Sunday, March 3, 2024
spot_img
Homeনির্বাচিত কলামজড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর-জলাশয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শহর এলাকায় পুকুর-জলাশয় থাকা অত্যন্ত জরুরি। প্রাথমিকভাবে এসব পুকুর-জলাশয় বৃষ্টির পানি ধারণ করে এবং সেই পানি ক্রমে ভূগর্ভে প্রবেশ করে, কিন্তু প্রতিনিয়ত কমছে পুকুর-জলাশয়। ফলে শহর এলাকায় ভূগর্ভের পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে।

অনেক এলাকায় গভীর নলকূপেও এখন পানি ওঠে না। জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি পুকুর-জলাশয়ের অর্থনৈতিক গুরুত্বও কম নয়। শহর এলাকার পুকুর-জলাশয় রক্ষায় অনেক আইনও রয়েছে, কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে সেসব আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন নেই। ফলে দ্রুত ভরাট হয়ে যাচ্ছে শহর এলাকার পুকুর-জলাশয়। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, রাজশাহী মহানগরে সিটি করপোরেশনের যে ২২টি সংরক্ষিত পুকুর রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম ‘শুকান দিঘি’। ৯ বিঘারও বেশি আয়তনের এই দিঘিটি সাত দিন ধরে বালু ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। অথচ দিঘি ভরাট বন্ধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। সম্প্রতি এ ধরনের বেশ কয়েকটি খবর প্রকাশিত হয়েছে। কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নে শত বছরের পুরনো একটি পুকুর ভরাট করা হচ্ছে। আর পুকুর ভরাট করতে সরকারি মালিকানাধীন পাহাড় কেটে মাটি আনা হচ্ছে। বরিশালের বানারীপাড়া পৌর শহরে একটি সরকারি পুকুর অবৈধভাবে দখল ও ভরাট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, রাজশাহী মহানগরীর শুকান দিঘিটির মালিক ১২ জন, কিন্তু মালিকানা নিয়ে বিরোধ আছে, মামলাও চলছে। ক্রয়সূত্রে মালিকানা দাবি করে ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন স্থানীয় নেতা বর্তমানে দিঘিটি ভরাট করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, কিন্তু আইন অনুযায়ী ব্যক্তিমালিকানাধীন পুকুর ভরাট করার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সেটি করতে হলে যথাযথ অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন হয়। রাজশাহী, কক্সবাজার ও বানারীপাড়ার কোনো পুকুরের ক্ষেত্রেই তেমন কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি। রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার ওসি জানান, পুলিশ শুকান দিঘি ভরাটে বাধা দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু রাতের আঁধারে সেখানে মাটি ভরাট করা হচ্ছে। জানা যায়, এরই মধ্যে দিঘির জায়গায় কাঠাপ্রতি ৫০ লাখ টাকা করে প্লট বিক্রির তোড়জোড় চলছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সচিব জানান, শুকান দিঘিসহ নগরীতে থাকা ২২টি পুকুর সংস্কার করে সংরক্ষণের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি পাস হলে পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে ব্যক্তিমালিকানার পুকুরও অধিগ্রহণ করা হবে, কিন্তু পুকুর ভরাট ও ভবন তৈরির পর তা কি সম্ভব হবে?

জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষায় যেখানে আমাদের আরো কঠোর হওয়া প্রয়োজন, সেই সময়ে চারদিকে চলছে পরিবেশ-প্রতিবেশ ধ্বংসের সমূহ আয়োজন। সারা দেশেই নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুর-জলাশয় দখল ও ভরাটের যে ভয়ংকর প্রবণতা ছড়িয়ে পড়েছে, তা রোধ করতেই হবে। এ জন্য দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারি জলাশয়গুলো দখলমুক্ত করতে হবে। শহর এলাকায় থাকা ব্যক্তিমালিকানাধীন পুকুর-জলাশয়গুলোও অধিগ্রহণ করে সেগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। পরিবেশ-প্রতিবেশ ধ্বংসের প্রতিটি ঘটনায় জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments