Monday, December 6, 2021
spot_img
Homeজাতীয়‘তৃণমূলের ভোটে’ নৌকার মাঝি হলেন বিএনপি সভাপতি!

‘তৃণমূলের ভোটে’ নৌকার মাঝি হলেন বিএনপি সভাপতি!

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার চাকামইয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তৃণমূলের ভোটে নৌকার মাঝি হলেন চাকামইয়া ইউনিয়ন বিএনপির ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি মো. মকবুল হোসেন দফাদার। কলাপাড়া থেকে কেন্দ্রে পাঠানো তালিকায় তার নাম এক নম্বরে। এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকার প্রবীণ আওয়ামী লীগ কর্মীদের দাবি প্রকৃত আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্যকে নৌকা প্রতীক না দিলে এ ইউনিয়নে নৌকার ভরাডুবি হবে।

তাই বিএনপি নেতা মকবুল হোসেন দফাদারকে মনোনয়ন না দিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে সংবাদ সম্মেলন করেন চাকামইয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ইউনিয়ন বর্তমান চেয়ারম্যান  হুমায়ুন কবির কেরামত হাওলাদারের স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় কলাপাড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০০৫ সালে চাকামইয়া ইউনিয়ন বিএনপির ৯নং ওয়ার্ডের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সভাপতি ছিলেন মকবুল হোসেন দফাদার। ২০১২ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে অনানুষ্ঠানিকভাবে একটি মেজবান অনুষ্ঠানে বসে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে দলের ত্যাগী নেতা বনে যান এ বিএনপি নেতা। এর পুরস্কার হিসেবে ২০১৩ সালে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের গঠিত কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে স্থান পায়।

লিখিত বক্তব্যে হোসনেয়ারা বেগম বলেন, কাউন্সিল ছাড়া তৎকালীন স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্দেশে ওই কমিটিতে সহ-সভাপতির পদ পায় মকবুল হোসেন দফাদার।

তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে নিজেদের মধ্যে আত্মকলহ সৃষ্টি করার জন্য বিএনপির সাবেক সভাপতি মকবুল হোসেনকে ইউনিয়ন পরিষদ কাউন্সিলে চেয়ারম্যান পদে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে ত্যাগী নেতাকর্মীদের ক্রমশ দূরে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। কারণ চাকামইয়া ইউনিয়নটি বিএনপি-জামায়াতের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এ কারণে তৃনমূলের ভোটে বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি হুমায়ুন কবির কেরামতকে দ্বিতীয়, প্রথম ও তৃতীয় স্থানে কেন্দ্রে নাম পাঠানো হয় মগবুল হোসেন দফাদার ও সাবেক ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মোতালেব হাওলাদারের নাম। তিনজনের তালিকায় দুইজনই বিএনপি নেতা। এ কারণে এলাকায় ত্যাগী নেতাদের মধ্যে ক্রমশ ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানান।

এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব তালুকদার বলেন, মকবুল হোসেন দফাদার এক সময়ে বিএনপি করতো। পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেয় সে। তবে তৃণমূলের ভোটের দিন জেলা কমিটির নির্দেশে তাকে ভোটে অংশ নেয়ার সুযোগ করে দেয়া হয় এবং তৃণমূলের ভোটে প্রথম হওয়ায় তার নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়। দলীয় মনোনয়নকে পাবেন এ বিষয়টি সিদ্ধান্ত নিবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

এ বিষয়ে মো. মকবুল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে বলেন, আমি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম বহুদিন আগে। আমি আওয়ামী লীগে যোগদান করেছি তাও ১৫ বছর হয়েছে। আমি ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের জন্য অনেক কাজ করেছি। তাছাড়া ২০১৬ সালেও আমি আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলাম। তখন মনোনয়ন পাইনি। তবে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করেছি। এখন তাহলে আমার মনোনয়ন চাইতে অসুবিধা কোথায়?

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments