Monday, April 15, 2024
spot_img
Homeধর্মদোয়া বহু সমস্যার সমাধান

দোয়া বহু সমস্যার সমাধান

মানুষের জীবনে ভালো সময় খারাপ সময় সবই থাকে। সুখ-দুঃখ, স্থিতিশীলতা-সংকট এগুলো নিয়েই জীবন। সংকটের দিনগুলোতে মানুষ অস্থির হয়ে পড়ে। অনেক সময় অনেক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে।

অথচ মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ধৈর্য সহকারে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইলে মুক্তি পাওয়া সহজ হয়ে যায়। দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে বিগত দিনের নেক আমলের অসিলায় আল্লাহর কাছে দোয়া করলেও বহু সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।

হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ইবনে উমর (রা.) সূত্রে নবী (সা.) বলেন, একদা তিন ব্যক্তি হেঁটে চলছিল। এমন সময় প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে তারা এক পাহাড়ের গুহায় প্রবেশ করে। হঠাৎ একটি পাথর গড়িয়ে তাদের গুহার মুখ বন্ধ করে দেয়। তাদের একজন আরেকজনকে বলল, তোমরা যেসব আমল করেছ, তার মধ্যে উত্তম আমলের অসিলা করে আল্লাহর কাছে দোয়া করো। তাদের মধ্যে একজন বলল, আল্লাহ! আমার অতিবৃদ্ধ পিতা-মাতা ছিলেন, আমি (প্রত্যহ সকালে) মেষ চরাতে বের হতাম। তারপর ফিরে এসে দুধ দোহন করতাম এবং এই দুধ নিয়ে আমার পিতা-মাতার নিকট উপস্থিত হতাম ও তাঁরা তা পান করতেন। তারপরে আমি শিশুদের, পরিজনদের এবং স্ত্রীকে পান করতে দিতাম। এক রাতে আমি আটকা পড়ে যাই। তারপর আমি যখন এলাম তখন তাঁরা দুজন ঘুমিয়ে পড়েছেন। সে বলল, আমি তাদের জাগানো পছন্দ করলাম না। আর তখন শিশুরা আমার পায়ের কাছে (ক্ষুধায়) চিৎকার করছিল। এ অবস্থায়ই আমার এবং পিতা-মাতার ফজর হয়ে গেল। ইয়া আল্লাহ! তুমি যদি জানো তা আমি শুধুমাত্র তোমার সন্তুষ্টি লাভের আশায় করেছিলাম, তা হলে তুমি আমাদের গুহার মুখ এতটুকু ফাঁক করে দাও, যাতে আমরা আকাশ দেখতে পারি। বর্ণনাকারী বলেন, তখন একটু ফাঁকা হয়ে গেল। আরেকজন বলল, ইয়া আল্লাহ! তুমি জানো যে আমি আমার এক চাচাতো বোনকে এত ভালোবাসতাম, যা একজন পুরুষ নারীকে ভালোবেসে থাকে। সে বলল, তুমি আমার হবে সে মনষ্কামনা সিদ্ধ করতে পারবে না, যতক্ষণ আমাকে এক শ দিনার না দেবে। আমি চেষ্টা করে তা সংগ্রহ করি। তারপর আমি যখন তার পদদ্বয়ের মাঝে উপবেশন করি, তখন সে বলে ‘আল্লাহকে ভয় করো। ’ বৈধ অধিকার ছাড়া মাহরকৃত বস্তুর সিল ভাঙবে না। এতে আমি তাকে ছেড়ে উঠে পড়ি। (হে আল্লাহ) তুমি যদি জানো আমি তা তোমারই সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে করেছি, তবে আমাদের হতে আরো একটু ফাঁক করে দাও। তখন তাদের হতে (গুহার মুখের) দুই-তৃতীয়াংশ ফাঁক হয়ে গেল। অপরজন বলল, হে আল্লাহ! তুমি জানো যে, এক ফারাক (পরিমাণ) শস্যদানার বিনিময়ে আমি একজন মজুর রেখেছিলাম। আমি তাকে তা দিতে গেলে সে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করল। তারপর আমি সে এর ফারাক শস্যদানা দিয়ে চাষ করে ফসল উৎপন্ন করি এবং তা দিয়ে গরু ক্রয় করি এবং রাখাল নিযুক্ত করি। কিছুকাল পরে সে মজুর এসে বলল, হে আল্লাহর বান্দা! আমাকে আমার পাওনা দাও। আমি বললাম, এই গরুগুলো ও রাখাল নিয়ে যাও। সে বলল, তুমি কি আমার সঙ্গে উপহাস করছ? আমি বললাম, আমি তোমার সঙ্গে উপহাস করছি না বরং এসব তোমার। হে আল্লাহ! তুমি যদি জানো আমি তা তোমারই সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করেছি, তবে আমাদের হতে (গুহার মুখ) উন্মুক্ত করে দাও। তখন তাদের হতে গুহার মুখ উন্মুক্ত হয়ে গেল। (বুখারি, হাদিস : ২২১৫)

সুবহানাল্লাহ! এখন কথা হলো, আল্লাহর সামনে অসিলা হিসেবে দাঁড় করানোর মতো কোনো নেক আমল আমাদের আছে কি না, তা দেখতে হবে। এবং আমাদের সেই আমলে ইখলাস কতটুকু ছিল, তা-ও দেখতে হবে। তাই আমাদের উচিত সুখের দিনগুলোতে এমনভাবে নেক আমল করা, যাতে সেগুলোর অসিলায় সংকটের দিনেও মহান আল্লাহর সাহায্য পাওয়া যায়। মহান আল্লাহ সবাইকে তাওফিক দান করুন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments