Monday, August 8, 2022
spot_img
Homeধর্মজান্নাতি ও জাহান্নামি মানুষের পরিচয়

জান্নাতি ও জাহান্নামি মানুষের পরিচয়

পৃথিবীতে কে জান্নাতি আর কে জাহান্নামি—এ বিষয়ে কোরআন ও হাদিসের বিভিন্ন স্থানে বর্ণনা করা হয়েছে।  কোরআনের এক স্থানে বর্ণিত হয়েছে, ‘অনন্তর যে সীমা লঙ্ঘন করে এবং পার্থিব জীবকে অগ্রাধিকার দেয়, জাহান্নামই হবে তার আবাস। পক্ষান্তরে যে তার রবের সামনে উপস্থিত হওয়ার ভয় করে এবং কুপ্রবৃত্তি থেকে নিজেকে বিরত রাখে, জান্নাতই হবে তার আবাস।’ (সুরা : নাজিয়াত, আয়াত : ৩৭-৪১)

প্রখ্যাত হাদিস গ্রন্থ সহিহ মুসলিম শরিফে একটি দীর্ঘ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। ইয়াজ ইবনে হিমার আল মুজাশি (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার রাসুলুল্লাহ খুতবা প্রদানকালে বলেন, সাবধান! আমার রব আজ আমাকে যা শিক্ষা দিয়েছেন, তা থেকে তোমাদের এমন বিষয়ের শিক্ষা দেওয়ার জন্য তিনি আমাকে আদেশ দিয়েছেন, যে বিষয়ে তোমরা সম্পূর্ণরূপে অজ্ঞাত। তা হলো, এই যে আমি আমার বান্দাদের যে প্রাচুর্য দিয়েছি তা সম্পূর্ণরূপে বৈধ। আমি আমার সব বান্দাকে একনিষ্ঠ (মুসলিম) হিসেবে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তাদের কাছে শয়তান এসে তাদের দ্বিন থেকে সরিয়ে দেয়। আমি যেসব জিনিস তাদের জন্য বৈধ করেছিলাম সে তা হারাম করে দেয়। অধিকন্তু সে তাদের আমার সঙ্গে এমন বিষয়ে অংশীদার করার জন্য নির্দেশ দেয়, যে বিষয়ে আমি কোনো প্রমাণ পাঠাইনি।

অতঃপর তিনি বলেন, তোমাকে পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে এবং তোমার দ্বারা অন্যদের পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে আমি তোমাকে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছি। তোমার প্রতি আমি এমন কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যাকে পানি কখনো ধুয়ে-মুছে ফেলতে পারবে না। ঘুমন্ত ও জাগ্রত অবস্থায় তুমি সেটা পাঠ করবে।

…আল্লাহ তাআলা বলেন, কোরাইশরা যেভাবে তোমাকে বহিষ্কার করেছে, ঠিক তেমনি তুমিও তাদের বহিষ্কার করে দাও। তুমি তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করো। আমি তোমাকে সাহায্য করব। ব্যয় করো আল্লাহর পথে, তোমার জন্যও ব্যয় করা হবে। তুমি একটি সেনাদল প্রেরণ করো, আমি অনুরূপ পাঁচটি বাহিনী প্রেরণ করব। যারা তোমার আনুগত্য করে তাদের সঙ্গে নিয়ে যারা তোমার বিরুদ্ধাচরণ করে তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করো।

তিন শ্রেণির মানুষ জান্নাতি হবে। প্রথমত, সেসব মানুষ, যারা রাষ্ট্রীয় কর্ণধার, ন্যায়পরায়ণ, সত্যবাদী এবং নেক কাজের তাওফিক লাভে ধন্য। দ্বিতীয়ত, যেসব মানুষ, যারা দয়ালু এবং আত্মীয়-স্বজন ও মুসলিমদের প্রতি কোমলচিত্ত। তৃতীয়ত, ওই শ্রেণির মানুষ, যারা পূতপবিত্র চরিত্রের অধিকারী, যাঞ্চাকারী নয় এবং সন্তানাদিসম্পন্ন লোক। অতঃপর তিনি বলেন, পাঁচ ধরনের মানুষ জাহান্নামি হবে। এক. এমন দুর্বল মানুষ যাদের মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষমতা নেই, যারা তোমাদের এমন তাবেদার যে, না তারা পরিবার-পরিজন চায়, না ধনৈশ্বর্য। দুই. এমন খিয়ানতকারী মানুষ, সাধারণ বিষয়েও যে খিয়ানত করে, যার লালসা কারো কাছে লুকায়িত নয়। তিন. ওই ব্যক্তি, যে তোমার পরিবার-পরিজন এবং ধন-সম্পদের বিষয়ে তোমার সঙ্গে সকাল-সন্ধ্যা প্রতারণা করে। অবশেষে তিনি কৃপণতা, মিথ্যা বলা এবং গালমন্দ করার কথাও বর্ণনা করেছেন। (মুসলিম শরিফ, হাদিস : ৭০৯৯)

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments