Monday, May 20, 2024
spot_img
Homeনির্বাচিত কলামটিলা ধসে প্রাণহানি

টিলা ধসে প্রাণহানি

দেশে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। গত সোমবার সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় টিলা ধসে একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।

জানা গেছে, দুই দিনের টানা বর্ষণের কারণে এ ধসের ঘটনা ঘটেছে। লক্ষ করা যায়, পাহাড় ধসের মর্মান্তিক ঘটনাগুলো থেকে মানুষ কোনো শিক্ষা নেয় না। ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা না কমে বরং দিন দিন বাড়ছে। বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশে এখনো বসবাস করছে লক্ষাধিক মানুষ। তাদের অনেকে অতিঝুঁকিপূর্ণ স্থানেও বসবাস করছে।

লক্ষ করা যায়, বড় ধরনের দুর্ঘটনার পর ঢাকঢোল পিটিয়ে কিছু বৈঠক ও সিদ্ধান্ত-সুপারিশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে কর্তৃপক্ষের তৎপরতা। এসব তৎপরতা যে পাহাড় ধস ও প্রাণহানি রোধে স্থায়ী প্রভাব ফেলে না, তা বহুবার স্পষ্ট হয়েছে। পাহাড় ধসে প্রাণহানি এড়াতে হলে নিতে হবে স্থায়ী পদক্ষেপ।

একশ্রেণির মানুষ কর্তৃক অবৈধভাবে পাহাড় কাটা এবং অবৈধ স্থাপনা তৈরির কারণেও পাহাড় ধসের ঘটনা বাড়ছে। সচেতনতার অভাবে পাহাড়ের পাদদেশে বসতি স্থাপন করছে দরিদ্র মানুষ। পাহাড়-টিলা-বনাঞ্চল রক্ষার জন্য অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালীদের অপকর্ম থামছে না। মানুষ মনে করছে, প্রভাবশালীদের সঙ্গে স্থানীয় বিভিন্ন দপ্তরের অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশ থাকায় পাহাড় কাটা অব্যাহত রয়েছে। বস্তুত হতদরিদ্র মানুষই বারবার পাহাড় ধসের শিকার হচ্ছে। প্রশ্ন হলো, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মানুষের সম্পদ ও প্রাণহানি রোধে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিচ্ছে না কেন?

২০০৭ সালে চট্টগ্রামে এক মর্মান্তিক পাহাড় ধসের ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির প্রেক্ষাপটে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটি পাহাড় ধস রোধে যেসব সুপারিশ করেছিল, সেগুলো বাস্তবায়নের পাশাপাশি উল্লিখিত পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে সবাইকে পরিবেশ সুরক্ষায় আন্তরিক হতে হবে। জানা গেছে, পাহাড় ধস অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। কাজেই পাহাড় কাটা রোধ এবং ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড়ে বসবাসের ব্যাপারে সচেতনতা বাড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ ও পুনর্বাসনে নিতে হবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। পাহাড় ধসে প্রাণহানি রোধে প্রয়োজন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ। স্থানীয় প্রভাবশালী ও প্রশাসনের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিলে যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে, তা জোর দিয়ে বলা যায়।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments