Sunday, September 25, 2022
spot_img
Homeধর্মতাওরাত ও ইঞ্জিলে নবীজি (সা.)-এর সাহাবিরা

তাওরাত ও ইঞ্জিলে নবীজি (সা.)-এর সাহাবিরা

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের বিশ্বাস হলো, সাহাবায়ে কেরাম (রা.) ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সান্নিধ্যের জন্য মনোনীত। পবিত্র কোরআনের বর্ণনা অনুসারে সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা পূর্ববর্তী আসমানি গ্রন্থ তাওরাত ও ইঞ্জিলেরও আছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল; তার সহচররা কাফেরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল; আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় তুমি তাদের রুকু ও সিজদায় অবনত দেখবে। তাদের লক্ষণ তাদের মুখমণ্ডলে সিজদার প্রভাবে পরিস্ফুটিত থাকবে। তাওরাতে তাদের বর্ণনা এইরূপ এবং ইঞ্জিলেও তাদের বর্ণনা এইরূপ।’ (সুরা ফাতহ, আয়াত :  ২৯)

তাওরাত ও ইঞ্জিলে যা বলা হয়েছে : কোরআনের বর্ণনা অনুসারে তাওরাত ও ইঞ্জিলে নবীজি (সা.) ও তাঁর সাহাবিদের বর্ণনা আছে। কিন্তু তাওরাত ও ইঞ্জিল রহিত হয়ে যাওয়ায় এবং তা আল্লাহ কর্তৃক সংরক্ষিত না থাকায় সুনিশ্চিতভাবে জানা যায় না যে তাতে সাহাবিদের ব্যাপারে কী বলা ছিল। তবে কতিপয় ঐতিহাসিক ও তাফসিরবিদ এই বিষয়ে কিছু উদ্ধৃতি পেশ করে থাকেন। যেমন শায়খ তাহির ইবনে আশুর (রহ.) বলেন, ‘তাওরাত ও ইঞ্জিলে নবীজি (সা.)-এর আগমনের সুসংবাদ ও সাহাবিদের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। তাওরাতে আমরা এ বিষয়ে যা জানতে পারি তা হলো, ‘খোদা (্আল্লাহর নুর বা জ্যোতি অর্থে) সিনা পর্বত থেকে আত্মপ্রকাশ করেছেন, সায়িরে বিকশিত হয়েছেন এবং ফারান পর্বতে দ্যুতিময় হয়েছেন ১০ হাজার পুণ্যাত্মার সঙ্গে। তাঁরা এসেছে সব পবিত্র টিলা (উপত্যকা) থেকে। তাঁর ডানে আছে তাদের জন্য প্রজ্জ্বলিত (প্রবর্তিত) শরিয়তের আগুন। সব পুণ্যাত্মা ব্যক্তির মধ্যে তারা ছিলেন সবচেয়ে প্রিয় দল। তারা আপনার পায়ের কাছে উপবিষ্ট থাকবে আপনার নির্দেশ মান্য করার জন্য।’ (জন্ম অধ্যায়, পৃষ্ঠা ২-১৭; আন-নাবিয়্যুল খাতিম, পৃষ্ঠা ৪৫)

উল্লিখিত উদ্ধৃতির মধ্যে, ‘সব পুণ্যাত্মা ব্যক্তির মধ্যে তারা ছিলেন সবচেয়ে প্রিয় দল’ বাক্যটি কোরআনে বর্ণিত, পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল বাক্যের প্রতি ইঙ্গিত করে। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) ‘সব পুণ্যাত্মা ব্যক্তির মধ্যে’ শব্দটি তুমি তাদের রুকু ও সিজদায় অবনত দেখবে। তাদের লক্ষণ তাদের মুখমণ্ডলে সিজদার প্রভাবে পরিস্ফুটিত থাকবে—এর অর্থ প্রদান করে।  আর ‘আপনার পায়ের কাছে উপবিষ্ট’ দ্বারা উদ্দেশ্য আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা…। ‘ফারান’ পর্বত দ্বারা হিজাজের পর্বতমালা উদ্দেশ্য। আর ১০ হাজার পুণ্যাত্মা ব্যক্তি দ্বারা মক্কা অভিযানের সময় নবীজি (সা.)-এর সঙ্গে থাকা ১০ হাজার সাহাবি উদ্দেশ্য। (আত-তাহরির ওয়াত-তানভির : ২৬/২০৭)

তাওরাতে কি এখনো আছে? : মুসলিম ঐতিহাসিকরা মনে করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আগমনের আগ পর্যন্ত তাওরাত ও ইঞ্জিলে মহানবী (সা.)-এর আগমনের সুসংবাদ ও তাঁর বৈশিষ্ট্যের আলোচনা এবং তাঁর সাহাবিদের বিবরণ ছিল। কেননা সে যুগের একাধিক পাদ্রি তাওরাত ও ইঞ্জিলের বিবরণ অনুসারে নবীজি (সা.)-কে শনাক্ত করেন এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনেন। যেমন আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.), সালমান ফারেসি (রা.) প্রমুখ। কিন্তু মহানবী (সা.)-এর আগমনের পর পাদ্রিরা এই পরম সত্য গোপন করে। তার সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি যাদের কিতাব দিয়েছি তারা তাকে সেরূপ জানে যেরূপ তারা নিজেদের সন্তানদের চেনে এবং তাদের একদল জেনে-শুনে সত্য গোপন করে থাকে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৪৬)

তাওরাত ও ইঞ্জিলের ওপর নির্ভর করা : মোল্লা জিয়ুন (রহ.) বলেন, পূর্ববর্তী শরিয়তের যে অংশ কোরআন ও হাদিসে উদ্ধৃত হয়েছে তা আমরা গ্রহণ করব। আল্লাহ ও তাঁর রাসুল যদি কোনো বিষয়কে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন, তবে তা ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করব এবং কোনো বিষয়কে নেতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন তা থেকে বিরত থাকব। আর যে বিষয়গুলো কোরআন ও হাদিসে উদ্ধৃত হয়নি, আমরা তা থেকে বিরত থাকব। কেননা আমরা নিশ্চিত নই যে তা আল্লাহর বাণী কি না? কেননা ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্মগুরুরা তাকে বিকৃতি সাধন করেছে। (নুরুল আনওয়ার, সুন্নাহ অধ্যায়)

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments