Thursday, February 22, 2024
spot_img
Homeধর্মজিহ্বার অন্যতম পাপ গালাগাল

জিহ্বার অন্যতম পাপ গালাগাল

সমাজের কিছু পেশা এমন আছে, যেগুলোতে ধারণা হয় যে গালি দেওয়া ছাড়া কর্মচারীদের কাছ থেকে কাজ আদায় করা যায় না। ফলে সেই পেশার মহাজনরা তাঁদের কর্মচারীদের সকাল-বিকাল গালির ওপর রাখার চেষ্টা করেন। অথচ মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘মুসলমানকে গালি দেওয়া ফাসেকি। আর তার সঙ্গে লড়াই-ঝগড়া করা কুফরি।

(বুখারি, হাদিস : ৬০৪৫)

যে পেশাগুলোতে গালি দেওয়া জরুরি মনে করা হয়, সেখানে অশ্লীল ভাষায় কথা বলাও ফ্যাশন বলে বিবেচনা করা হয়, যা মানুষের ঈমানকে কলুষিত করে। গালি দেওয়া, দোষারোপ করা, অভিশাপ দেওয়া, অশ্লীল ভাষায় কথা বলা মুমিনের কাজ নয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘মুমিন কখনো দোষারোপকারী, অভিশাপদাতা, অশ্লীলভাষী ও গালাগালকারী হয় না। ’ (তিরমিজি, হাদিস : ২০৪৩)

সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, তাঁরা যে অশ্লীল গালিগুলো দেন, তার বেশির ভাগই হয় মা-বাবা তুলে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। কিন্তু তাঁদের পরিভাষায় এটি নাকি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। কাছের বন্ধুকে, বিশ্বস্ত কর্মচারীকে তাঁরা এ ধরনের গালি দেওয়া ছাড়া কথাই বলতে পারেন না।

অথচ রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কবিরা গুনাহগুলোর একটি হলো নিজের মা-বাবাকে অভিশাপ করা। ’ জিজ্ঞেস করা হলো, ‘আল্লাহর রাসুল! মানুষ নিজের মা-বাবাকে কিভাবে অভিশাপ করে?’ তিনি বলেন, ‘যখন সে অন্যের বাবাকে গালাগাল করে, তখন সে নিজের বাবাকেও গালাগাল করে থাকে। আর যে অন্যের মাকে গালি দেয়, বিনিময়ে সে তার মাকেও গালি দেয়। ’ (বুখারি, হাদিস : ৫৯৭৩)

তাই দুষ্টুমির ছলেও কাউকে গালি দিয়ে কথা বলা উচিত নয়। কাউকে কন্ট্রোল করার জন্য বাজে ব্যবহার করতে হবে, এটি আমাদের বানানো নীতি। এটি আমাদের ব্যক্তিত্বকে খাটো করে দেয়। কোনো মুমিন এ ধরনের পথ অবলম্বন করতে পারে না। তাই আমাদের উচিত, অশ্লীল গালাগালসহ সব অশ্লীল জিনিস ত্যাগ করা। মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ করা এবং অশ্লীলতা ছড়ানো থেকে বিরত থাকা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে প্রকৃত মুমিন হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments