Wednesday, April 17, 2024
spot_img
Homeআন্তর্জাতিকজি২০ বৈঠক : কোণঠাসা রাশিয়া অব্যাহত উত্থান চীনের

জি২০ বৈঠক : কোণঠাসা রাশিয়া অব্যাহত উত্থান চীনের

ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া, চীন এবং নেতৃস্থানীয় পশ্চিমা দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা প্রথমবারের মতো ৭ ও ৮ জুলাই ইন্দোনেশিয়ার বালিতে জি২০ শীর্ষ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। এতে আলোচনার মূল বিষয় ছিল ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বিশ্বব্যাপী খাদ্য ও জ্বালানিসঙ্কট। তবে, ইউক্রেন যুদ্ধ জি২০ বৈঠকে এমন একটি বিভাজনমূলক প্রভাব ফেলেছে যে, শুরু থেকেই এটা স্পষ্ট ছিল যে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মাত্র এক সপ্তাহ আগেও জাকার্তার বৈঠকে দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীরা যে ধরনের যৌথ ইশতেহার তৈরি করতে পেরেছিলেন, বালিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে সে ধরনের সফলতা আসবে না।
জি৭-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৃহস্পতিবার স্বাগত সংবর্ধনা বয়কট করেন এটি পরিষ্কার বোঝানোর জন্য যে, বৈঠকটি রাশিয়ার সাথে স্বাভাবিকভাবে সম্পর্কে ফিরে আসার জন্য নয়। তবে তারা বাকি সব আনুষ্ঠানিক অধিবেশনে অংশ নিয়েছেন, যাতে রাশিয়া অগ্রাধিকার না পায়। পূর্বাভাসিতভাবে, শুক্রবারের প্রথম অধিবেশনটি ছিল অত্যন্ত সঙ্ঘাতপূর্ণ। পশ্চিমা নেতারা রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভকে ইউক্রেনের বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করেন। তার সংবাদ সম্মেলনে সেই অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার আভাস মিলেছে। পশ্চিমা নেতারা লাভরভের সাথে সম্মিলিতভাবে ছবি তোলার জন্য জন্য মঞ্চ শেয়ার করতে অস্বীকার করলে তিনি তার বিবৃতি দেয়ার পরপরই দ্বিতীয় অধিবেশন থেকে বেরিয়ে যান এবং পরবর্তী কোনো আলোচনায় অংশ নেননি।
তবে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাশিয়া এবং চীনা পরাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের মধ্যে বৈঠকে উভয় পক্ষের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত হয়েছে। ওয়াং উত্তেজনা বাড়ায় এবং সংঘাত সৃষ্টি করে, এমন সীমাহীন একতরফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পরিবর্তে একটি ভারসাম্যরূর্ণ, কার্যকর এবং টেকসই নিরাপত্তা স্থাপত্যের মাধ্যমে রাশিয়ার সাথে থাকার জন্য ন্যাটো এবং ইইউকে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জোর বলেছেন যে, রাশিয়া এবং ইউক্রেন উভয়ই চীনের বন্ধু এবং বেইজিং ইউক্রেনে মানবিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে।
চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী অন্যান্যদের মধ্যে তার ভারতীয়, অস্ট্রেলিয়ান এবং জার্মান সমকক্ষদের সাথেও দেখা করেছেন। দ্বিপাক্ষিক কূটনীতিকে চীন যে গুরুত্ব দিচ্ছে, এটি তার ইঙ্গিত দেয়। এটি এমন এক সময়ে, যখন চীন ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের সমালোচনা না করার নীতিতে অটল রয়েছে এবং জুনে বেইজিংয়ে বিআরআইসিএস সম্মেলনে ভারত, ব্রাজিল এবং দক্ষিণ আফ্রিকার পাশাপাশি মস্কোকে একটি প্রধান আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।
জি২০-তে সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ওয়াং এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, যা ৫ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলেছে। ব্লিঙ্কেন তাদের আলোচনাগুলিকে উপযোগী এবং গঠনমূলক হিসাবে বর্ণনা করেছেন। উভয় পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ রয়ে গেলেও, চীনা বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র-চীন দ্বিপাক্ষিক চুক্তির বেশ কয়েকটি ক্ষেত্র, জলবায়ু পরিবর্তন এবং জনস্বাস্থ্যের মতো বিষয়ে সহযোগিতার উন্নতির জন্য ওয়াশিংটন এবং বেইজিংয়ের প্রতিশ্রুতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
যারা আশা করেছিল যে, দুই মাসের বৈশ্বিক সম্মেলন বর্তমান আন্তর্জাতিক শাসন ব্যবস্থার গভীর সঙ্কটের সমাধান করতে সক্ষম হবে, তারা খুব হতাশ হয়েছে। জি২০ বিশ্বের নেতৃস্থানীয় শক্তিগুলিকে একত্রিত করলেও তারা বর্তমানে কার্যকরভাবে তাদের নিজ নিজ মতবাদে আটকে রয়েছে। একদিকে জি৭, ন্যাটো, ইইউ এবং কোয়াড এবং অন্যদিকে বিআরআইসিএস বা ব্রিক্স। কোয়াড এবং ব্রিক্স উভয়ের সদস্যপদের মাধ্যমে এই বিভাজন আংশিকভাবে কাটিয়ে ওঠা একমাত্র বড় শক্তি হ’ল ভারত।
বালিতে জি২০ বৈঠকটি যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন দ্বারা আধিপত্যশীল একটি নতুন আঞ্চলিক শাসন ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকে পড়ার এবং স্নায়ূযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের আন্তর্জাতিক শাসন ব্যবস্থাকে প্রতিস্থাপন করার প্রবণতা বহন করে। চীন ইউক্রেন যুদ্ধে প্রসন্ন হতে পারে। কারণ, দেশটি এটি নিশ্চিত করতে আগ্রহী যে, রাশিয়া তার যুদ্ধের ফলে দুর্বল হয়ে পড়বে এবং এ অঞ্চলে একটি স্বাধীন শক্তি কেন্দ্রে পরিণত হতে অক্ষম হবে। কারণ এটি চীনের এই নতুন আধিপত্যের উত্থানকে ত্বরান্বিত করবে। সূত্র : দ্য কনভারসেশন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments