Sunday, April 2, 2023
spot_img
Homeবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিটুইটারের মালিক যদি ইলন মাস্ক হন

টুইটারের মালিক যদি ইলন মাস্ক হন

ইলন মাস্ক হারতে পছন্দ করেন না। তাঁর একান্ত ইচ্ছা টুইটার হয়ে উঠবে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের এক প্ল্যাটফরম, যেখানে আইনের হস্তক্ষেপ থাকলেও টুইটার অ্যালগরিদমের মাধ্যমে জোরপূর্বক কোনো তথ্য দেখানো হবে না। তাই গিটহাব প্ল্যাটফরমে টুইটারের কোড আপলোডের মাধ্যমে অ্যালগরিদমকে ওপেন সোর্স করার পক্ষে মত দেন তিনি। টুইটার কোনো টুইট পোস্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে সেটাও সবার দেখার সুযোগ থাকবে।

বেছে বেছে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের টুইট বেশি মাত্রায় ছড়ানো যাবে না। উদ্দেশ্যমূলকভাবে এখানে বিদ্বেষ ছড়ালে গলায় বিঁধবে আইনের কাঁটা।

অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ‘পর্দার আড়ালে’ কোনো কিছু নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না টুইটার। যখন-তখন কারো অ্যাকাউন্ট বাতিল করলেও রাখতে হবে স্বচ্ছতা।

তবে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণাধীন হলে টুইটারের কনটেন্ট নিরপেক্ষ থাকবে কি না সে বিষয়েও শঙ্কা রয়েছে। তবে মাস্ক জানিয়েছেন, টুইট এডিট করার কাজ করবেন না তিনি। টুইটার কোনো অ্যাকাউন্ট বা কনটেন্টের বিরুদ্ধে যেসব ব্যবস্থা নেবে তা অন্য ব্যবহারকারীরাও দেখতে পাবে। মালিকানা পেলে প্রথমেই তিনি স্প্যামিং স্ক্যাম ও বট সরাবেন। তাঁর মতে, ‘বট আর্মি’-এর কারণে টুইটারের মান নেমে গেছে।

টেড টক ২০২২ কনফারেন্সে এসে ইলন মাস্ক নিজেই এসব কথা বলেছেন। টুইটার কেনার পেছনের কারণটি যে অর্থনৈতিক নয়, বরং সারা বিশ্বের মানুষকে স্বাধীনভাবে কথা বলতে দেওয়ার প্রয়াস, সেটাও জোর দিয়ে বলেছেন। তবে ইলন মাস্ক এখন নিজেকে এমন পর্যায় নিয়ে গেছেন, যেখানে শেয়ারের দাম বাড়ানোর জন্য শুধু তাঁর নামটাই যথেষ্ট। শেয়ারহোল্ডারদের জন্য টুইটার এক হতাশার নাম। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কম্পানি মেটার তুলনায় শেয়ারের দাম ছিল নিতান্তই কম। মাস্কের ৯ শতাংশ টুইটার শেয়ার কেনার খবরে রাতারাতি শেয়ারের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৪৯.৯৯ ডলার। ২০১৩ সালের পর আর কখনো টুইটার শেয়ারের দাম এতটা বাড়েনি।

ফলে মাস্কের হাতে মালিকানা গেলে যে টুইটার অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সঙ্গে লড়াই করার প্রাণশক্তি ফিরে পাবে—এ কথা বলা যেতেই পারে।

তবে টুইটার বোর্ডের সদস্যরা মাস্ককে আটকানোর সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ‘পয়জন পিল’ ব্যবস্থা জারি করে নিজেদের ওপরে বিছিয়ে নিয়েছেন সুরক্ষা চাদর। এই চাদর ভেদ করে যেন মাস্ক কোনোভাবেই টুইটার কিনতে না পারেন।

টুইটারের বোর্ড সদস্যরা খুব কম পরিমাণ শেয়ারের মালিক। বছরে তাঁদের বেতন দিতেই টুইটারের খরচ হয় ৩০ লাখ ডলার। টুইটারের মালিকানা পেয়ে গেলে যে বোর্ড সদস্যদের খণ্ডকালীন চাকরি স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে রূপান্তরিত হবে, তা এরই মধ্যে স্পষ্ট করেছেন মাস্ক। তিনি জানিয়েছেন, কাউকে বেতন দেওয়া হবে না।

আপাতত পয়জন পিলের জালে আটকে গেছেন মাস্ক। ১৫ শতাংশের বেশি শেয়ার কিনলেই অন্য শেয়ারহোল্ডাররা পানির দামে টুইটার শেয়ার কেনার অনুমতি পাবেন। তাই ‘প্ল্যান বি’ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছেন ইলন মাস্ক।

তবে যদি ‘প্ল্যান বি’ও কোনো দিশা না পায়, তবে কী করতে পারেন ইলন মাস্ক? তাঁর হাতে যে পরিমাণ সম্পদ আছে নতুন একটি সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফরম তৈরি করতে পারেন। তাঁর এই নতুন প্ল্যাটফরম চালু হলে টুইটারের আট কোটি ২০ লাখ ফলোয়ারকে যে সঙ্গে পাবেন তা বলা বাহুল্য। মাস্ক যদি টুইটারের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেন, তবে টুইটারই বিপদে পড়বে। দাম পড়ে যাবে শেয়ারের। তখন চার হাজার ৩৪০ কোটি ডলারে টুইটার বিক্রি না করে বোর্ড সদস্যরা আফসোসে পড়বেন কি না সেটাই হবে দেখার বিষয়।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments