Monday, December 6, 2021
spot_img
Homeবিনোদনজাতিসংঘের আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে প্রদর্শিত হলো 'নোনা জলের কাব্য'

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে প্রদর্শিত হলো ‘নোনা জলের কাব্য’

গত বছর বিশ্বজুড়ে সাড়া জাগানোর পর ‘নোনা জলের কাব্য’ এবারে গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন COP26 এ-ও ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। 

গত সোমবার (৮ নভেম্বর ২০২১) সালে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় সম্মেলনের ‘অফিশিয়াল গ্রিন জোন‘ হিসেবে আখ্যায়িত ‘গ্লাসগো সায়েন্স সেন্টার’-এ ৮০ ফিটের আইম্যাক্স থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে ‘নোনা জলের কাব্য’র প্রদর্শনী। ছবিটির পরিচালক রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত বর্তমানে এই সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশ্যে গ্লাসগো’তে অবস্থান করছেন। আগামী ২৬ নভেম্বর ছবিটি বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।

গত এক বছর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতে সাড়া জাগানো ছবি ‘নোনা জলের কাব্য‘- আগামী ২৬ নভেম্বর ২০২১ ঢাকায় মুক্তি পাচ্ছে। বাংলাদেশে এ ছবির পরিবেশক স্টার সিনেপ্লেক্স। ছবিটিতে মূল ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, শতাব্দী ওয়াদুদ, তিতাস জিয়া, এবং তাসনুভা তামান্না। আবহ সংগীত পরিচালনা করেছেন অর্ণব।

লন্ডন, বুসান, গুটেনবার্গ, সাও পাওলো, তুরিন, সিয়াটল, সিঙ্গাপুরসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে ‘নোনাজলের কাব্য’। তবে সবচেয়ে বড় খবর চলচ্চিত্র উৎসবের গণ্ডি পেরিয়ে ‘নোনা জলের কাব্য’ এবার প্রদর্শিত হয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন COP26-এ। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ এই আসরে নভেম্বরের ৮ তারিখে (গতকাল) আইম্যাক্স থিয়েটারে দেখানো হয়েছে 

বাংলাদেশের এই চলচ্চিত্র। এই সম্মেলনে পৃথিবীর প্রায় সব দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা অংশগ্রহণ করেন।  বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এতে অংশগ্রহণ করেছেন। এ ছাড়া একই শহরে জাতিসংঘের COY16 সম্মেলনে অক্টোবরের ২৯ তারিখ দেখানো হয়েছে- ‘নোনা জলের কাব্য’।

দেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রান্তিক জেলেদের দৈনন্দিন জীবনযাপন, আবহাওয়ার প্রতিকূলতার মুখে টিকে থাকার লড়াই এবং তাদের সামাজিক রীতিনীতি ও সংস্কার এই চলচ্চিত্রের মূল বিষয়। সমাজ, সংস্কৃতির উন্নয়ন এবং পরিবেশের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন রোধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে চলচ্চিত্র তথা বিনোদন অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে – এই বিশ্বাস নিয়েই পরিচালক রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত নির্মাণ করেছেন ‘নোনা জলের কাব্য’।

তিনি বলেন, ‘ছবিটি নির্মাণ করতে আজ থেকে তিন বছর আগে আমি গিয়েছিলাম পটুয়াখালীর প্রত্যন্ত এক জেলেপাড়ায়। খুবই দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে উপকূলবর্তী সেই গ্রামটির এখন আর কোনো অস্তিত্ব নেই।’

সুমিত বলেন, ‘নোনা জলের কাব্য’ ছবিতে যেসব জেলে ভাই-বোন অভিনয় করেছিলেন, তাদের কারো কারো সাথে আমার এবার দেখা হয়েছে। তাদের মুখে শুনেছি, ইলিশ মাছও নাকি এখন অপ্রতুল। শুনে বুঝলাম, তাদের জীবনের এই কঠিন বাস্তবতা আমার সিনেমার গল্পকেও হার মানিয়েছে। সংগ্রামী এই মানুষগুলোর গল্প বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা খুব জরুরি, সেই সূত্রেই জাতিসংঘের জলবায়ু কনফারেন্সে আবেদন করা। 

ফজলুর রহমান বাবু বলেন, ‘একটি চমৎকার আবহে, আমরা ‘নোনা জলের কাব্য’-তে কাজ করেছি। আমি বিশ্বাস করি, সততার এবং নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলে একটা সিনেমা মানসম্মত হয়। আমি সিনেমায় ‘চেয়ারম্যান’-এর ভূমিকায় অভিনয় করেছি। আমাদের এ সিনেমায় পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের শিল্পী এবং কলাকুশলী কাজ করেছেন।

‘নোনা জলের কাব্য’- প্রযোজনা করেছেন রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত ও ফরাসি প্রযোজক ঈলান জিরার্দ। জিরার্দ ‘মার্চ অব দ্য পেঙ্গুইন’, ‘গুডবাই বাফানা’, ‘ফাইনাল পোর্ট্রেট’-এর মতো বিখ্যাত কিছু চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছেন। 

সিনেমাটোগ্রাফি করেছেন লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাসরত থাই শিল্পী চানানুন চতরুংগ্রোজ, তিনি ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্পিরিট অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments