Wednesday, April 17, 2024
spot_img
Homeআন্তর্জাতিকটিকটক ট্রোলের কারণে বিধ্বস্ত যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি নারীদের জীবন

টিকটক ট্রোলের কারণে বিধ্বস্ত যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি নারীদের জীবন

বিবিসির তদন্ত

যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি নারীদের মধ্যে অনেকেই  জানাচ্ছেন, টিকটক ট্রোলের কারণে তাদের জীবন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।  বিবিসির একটি তদন্তে এই সত্য সামনে এসেছে । যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের পুলিশ বাহিনীর কাছে সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে হুমকি এবং অপব্যবহারের রিপোর্ট করা সত্ত্বেও, অনেকে বলছেন  যে, তাদের সামনে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। কারণ  এই অপব্যবহার বন্ধ করার জন্য কেউ কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

সুলতানা (আসল নাম পরিবর্তিত) ইয়র্কশায়ারে থাকেন। নিজের  জীবনের  অভিজ্ঞতা যেমন দুর্ব্যবহার এবং বিষাক্ত সম্পর্কের বিষয়ে কথা বলতে তিনি টিকটক ব্যবহার করেন। সুলতানা  বলছেন, আমার মনে হয়েছিল আমার মাথার উপর আকাশ ভেঙে পড়েছে। আমার কান্না থামছিলো না । খেতে পারিনি, ঘুমাতে কষ্ট হচ্ছিলো । আমার মনে হয়েছিল আমি আর এখানে থাকতে পারবো না ।

তিনি জানান যে, ২০২১ সালে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে  একজন বন্ধুকে   ট্রোলের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে তিনি নিজেও ট্রোলের শিকার হন। সুলতানা কর্মস্থলে ছিলেন যখন টিকটক-এ তার কিছু অনুসারী তাকে মেসেজ করেছিল এবং জিজ্ঞেস করেছিল যে সে তার সম্পর্কে পোস্ট করা ভিডিওগুলো দেখেছে কিনা।

তার কর্মস্থলে লোকেরা পোস্টগুলো দেখে তাকে নিয়ে উপহাস করতে শুরু করে। এই অপব্যবহার দুই বছর ধরে বিক্ষিপ্তভাবে চলতে থাকে এবং সুলতানার মতে বিষয়টি এমন দিকে যাচ্ছিলো যা আপনি কখনই কাটিয়ে উঠতে পারবেন না । তিনি বলছেন, আমি সবসময় আমার মানসিক স্বাস্থ্যের সাথে লড়াই করেছি এবং এটি কাটিয়ে উঠতে আমাকে থেরাপির সাহায্য নিতে  হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সেরে উঠলেও আমার মধ্যে পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার শুরু হয়। আমি অনুভব করেছি যে, সুস্থ  হওয়ার জন্য আমি যে কঠোর পরিশ্রম করেছি তা আদপে কোনো কাজে আসেনি।

হাসান সৈয়দ

যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশিদের মধ্যে বিশেষ করে নারীদের মধ্যে টিকটক বেশ জনপ্রিয়। সাধারণত একটি রক্ষণশীল সম্প্রদায়, এই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে  তাদের মনের কথা বলার মাধ্যম হিসেবে বেছে নেয়। তবে টিকটক  অনেক নারীকেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কারণ যারা নির্যাতিত হয়েছেন তারা বলছেন যে, সম্প্রদায়ের কিছু পুরুষ নারীদের অনলাইনে তাদের মতামত প্রকাশ করার সাথে সহমত নয় এবং তাদের চুপ করার চেষ্টা  করা হচ্ছে। সুলতানার মতো অনেকেই যারা ট্রোলের শিকার- তারা  বিবিসিকে হাসান সৈয়দ নামে একজন বাংলাদেশি নাগরিকের কথা  বলেছেন।  হাসান প্যারিসের শহরতলিতে থাকেন এবং টিকটকে তার হাজার হাজার অনুসারী রয়েছে। কিন্তু হাসানের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে তারা ভয় পান। হাসান ওই নারীদের  সোশ্যাল মিডিয়া ফিড থেকে ব্যক্তিগত ফটোগ্রাফ এবং তথ্য চুরি করে মানুষকে আঘাত করেন, ভয় দেখান। তারপর টিকটক লাইভে গিয়ে কখনও কখনও ওই চেহারা নিয়ে মজা করেন হাসান, এমনকি তাদের  ধর্ষণ করে হত্যার হুমকি দেন।

বিবিসি হাসানের সাথে ই-মেইলে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করেছে এবং তাকে কল করার চেষ্টা করেছে কিন্তু তিনি কোনো সাড়া দেননি ।

মাসুমা তার পরিবারের সাথে ওয়েলসে থাকেন। তিনি  উচ্চশিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত। টিকটক লাইভে নানানরকম রান্না শেখান এবং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে একটি দোকান চালান । তিনি একদিন  লাইভে  ছিলেন যখন  হাসান সৈয়দ হাজির হন এবং অতিথি হিসাবে আমন্ত্রিত হওয়ার জন্য মাসুমাকে চাপ দেন, কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করলে তাকে ‘ফাঁসি’ দেয়ার হুমকি দেন হাসান।

মাসুমা একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন এবং অন্যদের তাকে রিপোর্ট করার জন্য অনুরোধ করেছেন যারা একইভাবে হাসানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন। মাসুমা বলছেন, সে আমার ভিডিও বানিয়ে বলে যে আমি একজন যৌনকর্মী।

তার অনুসারীরা ভিডিওটি নিয়ে  টিকটকে রিপোর্ট করেছে এবং শেষ পর্যন্ত এটি সরিয়ে নেয়া হয়েছে। কিন্তু মাসুমা বলছিলেন যে, এটি তার জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। প্রবল  উদ্বেগের কারণে আমাকে আমার সমস্ত ফটো, আমার ব্যবসায়িক ফোন নম্বর এবং আমার লাইভ সেশনগুলো সরিয়ে ফেলতে হয়েছিল। আমি অনেক অনুপযুক্ত ফোন কল পেয়েছি এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিব্রতকর অনুসন্ধানের সম্মুখীন হয়েছি। পুলিশকে যথেষ্ট প্রমাণ সহ গোটা পরিস্থিতি রিপোর্ট করা সত্ত্বেও, কার্যকর পদক্ষেপ নিতে তাদের অক্ষমতা আমাকে অসহায় করে তুলেছে, জানাচ্ছেন মাসুমা।

মি: ইসলাম বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে কামরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ও পরিবারকে ট্রোলের টার্গেট করা হয়

টিকটক ট্রোলের  সাথে কামরুল ইসলাম প্রথম মুখোমুখি হয়েছিলেন  ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে। তিনি  হাসান সৈয়দের চ্যানেলে এসেছিলেন এবং বলেছিলেন যে, সেখানে তিনি যা দেখেছিলেন তা দেখে  তিনি আতঙ্কিত।কামরুল বলছেন, প্রথমে আমি ভেবেছিলাম ভিডিওগুলো ভুয়া কিন্তু বন্ধুরা আমাকে বলেছিল যে সৈয়দ বেশ কয়েক বছর ধরে যুক্তরাজ্যে লোকদের টার্গেট করছেন।’

কামরুল যিনি স্টাফোর্ডশায়ারে তার স্ত্রী এবং দুটি ছোট সন্তানের সাথে বসবাস করেন, বলছেন, সৈয়দের টিকটকে প্রচুর ফলোয়ার রয়েছে এবং তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে।  বাংলাদেশি সম্প্রদায় খুবই রক্ষণশীল এবং এই ভিডিওগুলো পরিবারগুলোর জন্য চরম লজ্জার পাশাপাশি ভয়ের উদ্রেক করে । আমি জানতাম যে এটি বন্ধ করার জন্য আমাকে কিছু করতে হবে।

‘আমি চোখ বুজে শুধু কেঁদেছি’

কামরুল ইসলাম  সৈয়দের সাথে অনলাইনে যোগাযোগ করে এই হয়রানি থামাতে বলেন।  কিন্তু তা অবিলম্বে তাকে এবং তার পরিবারকে  প্রবল সমস্যার মুখে ফেলে। কামরুল বলছেন, সে আমার সম্পর্কে ভিডিও বানাতে শুরু করে, সে আমার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে আমার ছেলে (তার বয়স তখন এক বছর), আমার মা এবং আমার স্ত্রীর কিছু ছবি পেয়েছিল এবং প্রকাশ্যে তাদের ধর্ষণের হুমকি দেয়।’

রুকতান ইসলাম বলেন, সৈয়দের পোস্টের কারণে তিনি ভয়ের কারণে বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না

ইসলামের স্ত্রী, রুকতান সে সময় সাত মাসের গর্ভবতী ছিলেন এবং পুলিশকে কল করার সিদ্ধান্ত নেন। রুকতান জানাচ্ছেন, এটা আমার জন্য খুব চাপের বিষয় ছিল। আমি চোখ বুজে কাঁদছিলাম, ভয় পেয়েছিলাম কারণ (সৈয়দের) অনেক অনুসারী যুক্তরাজ্যে বাস করেন। আমি হাঁটতে ভালোবাসি এবং আমি আমার ছেলেকে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে বেড়াতে যেতাম। (তার) অনুসারীরা যখন বলেছিল যে তারা আমার পরিবারকে আক্রমণ করবে, তখন আমি বাইরে যেতে খুব ভয় পেয়েছিলাম। আমার মানসিক স্বাস্থ্যের কারণে আমি আর কাজ করতে পারি না এবং এখনও নিদ্রাহীনভাবেই রাত কাটাই ‘। স্টাফোর্ডশায়ার পুলিশের কাছে  সৈয়দ হাসানের নামে রিপোর্ট করার পর, দুই সন্তানের বাবা কামরুল  ভিডিওগুলো সরিয়ে নেয়ার দাবি জানাতে টিকটকের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন। যদিও সেখান থেকে জানানো হয়, তারা কোনোরকম নিয়মের লঙ্ঘন খুঁজে পাননি। উত্তর শুনে হতবাক কামরুল সাহায্যের জন্য ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্যারিসে বৃটিশ দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করেন এবং তারা তাকে একজন ইংরেজিভাষী ফরাসি সলিসিটর ম্যাথিউ ক্রোয়েজেটের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। ক্রোয়েজেট প্যারিস প্রসিকিউটর অফিসে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন যে এই মর্মে যে  সৈয়দ ফরাসি আইনের অধীনে তিনটি গুরুতর অপরাধ করেছেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশুর বিরুদ্ধে বারবার সহিংসতা এবং ধর্ষণের হুমকি, শিশু পর্নোগ্রাফি এবং সাইবার-গুন্ডামি। তবে কামরুলের দাবি, মামলাটি কীভাবে চলছে সে সম্পর্কে তার কাছে কোনও বাস্তব আপডেট নেই। তার আইনজীবী ক্রোয়েজেট জানিয়েছেন যে, মামলা নিয়ে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। কারণ ফরাসি বিচার ব্যবস্থায় কর্মী এবং বাজেট দুটোই কম। ফরাসি বিচার ব্যবস্থায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও ফ্রান্সে অনলাইনে অপমানজনক পোস্টগুলো সরিয়ে ফেলা প্রায় অসম্ভব, এমনকি সেখানে হিংসাত্মক হুমকি থাকলেও।
তিনি বিবিসিকে আরও বলেছিলেন যে, ফ্রান্সে অনেকেই  ইসলামফোবিয়ার সম্মুখীন এবং কামরুলের নামটি  ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত  হওয়ায় মামলাটি বাধা পেতে  পারে। বিবিসি প্যারিসের কেন্দ্রীয় পুলিশ স্টেশন এবং ভার্সাই আদালতের সাথে মামলার আপডেট সম্পর্কে যোগাযোগ করে  কিন্তু কোনও  উত্তর মেলেনি।

কামরুল বলছেন, স্টাফোর্ডশায়ারে বিলম্বের কারণে তিনি ক্রমেই  হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছিলেন।  কারণ পুলিশে রিপোর্ট করার পর, ইন্টারপোলে তার অভিযোগ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত হতে আড়াই মাস সময় লেগেছিল। কারণ বাহিনীর পেশাদার ইউনিটটি  তার অভিযোগ পাবার পরে তারা মামলাটি নিয়ে পর্যালোচনা করলেও একইসঙ্গে জানিয়ে দিয়েছে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে না।এই  সময়ে, হাসান  সৈয়দ ইউটিউব, ফেসবুক এবং টিকটকে  কামরুলের  পরিবার সম্পর্কে ভিডিও পোস্ট করতে থাকেন। পোস্ট সরিয়ে নেবার জন্য দুই সন্তানের পিতার অনুরোধে কেউ সাড়া দেয়নি কিন্তু  কামরুলও  হাল ছেড়ে দিতে রাজি হননি। ২০২৩ সালের এপ্রিলে তিনি তথ্য কমিশনারের অফিসে (আইসিও) যোগাযোগ করেন এবং তারা ব্যবস্থা নেয়।

ভিডিওগুলি দেখার এবং অনুবাদ করার পরে, আইসিও  কামরুলকে বলেছিল যে বিষয়বস্তুগুলো দেখে তারা ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’ এবং ভিডিওগুলো অপসারণ বা ব্লক করতে সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলির অস্বীকৃতির সাথে একমত নয়। তারা কামরুলের সন্তানের ব্যক্তিগত ডেটা ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরে এবং  টিকটক, ফেসবুক এবং ইউটিউবকে সাত দিনের মধ্যে বিষয়বস্তু সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়। আইসিও-এর একজন মুখপাত্র বলেছেন, আমরা আশা করেছিলাম যে যদি ব্যক্তিগত ডেটা ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ উত্থাপিত হয় তাহলে সংস্থাগুলো এই অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব সহকারে নেবে এবং তদন্ত করবে।

একটি বিবৃতিতে, টিকটক  বলেছে যে তারা ভিডিও সরিয়ে দিয়েছে এবং অ্যাকাউন্টগুলোকে নিষিদ্ধ করেছে। পাশাপাশি এই ধরণের আচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার আশ্বাস দিয়েছে। ইউটিউবের একজন মুখপাত্র বলেছেন যে তারা হয়রানি এবং সাইবার-গুন্ডামি করার অনুমতি দেয়নি এবং হাসান সৈয়দের ব্যবহৃত চ্যানেলটি পর্যালোচনা করে তারা এটিকে ‘বাতিল’ করেছে।  ফেসবুকের মালিক মেটা-এর একজন মুখপাত্র বলেছেন – ফেসবুকে  পেজটি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে এবং হাসান সৈয়দের পোস্ট করা বিষয়বস্তু তদন্তের পর সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ।

‘তারা আমাদের নীরব করার চেষ্টা করছে ‘

কামরুল  এখন হাসান সৈয়দকে সামনে আনতে  এবং অন্যান্য ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়াতে তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো ব্যবহার করছেন। যুক্তরাজ্যে থাকা অন্যান্য অনেক বাংলাদেশি নারীদের দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। কামরুল বলেছেন, আমি সারা দেশের বোনদের কাছ থেকে অনেক বার্তা পেয়েছি যারা টিকটকে গুরুতরভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই নিজেদের জীবন শেষ করে দেবার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কারণ তারা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে কোন সাহায্য বা সমর্থন পাননি ।

সুলতানা বলেন, বাংলাদেশের অনেক পুরুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় নারীদের কণ্ঠস্বর নিয়ে একমত নন । তাই তারা আমাদের ধমক ও হয়রানির মাধ্যমে চুপ করানোর  চেষ্টা করে । এটা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। কর্তৃপক্ষের এই জিনিসগুলোকে আরও গুরুত্ব সহকারে দেখা দরকার, কারণ এটি খুব ক্ষতিকারক।

হাসান  সৈয়দ যে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলেছেন তা সরিয়ে নেবার দাবি জানিয়ে  কামরুল  প্রায় প্রতিদিন  টিকটক -এর  সাথে যোগাযোগ করছেন । নির্যাতিত নারী  সম্প্রদায়ের প্রতি কামরুলের বার্তা, আপনি যদি চুপ থাকেন তবে এই দানবরা মানুষের ক্ষতি করে যাবে।

বছরের পর বছর বিতর্কের পর, শিশুদের জন্য ইন্টারনেটকে নিরাপদ করার লক্ষ্যে সরকারের আনা ‘অনলাইন সেফটি বিল’ – গত  ২৬ অক্টোবর আইনে পরিণত হয়েছে। বিজ্ঞান, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তি বিভাগের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘সামাজিক মিডিয়া সংস্থাগুলো এখন বেআইনি বিষয়বস্তু মোকাবেলা করার জন্য দায়ী হওয়ায় লোকেদের পুলিশকে যে কোনও হুমকির বিষয়ে রিপোর্ট করা উচিত। যদি তারা অপরাধমূলক হুমকিগুলোকে অবিলম্বে ও  কার্যকরভাবে চিহ্নিত না করে এবং প্রত্যাহার না করে, তাহলে তাদের বিলিয়ন পাউন্ডের জরিমানার গুনতে হবে।  বিষয়টির ওপর নজরদারি চালাতে, যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম- এর হাতে  এখন অতিরিক্ত ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

প্ল্যাটফর্মগুলি এখন শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন, জবরদস্তিমূলক আচরণ এবং চরম যৌন সহিংসতা সহ অবৈধ সামগ্রী অপসারণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু  কিভাবে আইনটি কার্যকর করা হবে এবং কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে ।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments