Saturday, July 2, 2022
spot_img
Homeখেলাধুলা‘দল জিতলে সান্ত্বনা পেতাম’ : রুবেল

‘দল জিতলে সান্ত্বনা পেতাম’ : রুবেল

দেশে ফিরে গেছে মাহমুদুল্লাহর দল। সুপার টুয়েলভে একের এক লজ্জার হার উপহার দিয়েছে তারা। তাদের দেয়া দাগ কোনভাবেই যেন ভুলতে পারছেন না সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসী বাংলাদেশি ক্রিকেটভক্তরা। দুবাইয়ের চায়ের টেবিল, খাবার দোকানে দু’তিন জন বাংলাদেশি বসলেই শোনা যায় টাইগারদের নিয়ে আক্ষেপের গল্প। ১৪ বছর ধরে বিশ্বকাপের মূল পর্বে কোন জয় নেই। এবার হয়নি। কেন এমন প্রশ্নে উত্তরে মাঠে ও বাইরের ভুলগুলো বার বার সামনে আসছে। প্রশ্ন এই ভরাডুবি থেকে শিক্ষা নিয়েছে কি দেশের ক্রিকেটার ও ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)! দলের সঙ্গে শুধু বোঝা হয়ে থাকা পেসার রুবেল হোসেন বললেন, ‘এই বিশ্বকাপ’ সবাইকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে টাইগারদের অবস্থান।সেই সঙ্গে দেশে ফিরেও নিজেকে তিনি কোনভাবেই দিতে পারছেন না সান্ত্বনা! পারবেন কিভাবে? এবারের বিশ্বকাপে এক ম্যাচেও খেলার সুযোগ পাননি রুবেল। দৈনিক মানবজমিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রুবেল হোসেন বলেন, ‘না খেলতে পারার কষ্ট একজন ক্রিকেটারই বোঝে। ১২ বছর দলকে সার্ভিস দিয়েছি। সেখানে দলে থেকেও একাদশে একটি ম্যাচও খেলার সুযোগ হয়নি কষ্ট তো লাগবেই। তাও সব ভুলতে পারতাম যদি আমরা ভালো খেলতাম, জিততে পারতাম। তাহলেও নিজেকে সান্ত্বনা দিতে পারতাম! আসলে এই বিশ্বকাপ আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে. সময় হয়েছে নিজেদের আরো বেশি উন্নতি করার।’

৪ঠা অক্টোবর বাংলাদেশ দল পা রেখেছিল ওমানে বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টি মিশনে। বাছাই পর্বে আইসিসির সহযোগী দেশ স্কটল্যান্ডের  বিপক্ষে কোনো প্রতিরোধ না গড়েই হেরে যায় মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের দল। এরপর ওমান ও পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে জয় দিয়ে টেনেটুনে সুপার টুয়েলভ পর্ব নিশ্চিত করে। কিন্তু প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিততে থাকা ম্যাচে হেরে আবারো পথ হারায় টাইগাররা। প্রতিটি ম্যাচেই হার যেন প্রশ্ন তুলেছে টাইগার ক্রিকেটের মান নিয়ে। বিশেষ করে দারুণভাবে সমালোচিত হয়েছে ব্যাটিং। অস্ট্রেলিয়ান গ্রেট মার্ক ওয়াহ তো বলেই দিয়েছেন তৃতীয় শ্রেণির ক্রিকেটেও এমন ব্যাটিংয়ের দেখা মেলে না। আর এর পেছনে বরাবরই দায়ী করা হয়েছে বাংলাদেশের উইকেটকে। এ বিষয়ে রুবেলের কণ্ঠেও ঝরে আক্ষেপ। তিনি বলেন, ‘দেখেন প্রথম হচ্ছে আমাদের জয়ের অভ্যাসটা এখনো গড়ে ওঠেনি। আর এই বিশ্বকাপে আমরা একেবারেই ভালো ক্রিকেট খেলতে পারিনি। এই বিশ্বকাপটা আসলে আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। আমাদের ক্রিকেটাররা এখান থেকে বুঝতে পারছে যে আমাদের আসলে কোন ধরনের উইকেটে খেলতে হবে। যদি আমরা নিয়মিত ব্যাটিং উইকেটে খেলতাম তাহলে আমাদের ব্যাটাররা অত্মবিশ্বাসটা বেশি পেত। বোলাররাও চ্যালেঞ্জ নিয়ে উইকেট নিতো। আর দেখেন আমরা কিন্তু পাওয়ার ক্রিকেটটা খেলতে পারিনি।’

দলে পাওয়ার হিটার নেই, এই আলোচনা পুরনো। যদিও বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ ভরসা করেছিলেন স্কিল হিটারদের ওপর। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছেন। দলে পাওয়ার হিটারের অভাবটা পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছে টাইগারদের প্রতিপক্ষ প্রতিটি দল। শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যেখানে ১৫ ওভারে করেছে ৭৩ রান। সেখানে অজিরা তা তুলে নিয়েছে মাত্র ৬.২ ওভার বা ৩৮ বলে। বাংলাদেশের দেয়া ১৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা ৫ উইকেট হারালেও শেষ দিকে ব্যাটে ঝড় তুলে পৌঁছে যায় জয়ের বন্দরে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৬ বলে ১৩ রান করতে ব্যর্থ হন লিটন দাস, রিয়াদরা। এ বিষয়ে রুবেল বলেন, ‘অবশ্যই পাওয়ার হিটার আমাদের দরকার। তবে আমাদের ব্যাটাররা যে পারে না তাও নয়। তারাও ছয় মারতে পারে। আর সত্যিকারের পাওয়ার হিটার যাকে বলে তা আমাদের খুঁজতে হবে ও তৈরি করতে হবে। তার জন্য সেই ধরনের সুবিধা যেমন ব্যাটিং উইকেট বানাতে হবে। দেখেন শ্রীলঙ্কায় পাওয়াার হিটার আছে। যদি সেই উইকেটই না দেয়া হয় তাহলে কিভাবে খেলতে হবে স্পোর্টিং উইকেটে তা জানবে কি করে। যেমন ধরেন শ্রীলঙ্কা, ওদের চেয়ে কিন্ত এখন আমরা এগিয়ে। আমাদের ব্যাটাররা ওদের চেয়ে ভালো। কিন্তু ওরা দেখেন কত ভালো করছে এখন। ওদের ক্রিকেটাররা বড় শট খেলছে। কারণ, ওদের উইকেট কিন্তু অনেক সুন্দর। আমাদের দেশের মতো এত টার্ন নেই। এই কারণেই ওরা নিজেদেরকে গড়ে নিতে পেরেছে।’

রুবেল বিশ্বাস করেন দ্রুতই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে, বাংলাদেশ দলও ঘুরে দাঁড়াবে দ্রুত। তিনি বলেন,  ‘যাই হোক আমার বিশ্বাস আবারো সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। আমাদের দলকে কিছুটা সময় দিতে হবে। সামনেই পাকিস্তান সিরিজ। সময় পেলে আশা করি সব ঠিক হয়ে যাবে। আর পাকিস্তান সিরিজে সুযোগ পেলে অবশ্যই খেলার জন্য মুখিয়ে আছি। যদি সুযোগ হয় সেরাটা দিতে চেষ্টা করবো। জানি দলে আমার চেয়ে অনেক ভালো ভালো পেসার আছে। আমিও কিন্তু এখনো হারিয়ে যাইনি। দলে এখন পেসারদের দারুণ প্রতিযোগিতা। একবার মোস্তাফিজ ভালো না করলেও ওর কামব্যাক করতে সময় লাগবে না। তাসকিন ও শরিফুল দারুণ বল করেছে। বিশেষ করে তাসকিনের উন্নতি দেখে আমি ভীষণ খুশি। ওকে আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে পরামর্শও দেই যেন আরো ভালো করে।’

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments