্যা ছিল ৩৪। মূলত পরীক্ষায় ফল বিপর্যয়, পরিবারের ওপর রাগ, উত্ত্যক্ত হওয়া, ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টার শিকার, ধর্ষণ বা শ্লীলতাহানির বিচার না পাওয়া এবং সাইবার ক্রাইম বা ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া গত বছর ১৮৩ শিশুকে হত্যার পাশাপাশি ১৩৫ শিশুকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। ২০২০ সালে হত্যার শিকার হয় ১৪৫ শিশু।

নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধনীতে ধর্ষণের বিচারে মৃত্যুদণ্ড ছাড়াও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। কিন্তু তার পরও ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টা বন্ধ হয়নি। পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা আমাদের সহনশীল সমাজের পরিচয় যেন পাল্টে দিচ্ছে একের পর এক ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা। এখন নৈতিকতা যেন নির্বাসিতপ্রায়। মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় চরমে পৌঁছেছে। শহর থেকে গ্রাম-সর্বত্রই অবক্ষয় যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা হতাশাজনক।

আমাদের দেশে শিশু নির্যাতনের ঘটনা অহরহই ঘটছে। সামান্য কারণে শিশুদের আঘাত করা হচ্ছে। কোনোভাবেই শিশু নির্যাতন বন্ধ হচ্ছে না। সমাজ দিন দিন অধঃপতনের খাদে নেমে যাচ্ছে বলেই শিশুর নিরাপত্তা সুরক্ষিত নয়। এমনকি সমাজও প্রতিষ্ঠান হিসেবে শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না। মানুষের মানবিক বৈশিষ্ট্যগুলোও যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। আমাদের সমাজে কিছু মানুষের কুপ্রবৃত্তি এমনভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এ কারণেই যৌন নির্যাতনসহ শিশু নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিলম্বিত বিচার।

এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments