Sunday, March 3, 2024
spot_img
Homeনির্বাচিত কলামডলার ও টাকার সংকট

ডলার ও টাকার সংকট

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক মন্দায় তীব্র ডলার সংকটের মধ্যে এখন টাকার সংকটেও পড়েছে সরকার। বস্তুত আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকারের ব্যয় বেড়েছে; এর বিপরীতে আয় বাড়েনি, বরং কমেছে। ব্যয়ের তুলনায় আয় না বাড়ায় টাকার সংকটে পড়েছে সরকার। মহামারি চলাকালে এবং এর পর রাজস্ব আয় কম হওয়ায় সরকার টাকার সংকটে পড়েছিল। তখন রাজস্ব ঘাটতির টাকা সরকার ঋণ করে মেটাতে সক্ষম হলেও এখন রাজস্ব আয় ঘাটতির পাশাপাশি ঋণের সংকটও রয়েছে। ঋণ করার মতো যথেষ্ট টাকা নেই ব্যাংকে। ফলে সরকারের টাকার সংকট বেড়েছে।

গত কয়েক বছর ধরেই রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি হচ্ছে; ওই ঘাটতি মেটানো হয়েছে ব্যয় সংকোচন ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে। গত অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বরে দুই খাত মিলিয়ে আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল সাড়ে ১৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাড়ে ১৩ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির হার ১ শতাংশ কমেছে। ওই সময়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৫২ হাজার কোটি টাকা। আদায় হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি হয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা।

বর্তমানে সরকারের ঋণের দরজা সংকুচিত হয়ে পড়েছে; আগের মতো এবার আর ঋণ পাচ্ছে না। ফলে সরকারের টাকার সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। সরকার সবচেয়ে বেশি ঋণ নেয় বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ডলার সংকট ও আমানত প্রবাহ কমায় তারল্য সংকট বেড়েছে। এতে ব্যাংকগুলোর পক্ষে সরকারকে বড় অঙ্কের ঋণের জোগান দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ সরকার ব্যাংক থেকে বেশি মাত্রায় ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে ঋণ সংকট আরও বাড়বে। এতে বেসরকারি খাতের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া কমিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা ছাপিয়ে ঋণ নেওয়াও সরকারের অন্যতম একটি উৎস। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যায়। সব মিলে সব খাত থেকেই সরকারের ঋণ সংগ্রহের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বন্ড মার্কেট থেকে ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও এটি এখনো বিকশিত হয়নি। একইসঙ্গে বৈদেশিক উৎস থেকেও ঋণ যেমন কমেছে, তেমনি কমেছে অনুদান। ফলে বৈদেশিক খাতে অর্থের প্রবাহও কমে গেছে। এতে টাকার সংকট আরও প্রকট হয়েছে। ফলে সরকার ডলারের পাশাপাশি টাকা খরচেও ব্যয় সংকোচন নীতি অনুসরণ করছে।

এ প্রেক্ষাপটে ডলার ও টাকার সংকট নিরসনে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। রপ্তানির নতুন বাজার ও রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জোর দিতে হবে। রপ্তানিকৃত পণ্যের বিপরীতে যে পরিমাণ অর্থ দেশে আসার কথা, তা যাতে সঠিক সময়ে দেশে আসে, সেটা নিশ্চিত করা দরকার। বিদেশে ক্রমবর্ধমান শ্রমশক্তি রপ্তানির বিপরীতে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় রেমিট্যান্স প্রবাহ কেন বাড়ছে না, তা খতিয়ে দেখে সমস্যার সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments